যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

Fariza Yasmin

 


আয়না

ফারিজা ইয়াসমিন 

আজ আমাদের সোনাই প্রজাপতিকে   পাত্রপক্ষ দেখতে এসেছে। সোনারূপ গায়ের বরণ দেখতে বলে নাম তার সোনাই। কিন্তু এ কি দেখি ! পাত্র যে মলিন, ধূসর বর্ণের। 
কোথায় সোনাই এর সাথে সবুজ বর্ণের একটি জোড়া মিলবে!!

যাই হোক, দুই পক্ষের সকলের মর্জিতে আজ তাদের বিয়ে সম্পর্ণ হলো।সুন্দর একটি পরিপাটি,  মনোমুগ্ধকর  পরিবেশে ছোট্ট আয়োজনে। ছোট, বড়, বয়স্ক সকলেই পাখনা মেলে নৃত্য উপস্থাপন করে সোনাইদের বিয়েতে।

সোনাই নিত্যে নতুন স্বপ্ন সাজিয়ে মনের মাঝে ধারণ করা বেনামি প্রজাপতির সাথে ঘর বাঁধতে শুরু করলো।দিনগুলো তাদের রংয়ের মতোই রঙিন প্রচ্ছদে আবৃত  আয়নার সদৃশ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠলো।
ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এই অনুগল্পটি ছোট্ট রিমঝিমকে আবৃত্তি করতে দেখলো শ্রেষ্ঠা। 

হঠাৎই শ্রেষ্ঠার মনে প্রশ্নের জাগরণ -তাদের বিয়েতে নেই কোনো লেনদেন, মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা নেই কোনো যৌতুক প্রথা,  নেই পাত্র পক্ষের পক্ষ থেকে বেধে দেওয়া কোনো নামি দামি খাবারের লিস্ট,নেই কোনো পিতার কন্যা বিদায়ের দায়, মেয়ের নতুন ঘর সংসার সাজিয়ে দেওয়া,, নেই তো- কন্যাকে ভরি ভরি স্বর্ন দিয়ে সাজিয়ে শ্বশুর বাড়ি পাঠানো, নতুন জামাই বলে দামি দামি গাড়ি উপহার দেওয়ার কোনো রীতিনীতি নেই তো তাদের মাঝে। 

আচ্ছা বাবার ঘরে কন্যা সর্বদাই রাজকন্যা হয় বুঝি?
হোক সে মুচির কন্যা , হোক বা না কেন কোনো এক রাষ্ট্রপতির কন্যা।কই জন্মদাতা পিতামাতাকে তো কখনো দেখিনি তাদের কণ্যার বিশ্লেষণ করতে, চিহ্নিত করতে, গায়ের রং কেমন, দাঁত রড় নাকি ছোট, লম্বা নাকি খাটো, মোটাতাজা নাকি খিটখিটে মরা, তবে কেন পাত্র পক্ষ তাদের মর্জি মতো মন্তব্য করতে পারে।তবে শিক্ষাগুরুর কাছে শুনেছিলাম যে "মনুষ্যকূল শ্রেষ্ঠ জীব।" কোথায় গেল সেই শ্রেষ্ঠত্ব? 

এসব ভাবতেই রিমঝিমের স্পর্শে আঁতকে উঠল শ্রেষ্ঠা।মেয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু একটা হাসি দিয়ে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার বৃথা চেষ্টা করে শ্রেষ্ঠা।

হয়তো আয়নায় প্রজাতির রঙিন প্রতিচ্ছবির ন্যায় তাদের অন্তরটাও রাঙা থাকে।হয়তো প্রজাপতি রং বেরংয়ের মিশ্রণে আবদ্ধ হয় বলে তাদের পথ চলাও রঙিন হয়। মনুষ্যকূলের নাম দেওয়া "সংসার" শব্দের অতিবিখ্যাত ব্যাখ্যার মতো রংহীন নয়!!!

লেখিকাঃ ফারিজা ইয়াসমিন 

Post a Comment