যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

রোজনামচা - ভালবাসা -মৈত্রেয়ী সিংহরায়

মৈত্রেয়ী সিংহরায়

বাইরে প্রবল ঝড় বৃষ্টি। ঘনঘন বজ্রপাত। বিদ‍্যুত নেই। ইনভার্টারটাও বেশ কিছুদিন

হল খারাপ হয়ে গেছে। কোনোরকমে মোমবাতি জ্বালিয়ে খাটের এককোণে চুপ

করে বসে প্রাণের ঠাকুরকে ডাকছে মনস্বিনী…

“বিপদে আমি না যেন করি ভয়….”

অনেকবার ফোন করেছে স্বামী অনিমেষকে……বারবার একই উত্তর “আপনি যে ব‍্যক্তিকে ফোন করছেন সেটি এখন ব‍্যস্ত আছে”। জানেনা হয়তো

পার্টি চলছে।

বাইরের দরজায় করাঘাত।

“বৌদি দরজা খোলো। আমি কমলা।”

ঝড়বৃষ্টি মাথায় করে চলে এসেছে কমলা।

মনস্বিনীর বাড়িতে কাজ করে কমলা। স্বামী

পঙ্গু। আ‍্যাকসিডেন্টে একটা পা কাটা পড়েছে। মনস্বিনী বেশ কয়েকবার শুনে বুঝতে পারে এটা কমলার গলা। তবুও ভিতর থেকে বলে “কমলা, কমলা তুমি!”

—–“হ‍্যাঁ গো বৌদি তাড়াতাড়ি দরজা খোলো”। মনস্বিনী যেন প্রাণ পায়। দরজা খুলে দেখে আপাদমস্তক ভিজে

কমলা দাঁড়িয়ে। বলে ” কমলা তুমি! তোমার

স্বামী?”

—–“ওসব নিয়ে তোমায় ভাবতে হবে না। তুমি সেদিন বললে না, যে তুমি ঝড় বৃষ্টি মেঘ ডাকাকে ভীষণ ভয় পাও। বুঝলাম তুমি একা আছ। তাই ছুটে চলে এলাম।”

মনস্বিনী একটা শাড়ি এগিয়ে দেয় কমলার

দিকে আর ভাবে তার স্বামী জানেনও না মনস্বিনী কিসে ভালো থাকে! কিসে আনন্দ পায়! কিসে ভয় পায়! বলে ” কমলা তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”

কমলা কোনোরকমে শাড়িটা জড়িয়ে বলে “ওসব পরে হবে’খন। লুডোটা

বার করো দিকি। আমি কিন্তু এই বৃষ্টিতে ভিজে এখনই বাড়ি যাব না আগে থেকে

বলে রাখছি। বৃষ্টি ছাড়লে তারপর….”

কমলা দেখে মনস্বিনীর মুখটা ভারি উজ্জ্বল

হয়ে উঠল। কপালে বড় সিঁদুরের ফোঁটাটা যেন বড় নিশ্চিন্ত।

ওদের রোজনামচায় এই ভালোবাসাটুকু

অক্ষয় হোক।

#story_and_article


https://banglasahityamancha.quora.com/


Post a Comment