যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

সম্পর্কের সমীকরণ -

 

মহঃ রাফিউল আলম

সম্পর্কের সমীকরণ -মহঃ রাফিউল আলম

চলুন আজ একটা প্রেমের গল্প শোনা যাক।তবে গল্পটাতে দুধে জল মেশানো হয়েছে নাকি জলে দুধ মেশানো হয়েছে সেটা আপনাদের বিচার্য।আমি তো শুধু এই গল্পের কথক মাত্র।এই গল্পের নায়কও বলতে পারেন।বাংলা সিরিয়ালে যেমন আজকাল আমরা কিছু কমন জিনিস দেখতে পায় তেমনি প্রেমের গল্পের ক্ষেত্রেও তাই।বহু বিবাহ আর বহু প্রেম এককথায় বহুগামিতা।যেমনভাবে শিবরাত্রিতে মহাদেব কনফিউজড হয়ে যান।যে মেয়েটা একবছর জিতকে প্রার্থনা করে সেই মেয়েটাই পরের বছর দেবের জন্য উপবাস রাখে।আবার পরের বছর অঙ্কুশের জন্য।এই প্রেম বড়ো আজব চিজ মাইরি।তার থেকে বড়ো আজব চিজ আজকালকার কাপলরা।আমি অবশ্য একটু আলাদা।কেন জানেন? আরে কমন সেন্স।আমার গল্প আমি অপনাদেকে শোনাবো আর আমি আমার দোষ ধরতে বসে যাবো এমনকি কখনো হয় নাকি!আমি তো ধোয়া তুলসী পাতা।পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষ তার নিজের গল্পের হিরো।আমি খুব ভদ্র শান্ত-শিষ্ট একটা ছেলে।ভাববেন না আমি নিজের ঢাক নিজে পেটাচ্ছি।মাঝে মাঝে মনে হয় বাহ!আমার এত পপুলারিটি।বারে আমি।আমার বিপরীতে কোনো নায়িকা থাকবে না তাই কখনো হয় নাকি!আমি আবার নিজের প্রশংসা নিজের মুখে করতে পছন্দ করিনা একদমই।তবে আমার সম্পর্কে কিছু কথা আপনাদের প্রথমেই জেনে রাখা ভালো।আমি মধ্যবিত্ত ঘরের ছেলে।স্বপ্নটাও তাই মধ্যবিত্ত।অনেক সংকীর্ণতা আমার মধ্যে আছে।তাই পাবলিক প্লেসের মতো যে যখন এল পোস্টার মেরে চলে গেল এমন নয়।নিজেকে সত্যবানের মতোই সৎ ভেবে এসেছি চিরটা কাল।তাই স্বাভাবিকভাবে আমি সাবিত্রীকেই এসপেক্ট করবো।

অনেক অপেক্ষা পর অবশেষে সাবিত্রীর দেখা পেলাম।যেমন পৃথিবীর প্রত্যেকটা প্রেমিক নিজেকে মজনু ভাবে আর তার প্রেয়সীকে ভাবে লায়লা।

শুরু হলো প্রেমের প্রথম রাউন্ড।মেয়েটাকে ঐশ্বর্য্য রায় বললে কম বলা হবে।জনপ্রিয়তার নিরিখে আমার এলাকার মোস্ট ওয়ান্টেড এবং টপ Rank এ।একটা সময় সে আমার ক্রাশ ছিল।দূর থেকে তাকে দেখে মনে হতো ইস!সে যদি আমার প্রেয়সী হত!তাকে ঘিরে কত কল্পনা।কতরাত কোল বালিশটায় এঁকেছি তার হুবহু অবয়ব।তারপর একদিন আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপটা হাতে পেয়ে গেলাম।আমার পিসির মেয়ে তার খুব ক্লোজ।একদিন বাজার থেকে বাড়ি ফিরে দেখি আমার ঘরের খাটের উপরে বসে আমার লেখা কবিতার ডায়েরিটা নিয়ে কি যেন বোঝার চেষ্টা করছে।আমি তো অবাক!খাটের উপর ক্রাশের মাঠ।

সিনেমা কিংবা বাংলা সিরিয়াল হলে এতক্ষন একটা ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বেজে উঠতো।আমি হুট করে ঢুকেই আবার বেরিয়ে আসি।ভুল করে বোধহয় অন্য বাড়িতে ঢুকে পড়েছি।তারপর ভাবলাম না।আসলে মনের ভুল।আমার পিসতুতো বোনের নাম….না…..নামটাকে খুব ভালো দেওয়া চলবে না।কারণ সে তো এই গল্পের সাইড নায়িকা।তাই তার নামটা একটু মাঝারি টাইপের দিয়ে দিই।ইনা-মিনা-টিকা।কিংবা ধরুন জুহি।জুহি সব ব্যাপারটায় জানে।তাই সে ভূমিকা না করেই বললো—-কি হলো দাদা—কোথায় ছিলিস এতক্ষন।অনেক্ষন ধরে তোর অপেক্ষায় বসে আছি।না মানে—-বাজার–মানে একটু বাজারের দিকে গেছিলাম।আমি অবশ্য তোতলা নই।কিন্তু কি জানি সেদিন কথা আঁটকে যাচ্ছিল বারবার।বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না আমার ক্রাশ আমার খাটে আমার ডায়েরি হাতে…..!

আপনারা কী ভাবছেন এখন?প্রথম প্রেমে সবারই এমন একটু আধটু হয় আর কি!ধ্যূর মশায়, বৃষ্টি আমার চতুর্থ প্রেম।আপনারা এতক্ষন নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন মেয়েটির নাম বৃষ্টি।

পুরোনো খেলোয়াড়।তাই মাছকে বড়শিতে তুলতে গেলে জলে একটু খেলাতেই হয়।যার ঠিকুজি কুষ্টি সব আমার হাতের মুঠোয়।তবু তাকে দেখে একটু ভাব নিলাম।যেন এই প্রথম তাকে দেখলাম।জুহিকে বাড়ির গার্জেনের মতোই জিজ্ঞেস করলাম ভালো আছিস?পিসিমনিরা সব ভালো তো?তারপর বৃষ্টির সাথে আলাপ পরিচয় পর্বটা সেরে নিলাম।ছিপ ফেলার আগে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় চার ফেলা আর কী।এতক্ষনে নিশ্চয় আপনারা গল্পের সমাপ্তি টেনে ফেলেছেন।কারণ একটা মেয়েকে পটাতে গেলে সব থেকে বড় অস্ত্র তার কাছের বান্ধবী।যার পরিচয় আপনাদেরকে আগেই দিয়ে ফেলেছি—জুহি।কিন্তু সবকিছু কি আর গল্প লেখকের ইচ্ছে মতো হয়?

সেদিন একটু পটিয়ে-পাটিয়ে রেখে দিলাম আমাদের বাড়িতে।অবশ্য তারা একদিন থাকার প্রিপারেশন নিয়েই এসেছিল।তবু একটু তোষামোদ তো সবারই পছন্দ—তাই না।

অনেকটা সময় পর জুহির সঙ্গে দেখা।তাও আবার সঙ্গে আমার ক্রাশ।আর আমার সঙ্গে আমার কাকুর ছোটো ছেলে শুভম।রাত্রে খাওয়া দাওয়া পর অনেক্ষন গল্প-গুজব,হাসি-ঠাট্টা করলাম সবায় মিলে।ওতটুকুই কাফি ছিল একটা মেয়েকে পটানোর জন্য।তাঁর ফাঁকে হোয়াটস এপ নং টাও আদান প্রদান করে নিলাম।তারপর এলো বিদায়ক্ষণ।এবার শুরু হল আসল গল্প।আপনি যদি গল্পের লেখক হতেন তাহলে কি করতেন?হ্যাঁ—তার আগে বলে নিই আমার নাম অভি।বর্তমানে MBBS।মা-বাবার বেকার সন্তান।তার সঙ্গে FPYS পার্টির সদস্য—ফেকলু পার্টি যুব সংস্থা।দু একটা টিউশন করি।সেটা চায়ের দোকানের মালিকের একটু সেবা আত্তি করার জন্য।কারণ আমি যদি চা আর দু’একটা বিড়ি সিগারেট না খায় তাহলে তো দেশের ক্ষতি।কতজন যার কর্মসংস্থান হারাবে।ভাবুন—একটু ভাবা প্র্যাকটিস করুন।একদিকে চায়ের কারখানার মালিক, অন্য দিকে চা পাতার শ্রমিক কাজ হারাবে।চিনির কারখানার উৎপাদন কমে যাবে,আঁখ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্থ হবে।আবার আমাদের পাড়ার ঘোষ বাবুও মার খাবেন।সব দিক ভেবেই এই চা খাওয়ার সিদ্ধান্ত।আবার বিড়ির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।বিড়ি পাতার কাজ করে কত সংসার চলে।আমরা যদি দেশের যুবরা এসব কথা না ভাবি তো কারা ভাববে বলুন!সেই অর্থে আমাকে দেশপ্রেমিক এবং সমাজসেবী বলতে পারেন।অবশ্য আমি নিজের প্রশংসা নিজে করিনা।আর খারাপ লোকেরা তো নিন্দে করবেই।যার যেমন মন তার চিন্তা ধারাও তেমন।আপনিও কিন্তু পরোক্ষভাবে একজন সমাজসেবী।শুধু নিজেকে একটু ভালোভাবে চিনুন।

প্রতিনিয়ত কত সমাজসেবামূলক কাজ করে চলেছেন নিজের অজান্তে।সে যাই হোক এবার ফিরি গল্পে।প্রায় দুদিন হয়ে গেল।হোয়াটস এপ নং নিলেও কোনো চ্যাট হয়নি এখনো পর্যন্ত।তবে ফোন করে জুহিকে যা বোঝার বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।যেন সে পটি করতে গেলেও একবার আমার কথা ভাবে।আর আমিই একমাত্র পুরুষ যার মতো পুরুষ না এর আগে পৃথিবীতে এসেছে, না আগামীতে আসবে।অর্থাৎ ঈশ্বর এক পিসই সৃষ্টি করেছেন আর সেটা বৃষ্টির জন্য।জানিনা জুহি তাকে কতটা হায়-ভোল্টেজের ডোজ দিয়েছিল—দুদিন পরেই একটা নং থেকে hii মেসেজ এল।আপনারা হয়তো ভাবছেন নিশ্চয় বৃষ্টির মেসেজ।হ্যাঁ—ঠিকই ধরেছেন।বৃষ্টিরই মেসেজ।আনন্দে কোল বালিশটা জড়িয়ে ধরলাম।কিন্তু মেসেজ সিন করলাম না।পাঁচ মিনিট পর সিন করে লিখলাম—কে?ঠিক চিনতে পারলাম না।যদিও দিল মে লাড্ডু ফোটা……..

তারপর কোনো রিপ্লাই নেই।তার পরের দিন ছোট একটা কথা—-আমি বৃষ্টি।

না–বেশি ভাব নেওয়া যাবে না।নাহলে একুল-ওকুল দুকূলই হারাবে।শুরু হল চ্যাট পর্ব।একে অপরকে জানার কৌতুহল।আমি চিরদিনই নিজের কাছে সৎ তাই নিজের পুরোনো প্রেমের কাহিনি বেশ রসিয়ে রসিয়ে শোনালাম তাকে।আমার প্রত্যেকটা প্রেমের উপসংহারই ছিল ব্রেক আপের জন্য মেয়েরায় দায়ী।বৃষ্টিও আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতই প্রমান করতে চাইছিল সে আসলে অমন না।যেটা পৃথিবীর সব মেয়েই প্রমান করতে চাই।কমন ডায়লগ— সব মেয়ে এক হয় না।যে কথা আগের তিন জনও বলেছিল।তারপর শেষ পর্যন্ত টোপ গিলেই ফেললো—আমি আপনাকে পছন্দ করি।একদিন দেখা।পনেরো দিন চ্যাট।বাহ!খুব ভালো কথা।কিন্তু অষ্টম আশ্চর্যের মতো আমি তার প্রোপোজকে নাকচ করে দিলাম।ভূমিকা না করেই বললাম কিন্তু আমি তোমাকে সে ভাবে ভাবিনি।আমি তোমাকে জাস্ট একটা ফ্রেন্ড ভাবি।আর এখানেই যেন একটা সুন্দরী মেয়ের আত্ম সম্মান কে জাগিয়ে দিলো। সে অনেক বেশি ক্রেজি হয়ে বললো আমি ওসব কিছু বুঝি না।আমি শুধু তোমাকে চাই।আমার জন্য ছেলেরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।কত ছেলে প্রেমের প্রস্তাব দেয়—আর তুমি কোন মহা পুরুষ হে?আমার প্রস্তাব নাকচ করো।সত্যি কথা বলতে বৃষ্টির এই অস্থিরতায় আমি খুব মজা নিচ্ছিলাম।

কিংবা বলতে পারেন পুরাতন প্রেমে ধোকা খাওয়ার প্রতিশোধ।অন লাইন থাকলেই সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ করতো তুমি সবসময় অনলাইন থাকবে না।যতক্ষন আমি থাকব ,ততক্ষণই থাকবে।এমনকি সকালে উঠে লাস্ট সিন চেক করা শুরু করে দিলো।এক কথায় অনধিকার শাসন।এমনি ভাবেই কেটে গেল প্রায় তিন মাস।প্রতিদিন একবার করে সে প্রপোজ করলো আর আমি প্রতিদিনই কৌশলে না বলতে থাকলাম।কিন্তু তার শাসন,বারণ, মায়া কান্না আমাকে মুগ্ধ করতে শুরু করলো।বৃষ্টিকে নিয়ে না ভেবে আর উপায় থাকলো না।সত্যিই তো এইরকম মেয়ে পাওয়া তো সৌভাগ্যের ব্যাপার।যে আমাকে নিয়ে এত ভাবে তাকে কি অস্বীকার করা যায়? বরফ গলতে শুরু করলো।চার মাসের বেলায় আর না বলতে পারলাম না।আরও চার মাস কেটে গেল রাত জেগে চ্যাট আর ফোনে।কত স্বপ্ন,ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা।চিরহরিৎ অরণ্য স্থাপনের বাসনা।সব মিলিয়ে একটা আবেগী প্রেমের গল্প।মিয়া বিবি রাজি তো ক্যা কারেগা কাজী।আপনারা উপসংহার টা নিশ্চয় এতক্ষন ভেবে নিয়েছেন কি হতে পারে।কিন্তু সব গল্পের উপসংহার হয় না।দুইয়ে-দু’য়ে সবসময় চার হয়না।রূপকথার আটলান্টাসের মতো কত দ্বীপ ডুবে গেছে সমুদ্র গর্ভে।যার খোঁজ আমরা কেউ রাখিনি।সাহারা মরুভূমির তলে চাপা পড়ে গেছে কত নাম না জানা সভ্যতা যার হদিস আমরা কেউ জানিনা।আগুনে ঝাঁপ দেয় ডানাওয়ালা পিঁপড়ে।মৃত্যু হয় শুধু সেই পিঁপড়েটার।কিন্তু আমরা কেউ আগুনকে দোষারোফ করিনা।উল্টে পিঁপড়ের ঘাড়ে দোষ চাপায়।অথচ একবারও ভেবে দেখিনা সাধ করে কি কেউ কখোনো তার মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে?নিশ্চয় ভাবছেন এই গল্পে ভিলেন হিসেবে পরিবার এসে পড়েছে।কিংবা বৃষ্টির বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে আর অভি মানে আমি দেবদাস হয়ে বসে আছি।না সে রকম কিছুই হয়নি।পোড় খাওয়া মানুষ জানে কোনো কিছুই বাইরে থেকে দেখে কিংবা অন্ধের মতো বিশ্বাস না করে কষ্টি পাথর দিয়ে যাচাই করে নিতে হয়।নাহলে ঠকে যেতে হয় আজন্ম।না বৃষ্টিকে শেষ পর্যন্ত ভালোবেসে ফেললেও অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে পারিনি।আমার তিনটে প্রেমের গল্পটাও এতক্ষন ভাট গল্প ছিল।বৃষ্টির আগে একজন মেয়েকেই প্রেম করেছিলাম।বিশ্বাস করেছিলাম অন্ধের মতো।তারপর একদিন বানভাসি হলাম ভুল স্রোতে।ডুবে যাচ্ছিলাম যখন চোরাবালির গভীরে ঠিক তখনই হল বৃষ্টির আবির্ভাব।রশ্মির অপর প্রান্ত ধরে তুলে নিয়ে এসেছিল সে আমাকে উপরে।যেমনভাবে পশুকে বলি দেওয়ার আগে তাকে ভালো খাবার আর ফুল দিয়ে বরণ করা হয় ঠিক তেমনি।

দেড় বছরের সম্পর্কের মায়াজাল কেটে বেরিয়ে এলাম।কি এমন হল যে সম্পর্কের জাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসতে হল এটাই ভাবছেন তো?তেমন কিছুই হয়নি।আসলে বৃষ্টি বা আগের প্রেমিকার মতো ঠিক মডার্ন বা আধুনিক বা আধুনিকা হয়ে উঠতে পারিনি।তখন শুধু ফেসবুক আইডিটা হ্যাক করতে শিখেছিলাম।দেখলাম আমার মতো হাজার হাজার অভি আঁটকে আছে বৃষ্টিদের মায়াজালে।বহুগামিতা ছড়িয়ে আছে পুরো শহর জুড়ে।বৃষ্টিদের একটা ন্যুড ছবি এক সঙ্গে শেয়ার হয় দশ-বারোটা অভির মেসেঞ্জারে।আই লাভ ইউ এর মানে এটাই বুঝলাম আমি তোমাদেকে ভালোবাসি।আড়ম্বর যার যত বেশি অন্তঃসারশুন্যতা তার তত বেশি।না—আমি সামান্যিকরণ দোষ টানছিনা।পৃথিবীর সব মেয়ে খারাপ না।হয়তো আমি যাদেকে ভালো বেসেছি কিংবা আগামীতে যাদেকে বাসবো শুধু তারায় খারাপ।কিংবা এমনও হতে আমি শুধু খারাপ মেয়েদের পাল্লাতেই পড়ি।আপনারা নিশ্চয় এতক্ষনে আপনাদের ফ্ল্যাশব্যাকে চলে গেছেন।কারণ আমি জানি আমার মত এইরকম কত অভি এই ঘটনার সম্মুখীন হয় প্রতিনিয়ত।জন্ম হয় এইরকম কত গল্প।সব গল্প হয়তো লেখা হয় না কাগজের পাতায়।চোখের জল শুকিয়ে যায় বাস্তবের রুক্ষ ভুমিতে।খুব রাগ হচ্ছে বৃষ্টির উপর তাই না?আরে রাগটাকে কন্ট্রোল করতে শিখুন।পুরোটা না পড়ে উপসংহার টানবেন না।নাহলে আমাদের মতো লেখকরা চিরদিন সত্যবাদী যুধিষ্ঠির হয়েই থেকে যাবো।জানি এতক্ষনের আমিটা আপনি হয়ে উঠেছেন।আপনার জীবনের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে গল্পের পুরোটায়।লেখকদের এই একটায় দোষ ফ্রিতে একটু জ্ঞান দেওয়ার সুযোগ থাকলে সে সুযোগটা তারা সহজে হাতছাড়া করতে চাইনা।অবশ্য আমি লেখক নই।আমি শুধু নিজেকে নির্দোষ প্রমান করার আপ্রাণ চেষ্টা করছি মাত্র গল্পের শুরু থেকে;দেখি শেষ পর্যন্ত নির্দোষ প্রমাণ করতে পারি কিনা।নোটে গাছটি মুড়োতে এখনো ঢের দেরি।

হ্যাক করলাম বৃষ্টির ফেসবুক আইডি।না–না—আমাকে আবার হ্যাকার ভেবে বসবেন না।তাহলে কিন্তু কেস খেয়ে যাবো।আসলে এই দেড় বছরে আমি বৃষ্টিকে যতটুকু চিনেছি তাতে তার সম্ভাব্য পাসওয়ার্ড কি হতে পারে একটা ধারণা করায় যায়।এই গেস পাওয়ারটা আমার বরাবরই স্ট্রং।ব্যাস তিনটে পাসওয়ার্ড পুট করতেই চিচিং ফাঁক।আলীবাবার মতো দু’হাত ভরে স্ক্রীনশট নিলাম।তারপর বেরিয়ে এলাম বৃষ্টির সেই রহস্যময়ী গুহা থেকে।আলী বাবা সেই এলাকার সম্পদশালী ব্যক্তি হয়ে উঠলেও আমি কিন্তু দেউলিয়া হয়ে গেলাম পুরোপুরি।কারণ অন্ধ আবেগরুপী আমার ভাই কাশেম তথা অন্ধবিশ্বাস খুন হয়ে গেল সেই গুহার ভেতর।আমি পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাচ্ছিলাম না।বুকের ভিতর তখন একটা হিরোশিমা।মিজু মিজু করে চিৎকার করছিল শরীরের প্রতিটি সেল।সুমাত্রা উপকূলে আছড়ে পড়ছে একের পর এক ঢেউ।সদ্য সমুদ্রে মন্থনে উঠে আসা গরলটুকু পান করলাম শেষ জীবনীশক্তিটুকু নিয়ে।আমি হয়ে উঠলাম নীলকণ্ঠ।অমৃতটুকু কে যেন চুরি করে নিয়ে গেল।হয়তো এতদিনে তাদের দশা রাহু-কেতুর মতোই হয়েছে।তারপর—-ব্রেক আপ হতে আর কি কিছু বাকি থাকলো?না—ওইটুকুই যথেষ্ট যে কোনো সম্পর্কে ব্রেক আপ টানার জন্য।কিন্তু কেউ আমার সঙ্গে নাটক করলে তাকে আমি ফিল্ম দেখিয়ে ছেড়ে দিই।কিন্তু ভালোবাসা নামক এই আজব চিজটির ভেতর প্রচুর পজিটিভিটি।শালা কিছুতেই তার ভালোবাসার মানুষটির ক্ষতি চাইতে পারেনা।বলেই হয়তো পৃথিবীর সব থেকে খারাপ ব্যক্তিটিরও একজন শুভাকাঙ্খী থাকে।এতক্ষন নিশ্চয় আপনি হিটলারের কথা ভাবছেন।হ্যাঁ—তারও একজন সত্যিকারের প্রেমিকা ছিল।আমি ফোন করলাম বৃষ্টিকে।বিজি।এর আগেও অনেকবার বিজি বলেছে।জিজ্ঞেস করেছি—কেন?উত্তর একটায় ছিল তার ফোনটা তার বাড়িতে মা-বাবা-এমনকি বৌদিও ব্যবহার করে।কারণ তার দাদা বাইরে চাকরি করে।ফোন এনগেজ থাকলেই ধরে নিতাম বৌদি।আপনারাও বুঝতে পেরেছেন নিশ্চয় এই বৌদি আসলে কে?কিছুক্ষন পর হোয়াটস এপ-এ ছোট্ট একটা মেসেজ ফোনটা বৌদির কাছে ছিল।ওই–রাগ করো না সোনা।বলো—কিছু বলছিলে?—না কিছু বলিনি। তোমার কথা খুব মনে পড়ছিল।তাই আর কি। —-ও আচ্ছা।আমি তোমাকে কিছুক্ষন পরে কল করছি।হ্যাঁ জান।

।—আচ্ছা।

এদের কতগুলো জান?ছোটবেলায় শুনেছিলাম এই সমস্ত রাক্ষসীদের গল্প….এদের রক্তের প্রত্যেক ফোটায় নাকি আবার আর একটা নতুন রাক্ষসীর জন্ম হয়।বয়ফ্রেন্ড চেঞ্জ হওয়ার সাথে সাথে এদের জানেরও পরিবর্তন হয়।এরা কখনো শেষ হয়না।ঠিক একটা আধার খুঁজে নেয়।নারী তুমি ছলনাময়ী।তোমার ছলনা যেখানে এখনো দেবতারাই ভালোভাবে বুঝে পারেনি—–সেখানে আমি তো রক্তে-মাংসে গড়া সাধারণ মানুষ।আমার সাধ্য কি!আমি নেট অফ করে ছুঁড়ে ফেলে দিলাম দূরে ফোনটাকে।এই প্রথম এত রাগ হচ্ছিল ফোনটার উপর।কন্ট্রোল….কন্ট্রল ইউর সেল্ফ।তিন ঘণ্টার পুরো একটা ব্লু প্রিন্ট সাজালাম।সেটা আপনাদের সম্মুখে না বলায় ভালো।প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে তখন সারা শরীর।এইভাবে বেইমানি করলো আমার সঙ্গে?এতদিন গল্পে পড়েছিলাম।সিনেমায় দেখেছিলাম।আমার দেখা সব সিনেমার সব খল-নায়কগুলোর জায়গায় নিজেকে বিভিন্ন এঙ্গেলে বসাচ্ছি কিভাবে সর্বোচ্চ প্রতিশোধ নেওয়া যায়।এমন সময় কিছুক্ষন আগে সেট করা রিংটোন বেজে উঠলো—-“যা বেবফা যা….. তুঝে ভুলা দিয়া।”কিন্তু আমার কোনো কথাতেই তাকে বুঝতে দিলাম না তার জুমলাবাজি সব ফাঁস হয়ে গেছে।একদম স্বাভাবিক।এইতো আমিও অভিনয়টা পারি তাহলে।অনেকদিন পর আজ বেশি করে ফেলে আসা সেই প্রাক্তনের কথা মনে পড়ছে।সে অবশ্য আমার হোয়াটস এপ- এ আছে।কিন্তু ব্রেক আপের পর কথা হয়নি।একটা ট্রল পড়েছিলাম; যদি তোমার প্রাক্তন তোমার কাছে আবার ফিরে আসতে চায়—-তাহলে ধরে নেবে সে অন্য জায়গায় ল্যাদ খেয়েছে।মুচকি হাসছেন তাইতো?হাসুন—হাসুন।হাসি শরীরের পক্ষে ভালো।কিন্ত গল্পটা তো পুরো শুনুন।দীর্ঘদিন পর আবার প্রাক্তনের সঙ্গে চ্যাট শুরু করলাম।অনেক পুরাতন কথা চলে এল।সমানতালে চললো বৃষ্টির সঙ্গেও।শুরু হলো মেঘ বৃষ্টির খেলা।আমার প্রাক্তনের নাম শ্রেয়া।যতটুকু বুঝলাম শ্রেয়াও অনেক ঘাটের জল খেয়ে বসে আছে।তবু পুরাতন চাল ভাতে বাড়ে।কিন্তু যতটা সম্ভব শ্রেয়ার জালে এখন সেরকম কোনো বড়ো মাছ নেই।তারও জীবনে খরা চলছে।আমি এক পশলা বৃষ্টির কাজ করলাম।টিফিনের টাকা জমিয়ে আবেগ কেনার বয়সটাও পেরিয়ে এসেছি।তাই আগের সেই আবেগের তারল্য আর নেই।যে বৃষ্টিকে সেক্স চ্যাট থেকে বিরত রাখতাম;সেই বৃষ্টিকেই ভিডিও কল করার অনুমতি দিয়ে দিলাম।প্রেম-ভালোবাসার থেকে ফোন-সেক্সটাই হলো বেশি। কিন্তু মধ্যবিত্ত মনটা খুব সহজে গিরগিটি হয়ে উঠতে পারে না।কাউকে ঠকাতে চাইলেও পেরে ওঠে না।বিবেক নামক একটা শব্দ বারবার আঘাত করতে শুরু করলো বুকের প্রতিটি পাঁজরে।পাপ-পুণ্য বোধ নিজের কাছে নিজেকে বড্ড ছোটো করে দিচ্ছিল বারবার।কিন্তু প্রতিশোধের আগুন ভীষণ ভয়ানক।সেই আগুনে যে পুড়ে সেই বোঝে এই আগুনের জ্বালা কত।শ্রেয়াও আজকাল তার অনেক ছবি পাঠায় আমার মেসেঞ্জারে।শ্রেয়া আর বৃষ্টির সব ছবিগুলো সেভ করে রাখি মোবাইলের প্রাইভেট ফোল্ডারে।যেন এক পৈশাচিক আনন্দ।যদিও জানি তাদের ছবি এইরকম অনেক অভির প্রাইভেট ফোল্ডারে সেভ হচ্ছে একসাথে।শ্রেয়া অবশ্য সত্যিটা বলে এখন আমাকে।বিশাল তার বর্তমান বয়ফ্রেন্ড।কিন্তু সে আমাকেও ভালোবাসে।কি আজব ভালোবাসা মাইরি। বৃষ্টি আজকাল সন্দেহ করতে শুরু করেছে আমাকে।মাঝে মধ্যেই জিজ্ঞেস করে—তুমি আমাকে কোনোদিন ঠকাবে না তো?ভুতের মুখে রাম নাম।অবশ্য সন্দেহ নাকি একটা অজুহাত দিয়ে ব্রেক আপ করতে চাইছে সেটা বৃষ্টিই ভালো বলতে পারবে।এবার নিশ্চয় আপনাদের আর কোনো সন্দেহ থাকলো না অভির চরিত্র নিয়ে।আমি তো আগেই বলেছিলাম গল্পটা আগে পুরো পড়ুন।মনে হচ্ছে এ কোন বহুগামী শহরে এসে পড়লাম রে বাবা—তাই না?বুকে হাত দিয়ে বলুন তো—-আপনি বহুগামী নন?আরে মশায়—রাগ করছেন কেন।আমি তো জাস্ট কথার কথা জিজ্ঞেস করলাম।আগে গল্পটা পুরো পড়ুন।অভি এবার খেলা শুরু করলো— প্রথমেই ক্লিন বোল্ড করলো প্রিতমকে।বৃষ্টি আর সাহিলের কথোপকথনের স্ক্রীনশট একটা ফেক আইডি খুলে পাঠিয়ে দিলো তাকে।ব্যাস দু’দিনের মধ্যেই ব্রেক আপ।হাতে থাকলো পাঁচ।সে নিজে একজন।বাকি রইল চার।প্রিতম কপি করলো অভিকে।ব্যাস এক সপ্তাহেই কমে গেল আরও এক।বৃষ্টি কিন্তু কিছুতেই বুঝতে পারলো না নাটের গুরুটা আসলে কে?অভির খুব কষ্ট হচ্ছিল।শ্রেয়া—-যাকে একদিন ভুলিয়ে দিয়েছিল সবটুকু বিশ্বাস দিয়ে সেই বৃষ্টিই কিনা!কিন্তু সে তো বৃষ্টিকে ভালোবেসেছিল।এই নোংরা খেলা খেলতে তার আর ভালো লাগছেনা।বৃষ্টির সঙ্গে তাহলে তার কী পার্থক্য থাকলো?সে কাকে হারাতে চাইছে?বৃষ্টি কে?বৃষ্টি হারলে কি সে জয়ী হবে?অভি নিজেই তো হেরে গেছে অনেক আগে।এখনো হারছে প্রতি মুহূর্তে।যে খেলায় কোনো জিত নেই কি লাভ সেই মারণ খেলা খেলে?সে নিজেই বা কাকে ভালোবাসে?ভালোবাসায় কী কখনো প্রতিশোধ থাকে?অভি ভাবে আগে সে শ্রেয়াকে ভালোবাসতো।ব্রেক আপের পর স্বাভাবিকভাবেই বৃষ্টি আসা স্বাভাবিক।কিন্তু সে তো কখনো একসঙ্গে দু’জনের সঙ্গে সমান তালে প্রেমলীলা রচেনি।তাহলে কেন তার সঙ্গে এমন হল?শ্রেয়াকে সে হয়তো চিনতে ভুল করেছে।কিন্তু বৃষ্টি?সে তো নিজের ইচ্ছায় জাগিয়ে দিয়েছে তার ভেতরের ঘুমন্ত আগ্নেয়গিরিটাকে।অভি বারবার বৃষ্টিকে দূরে সরিয়ে দিতে চেয়েছিল।কিন্তু একটু একটু খড়-কুটো জোগাড় করে চিতা সাজাচ্ছিলো অভির জন্য।এবার কিভাবে নেভাবে সেই আগুন।তবে কি অপেক্ষা করতে হবে তাকে আরও কিছুটা সময় কোনো সাগরিকার প্রতিক্ষাতে!কেন করে বৃষ্টিরা এরকম?কি লাভ পায় এই আত্ম-রতির খেলায়?অভির জীবনটাকে যদি এভাবেই এলোমেলো করে দেবে তাহলে কেন তার অগোছালো জীবনটাকে সাজিয়েছিলো এত সুন্দর করে?সে এবার বৃষ্টিকে ব্লক করে।ব্লক করে শ্রেয়াকেও।এক নিঃশ্বাসে ডিলিট বটমটা টিপে ধরে।প্রাইভেট ফোল্ডার থেকে মুছে যেতে থাকে অভির আদর্শের বিপরীতের কিছু ন্যুড ছবি।সেক্সহীন ভালোবাসা হয়না।কিন্তু শুধু সেক্সটায় ভালোবাসা নয়।অভি বিশ্বাস করে সেটা।অভির চিন্তা-ভাবনা আর পাঁচটা ঈশ্বরভীরু ছেলের মতোই।সে চেয়েছিল বৃষ্টির রঙে নিজেকে রাঙিয়ে নিতে।পারলো না।অভির মতো ছেলেরা হয়তো কোনদিনই সেটা পারেনা।তাই সে নিঃশব্দে সরে আসে বৃষ্টি আর শ্রেয়ার জীবন থেকে।অনেকদিন পর অভি নামক মেঘ থেকে ঝড়ে যায় সবটুকু বৃষ্টি।শুধু জুকারবার্গ সাক্ষী থাকে রাতের গভীরে তৈরি হওয়া লাখ লাখ এমন কত গল্পের।যে গল্পগুলো হয়তো লেখা হয়না কাগজের পাতায়।কিন্তু চরিত্রগুলো দিব্যি বেঁচে থাকে।কেউ জীবন্মৃত হয়ে, কেউ রং পাল্টে।

অন্য একটা নং থেকে বৃষ্টি ফোন করেছিল একদিন।জানতে চেয়েছিল কেন সে শুধু শুধু বৃষ্টির সঙ্গে ব্রেক আপ করলো?অভির সংক্ষিপ্ত উত্তর:আমি বউ চেয়েছিলাম।ভালোবাসার মানুষ চেয়েছিলাম।কোনো শখের বেশ্যা নয়।আর হ্যাঁ—তোমার ফেসবুক আইডিটা আমিই হ্যাক করেছিলাম।বৃষ্টি নির্লজ্জের মতো শুনছিলো অভির সব কথা।শেষে শুধু একটা কথায় বলেছিল বৃষ্টি—-আমায় ক্ষমা করে দিও।ভাবছেন গল্পটা এখানেই শেষ?ধ্যূর মশায়, আমার গল্প,আমি গল্পটাকে যেখানে ইচ্ছে শেষ করতে পারি।আপনি বললেই কি গল্পটা শেষ করতে হবে?দু’বছর পরে চরিত্রগুলো কোথায় আছে একবার দেখে নেবেন না?যদি গল্পের দ্বিতীয় এপিসোড শুরু করি?তখন তো সেই আমাকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।দু’বছর পর দেখলাম অভির সেই পিসতুতো বোন জুহির বিয়ে।জুহিদের বাড়ি।আত্মীয় অভি।বান্ধবী বৃষ্টি সঙ্গে তার স্বামী।বৃষ্টির বিয়ে হয়ে গেছে জুহির বিয়ের তিনমাস আগেই।কাকতালীয়ভাবে জুহির বরের বন্ধু হিসেবে এসেছে প্রিতম।শুনেছি পুরাতন প্রেমকে সম্মুখে দেখলে প্রত্যেকের ফ্ল্যাসব্যাক শুরু হয়।হৃদয়ের কোথাও যেন একটা চিনচিনে ব্যাথা হয়।বিয়ে বাড়িতে এখন বৃষ্টির স্বামী, অভি আর প্রিতম।প্রিতম অবশ্য অভির কথা জানেনা।কিন্তু অভি তো বৃষ্টির সব গল্পগুলোই জানে।স্বামীকে না হয় বাদই দিলাম।সম্মুখে অভি আর প্রিতম।বৃষ্টির এখন কার জন্য হার্ট বিট বাড়বে?প্রিতম না অভি?কার জন্য বুকের ভেতরটা চিনচিন করবে?আরে মশায় পাঠক আপনি।গোটা গল্পটাও প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়লেন আপনি।আপনিই ডিসাইড করুন না গল্পের শেষটুকু।ভাবার কাজ আপনার।এত রাত জেগে টাইপ করলাম।আমাকে কি একটু ঘুমোতে দেবেন না?

আর হ্যাঁ; আমি যদি অভি না হয়ে বৃষ্টি হতাম তাহলেও কিন্তু একই কথা

প্রযোজ্য।অভির জায়গায় বৃষ্টিকে আর বৃষ্টির জায়গায় অভিকে বসিয়ে দেখেন গল্পটা একইভাবে সত্য।আসলে আমরা মনে মনে সবায় বহুগামী।

—-সমাপ্ত

#sahityashruti


https://sahityashruti.quora.com/

Post a Comment