যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

প্রকৃত কবির খোঁজে, কবিতার খোঁজে - তৈমুর খান

 

story and article


সারাদেশে লিটিল ম্যাগাজিনের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। বাড়ছে কবিতা লেখা মানুষের সংখ্যাও। এটা আশার কথা, কেননা কবিতা চর্চা তো সাহিত্য ও ভাষা চর্চারই নামান্তর। আমাদের সংস্কৃতি ও মেধা-মননের এবং কল্পনা ও উদ্ভাবনী শক্তির প্রয়োগ ঘটে সেখানে। কিন্তু অন্যদিকে এটা আবার দুঃখেরও সংবাদ। দুঃখ এই কারণেই যে, যেভাবে লেখকের সংখ্যা বাড়ছে সেভাবে কি পাঠকও তৈরি হচ্ছে?

জীবনানন্দ দাশ বলেছেন : কেউ কেউ কবি।

শক্তি চট্টোপাধ্যায় বলেছেন : এত কবি কেন?

কথা দু’টি মেনে নেওয়া এবং না নেওয়ার দু’টি দিকই আছে।

জীবনানন্দ দাশের কথাটিতে সবাই কবিতা লিখলেও সবাই যে কবি নয় তা স্পষ্ট।

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কথাটিতে সব কবিতা লেখকই কবি বলেই তিনি তিক্ত প্রশ্ন তুলেছেন।

কবিতার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই। ব্যক্তিগত ধারণাতেই কবিতা সঞ্জীবিত। তবে কবিতা একটিশিল্প,

অ্যারিস্টোটলের যুগ থেকে এই দশক পর্যন্ত কবিতাকে নির্মীয়মাণ কলা হিসেবেই সকলে জানেন। তবে এর পূর্ণ নির্মিতিও কেউ কেউ দাবি করে থাকেন। কিন্তু কবিতা স্বকীয়তায় বেঁচে থাকে, সর্বদা নতুনত্বে এর সদ্গতি। একটা ভাব আর একটা ভাবকে জাগিয়ে দেয়।

একটা প্রবৃত্তি বা আবেগ যেমন অন্য একটা প্রবৃত্তি বা আবেগ থেকে আলাদা হতে পারে না। সেই কারণে প্রাচীন বা বিগতকে অস্বীকার নয়, তাকে সমীহ করেই নতুন পথের আবিষ্কার দরকার। প্রতিটি সংস্কৃতিরই একটা ইতিহাস আছে। এই ইতিহাস অভিজ্ঞতা আর অভিজ্ঞতাই Tradition. এ সম্পর্কে টি এস এলিয়ট বলেছেন : “Whereas if we approach a poet without this prejudice we shall often find that not only the best, but the most individual parts of his work may be those in which the dead poets, his ancestors, assert their immortality most vigorously”.

অর্থাৎ আমরা যদি এই কুসংস্কার ছাড়াই কোনও কবির কাছে যাই তবে আমরা প্রায়শই কেবল সেরাটিই পাই না, তাঁর রচনার সর্বাধিক স্বতন্ত্র অংশগুলিও। সেগুলি হতে পারে মৃত কবিদের। তাঁর পূর্বপুরুষরা তাঁদের অমরত্বকে সবচেয়ে দৃঢ়তার সাথে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।

অতীতের লেখকদের ছায়া বর্তমান লেখকদের ওপর পড়বেই। যে কোনো কবির শ্রেষ্ঠ রচনা পূর্বের অনেক কবির অনেক ভাবনার সঙ্গে মিলে যায় এবং নতুনতর সৃষ্টি হয়। এলিয়ট তাঁর কবিতাতেও সে কথা উল্লেখ করেছেন :

“And do not call it fixity,

Where past and future are gathered.”

অর্থাৎ একে স্থিরতা বলবেন না, যেখানে অতীত এবং ভবিষ্যত একত্রিত হয়।

সুতরাং সাহিত্যে অতীত বর্তমান বলে কিছু নেই। জীবনকে নিরীক্ষণ করার মধ্যেই প্রকৃত সত্য লুকিয়ে থাকে। এলিয়ট আরেকটি কবিতাতেও তাই বলেছেন:

“That the past experience revived in the meaning

Is not the experience of one life only.

But of many generations—not forgetting

Something that is probably quite ineffable:”

অর্থাৎ অতীত অভিজ্ঞতাটি এর অর্থের মধ্যেই পুনরুত্থিত হয়েছে তা কেবল একটি জীবনের অভিজ্ঞতায় নয়।তবে অনেক প্রজন্ম এমন কিছু ভুলে যাচ্ছে না যা সম্ভবত বেশ অকার্যকর । কবিতার পরের একটি লাইনে উল্লেখ করেছেন:

“Time the destroyer is time the preserver.”

অর্থাৎ সময় ধ্বংসকারীর সময়ই সংরক্ষণকারীর সময় হয়।

সুতরাং অতীত যে জীবন অভিজ্ঞতা, সময় অনেক কিছু ধ্বংস করলেও অনেক কিছু সযত্নে রক্ষা করে অখণ্ড এক মহিমা দান করে চলে তা বলাই বাহুল্য। রবীন্দ্রনাথও ‘উৎসর্গ’ কাব্যে অতীতকে জানতে বলেছেন:

“কথা কও , কথা কও,

অনাদি অতীত, অনন্ত রাতে কেন বসে চেয়ে রও?

কথা কও,কথা কও।

যুগ-যুগান্ত ঢালে তার কথা তোমার সাগরতলে,

কত জীবনের কত ধারা এসে মিশায় তোমার জলে।”

কিন্তু শুধু অতীতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা নয়, প্রতিভার স্পর্শে তাকে নতুন করে প্রকাশ করা এবং ভিন্নতা দান করাই কবির কর্ম। অতীতকে জানাও তো পরিশ্রম সাপেক্ষ, মগ্ন পাঠকই একমাত্র এ কাজটি করতে পারেন। কবির প্রথম শর্তই হচ্ছে এই অতীতে বিচরণ করা এবং নতুনের পথ অনুসন্ধান করা।

রবীন্দ্র যুগে সবাই রবীন্দ্রনাথকে অনুসরণ করেছেন, কিছুসংখ্যক কবি ছাড়া কেউই নতুন পথের সন্ধান করেননি। যাঁরা নতুন পথের সন্ধান করেননি বা এখনও অনুকরণের বৃত্তেই হেঁটে চলেছেন, মহাকাল তাঁদের বিস্মৃতির অতলে পাঠিয়ে দিয়েছে।

যাঁরা নিজস্বতা অর্জন করেছেন তাঁরাই কেবল কালের আঙিনায় ঠাঁই পেয়েছেন। জীবনানন্দ দাশের বৃত্তে আজও যাঁরা বিচরণ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই পুরস্কারই বিরাজ করছে। নিজেকে সেখান থেকেও বের করার কথা ভাবা দরকার।

রবীন্দ্রনাথ বলেছেন, সাহিত্য বারবার বাঁক্ নেয়, এই বাঁক্ তো কবিরাই সৃষ্টি করেন। আজকের দিনে সেই বাঁক্ কই ? ভাষাবোধ, জীবনবোধ এবং শিল্পবোধের অন্বয় দেখা যাচ্ছে না যেমন,তেমনি কবিতা নিয়ে নতুন পথ সন্ধানের তেমন দৃষ্টান্তও চোখে পড়ছে না। অতীতে হাংরি আন্দোলন, শ্রুতি আন্দোলন এবং সুররিয়ালিজম ও ম্যাজিক রিয়ালিজম নিয়েও চর্চা কম হয়নি।

বর্তমানে উত্তরাধুনিকতাবাদ বা পোস্টমর্ডানিজম নিয়েও চর্চা হচ্ছে। কিন্তু সাহিত্য আন্দোলন কোনো ইজমেই বন্দি হয়নি। বিচক্ষণ প্রতিভার স্পর্শে কবিতা অভূতপূর্ব বা অনাস্বাদিত বিষয় হয়ে উঠতে পারে। কবি ব্যক্তিটিই মিথে পরিণত হতে পারেন।

কিন্তু এসবের মধ্যেও থাকে কবির জীবনদর্শন বা অন্তর্দৃষ্টি। এ সময়ের তরুণ কবি বিভাস রায়চৌধুরী বলেন : “দার্শনিকতা ছাড়া কবিত্ব আর জীবনশূন্য গ্রহ এক ; কোনো কোনো সমাজ-ইতিহাসবিদ কবি নন।” এখানেও দেখা যাচ্ছে কবিকে দার্শনিক হতেই হবে, সমাজ-ইতিহাসবিদ না হলেও চলবে।

এ বিষয়ে র‌্যাবো বহু আগেই বলে গেছেন “The poet makes himself a visionary through a long, immense and reasoned derangement of the senses.” অর্থাৎ ইন্দ্রিয়ের দীর্ঘ, অপরিসীম ও যুক্তিযুক্ত অবজ্ঞার মধ্য দিয়ে কবি নিজেকে স্বপ্নদ্রষ্টা করে তুলেছেন। দূরদৃষ্টি সম্পন্ন কবির বোধশক্তি এমনই যে সমস্ত বিশৃঙ্খলাকে সুচারুভাবে প্রকাশ করার ক্ষমতা লাভ করেন। কিন্তু কবির যদি এই ক্ষমতা না থাকে তাহলে

গতানুগতিক অনুকরণেই কবিতা লিখে যাবেন সারা জীবন। আজকের অধিকাংশ কবির ক্ষেত্রেই তা ঘটে চলেছে। কবিতায় কবির নাম না থাকলে কার কবিতা তা বলাই মুশকিল। অবশ্য সময়ের এই অভিক্ষেপে সমস্ত কবিকে মনে হচ্ছে ‘In the general mess of imprecision of feeling’. অনুভূতির এক অনর্থক জগতে অর্থাৎ একই মেসে বসবাসকারী, একই অনুভূতির অভিশাপ বহনকারী কবিদল। এর থেকে কেউই বেরিয়ে আসতে পারছেন না।

কয়েকটি লিটিল ম্যাগাজিন ছাড়া বেশিরভাগ লিটিল ম্যাগাজিনেই এইসব ঝাঁকের কই কবিদের দেখা পাচ্ছি। যে কবিতা খুঁজছি, যে নতুন লেখার দাবি করছি তা কোথায় পাবো? কবিতা কোনো ইজমে না গিয়েও ব্যক্তি পরিচয়েই বেজে উঠতে পারে।

স্বয়ংক্রিয়তা বা অটোম্যাটিক রাইটিং না হয়েও, এমনকী ঘামঝরা তত্ত্ব তথ্যপূর্ণ লেখা না হয়েও হৃদয় সংবাদি আশ্চর্য ভালোলাগার শিল্প হতে পারে। শব্দ ব্যবহারে নতুনত্ব এবং বিশেষণ ও চিত্রকল্প সৃষ্টির ভিন্নমাত্রা গড়ে উঠতে পারে। দু একটা উদাহরণ নিলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।

কবি মলয় গোস্বামী একটি বাণিজ্যিক কাগজে ‘ভালবাসা’ নামে একটি কবিতায় লিখেছেন :

“ভালবাসা ঠিক একটা সাইকেলের মতো

অত কিছু, কিন্তু একমাত্র শর্ত চলতে হবে ওকে…

………………………………………….

ভালবাসা মাঝে মাঝে গাছতলায় দাঁড়ায়

মাঝে মাঝে পুকুর পাড় দিয়ে পৌঁছে যায় হাসপাতলে

ক্রিংক্রিং করতে করতে হেলে যায় বেল

সোজা করে দিতে হয় তখন”

কবিতায় ব্যবহৃত সবগুলোই চেনা শব্দ, জটিলতা কোথাও সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু শব্দ ও উপমা ব্যবহারের গুণে কবিতাংশটি ভিন্নমাত্রা পেয়েছে। খুব চেনা ছবি ভেসে উঠলেও ‘ভালবাসা’ শব্দটিই একটি চরিত্র হয়ে উঠেছে, যার মধ্যে আছে infinitude. কবি ব্যক্তির নাম ব্যবহার না করে সমূহকেই প্রতীয়মান করালেন। আবার তার উপমা হিসেবে ব্যবহার করলেন ‘সাইকেল’কে। সাইকেল একটা বস্তু, বস্তুর সঙ্গে ভালবাসার সংযোগ ঘটালেন। আমরা জানি :

Llove is heaven

Llove is God

Love is Holy

Love is truth

Love is beauty

কিন্তু জানি নাLove is cycle.

প্রেমের গতিময়তা বোঝাতে সাইকেল উপমাটিই যথার্থ এবং নতুনত্বের ধারক। তারপরই ভালোবাসার গাছতলায় দাঁড়ানো, পুকুরের পাড় দিয়ে হাসপাতালে যাওয়া, ক্রিং ক্রিং শব্দে বেলের আওয়াজ দেওয়া সমস্তই Symbolic প্রয়োগ। ক্রিয়াগুলি মনুষ্য জীবনকেই ইঙ্গিত করে। তখন মানুষটিই সাইকেল। মানুষটিই ভালবাসার। গড়ানোই তার প্রতিক্রিয়া ধর্ম। ‘বেল’ই তার আবেগের বাজনা।

গোলাম রসুল নামে আর এক কবির কবিতা চোখে পড়েছে। তাঁর ‘বেলা দ্বিপ্রহর'(২০১৩) নামে কাব্যের একটুকরো কবিতা এরকম :

“সীমান্তে প্রাগৈতিহাসিক জঙ্গল

শান্ত জলের তলায় ভেসে আছে রাস্তা

মাটির সাইকেলে চেপে ফিরে যাচ্ছে সিনেমার দর্শকেরা

দূর যাত্রাপালা থেকে নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক ভেঙে

যাওয়ার শব্দ আসছে

একেবারে দিগন্তের ঘোড়া থেকে বজ্রপাতের আলো

এফোঁড়-ওফোঁড় সেলাই করছে মহাকাশ”

‘প্রাগৈতিহাসিক জঙ্গল’ কথাটিই কবিতাকে ভিন্ন পথে চালিত করে। জঙ্গলকে প্রাগৈতিহাসিক বলা যায় কিনা তা যেমন ভাববার বিষয়, তেমনি ব্যবহারেও আদিমতার প্রজ্ঞাটি কবি নির্দেশ করেন। শান্ত জলের তলায় (ওপরে নয়) রাস্তার ভেসে থাকা, মাটির সাইকেল চেপে সিনেমার দর্শকদের বাড়ি ফেরা, দূর যাত্রাপালার নায়ক-নায়িকার সম্পর্ক ভাঙার শব্দ পাওয়া(শব্দ :Sound) এবং বজ্রপাতের সুতোয় দিগন্ত সেলাই করা সবগুলোই কার্যকারণের বাইরে সংঘটিত।

খুব সাধারণ দৃশ্য, পার্থিব সংসারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিয়াগুলিই মনুষ্য ও বস্তুজগৎকে একই সূত্রে গ্রথিত করেছে। যাকে অধিবিদ্যা বা মেটাফিজিক্স বলা যায়। কবি তাঁর অতীন্দ্রিয় শক্তির দ্বারা অস্তিত্ব, সত্য এবং জ্ঞানের প্রকৃতি নির্ণয় করতে চেয়েছেন। আর সেই কারণেই প্রাগৈতিহাসিক জঙ্গল থেকে জলের তলায় রাস্তার ভাসমানতা এবং মাটির সাইকেল, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার শব্দ দর্শনটি ‘treats of the relations obtaining between the underlying reality and its manifestations.'(F. Sommers)অর্থাৎ অন্তর্নিহিত বাস্তবতা এবং এর প্রকাশগুলির মধ্যে প্রাপ্ত সম্পর্কের আচরণগুলি এক হয়ে উঠেছে।

কবি বিভাস রায়চৌধুরী বাণিজ্যিক কাগজে ‘নাও’ নামের একটি ছোট্ট কবিতা লিখেছেন :

“জিভের ভেতরে এই উথলে ওঠে বিষ

আমার অনন্ত তুমি নাও….

বৃষ্টির ভেতরে যদি দেখা হয়, নাও…

আমার শ্রাবণ-অপবাদ

তুমি নাও….

অনন্ত জলের দোষে মেঘেরা দেবতা

অনন্ত জলের দোষে….

শরীরের ভেতরে পাগল

কতকাল চুপটি করে ব’সে…

নাও ….

তুমি নাও…. তুমি নাও….”

‘নাও'(Take) শব্দটির মধ্যে আত্মসমর্পণ ক্রিয়াটি বিধৃত হয়েছে, তেমনি কবিতার প্রথম পংক্তিতে স্বাদ-ইন্দ্রিয় জিভের ভেতরে উথলে ওঠা বিষের প্রাচুর্য পার্থিব মোহের অনুসেচককেই বোঝানো হয়েছে। তবু কবি যে অনন্তের পথিক এবং সেই অনন্তেই বিলীয়মান হতে চান তা পর্যুপরি ‘নাও’ শব্দের ব্যবহারে বুঝিয়ে দিলেন। ‘বৃষ্টির ভেতরে যদি দেখা হয়’ অর্থাৎ কোনো প্রাণিজ জন্মান্তরে কবি জলচরে তাঁর চেতনাপ্রবাহ চালিত করেন, তবুও সেখানে অনন্তের সমর্পণ ‘নাও’ চিরন্তনতায় জেগে ওঠে।

শুধু প্রাণী নয়, জলও অনন্ত, আর এই অনন্তকে ধারণ করেই মেয়েরাও দেবী হয়ে ওঠে। শুধু শ্রাবণ মাস বৃষ্টির মাস যতই বলা হোক, বৃষ্টির কোনো নির্দিষ্টতা নেই। শরীরের ভেতরে ‘পাগল’ বাস করে যে পাগল ‘ব্রহ্ম’, যে পাগল মহাজীবনের সংজ্ঞাবহ বোধ।

সমস্ত কবিতাটিতে ‘নাও’ শব্দটি সেই তাৎপর্য বহন করে শুধুমাত্র ব্যবহারের গুণেই। এত হালকা একটি শব্দ অথচ কত পূর্ণতার ইঙ্গিত দিয়েছে। কবি নিজের সত্তাকে দর্শনের আলোয় এভাবেই দেখতে চান। মায়ার আস্তরণ ভেদ করলে এভাবেই আমরা আমাদের কণ্ঠস্বর শুনতে পাই।

বাংলা কবিতা নিয়ে যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবু বেনো জলে আমাদের বোধ ভেসে যাচ্ছে। একই রকম লেখায়, অনুকরণের জন্য কবিতা পাঠে তিক্ততাও বাড়ছে। যে হারে লিটল ম্যাগাজিনের সংখ্যা বাড়ছে, কবি বাড়ছেন, সে হারে প্রকৃত কবিতা লেখা বাড়ছে না। সাহিত্যের আনন্দের ভোজে প্রকৃত মগ্ন পাঠককে অধিকাংশ সময়ই উপোস দিতে হচ্ছে।

তা কেন হবে ? সমস্ত উত্তরাধিকার মেনেই কবিরা যদি সচেতন হন, সম্পাদকেরা যদি আর একটু ক্লান্তি দূর করেন, ‘মনরাখা’ বা ‘মানরাখা’র ধার না ধারেন—তবে নিশ্চিত বাংলা সাহিত্য আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারবে। কবিতা কম লেখা হোক তবু ভালো, কিন্তু তা খাঁটি কবিতা হোক।

এ যুগে যেমন রবীন্দ্রনাথকে অনুকরণ করা নিষ্ফল, তেমনি জীবনানন্দ দাশকেও অনুকরণ করা যাবে না। বক্তব্য বা বিবৃতির কবিতা পাঠককে পীড়া দিতে পারে। সংকেতধর্মী কবিতা, ব্যঞ্জনাধর্মী শব্দ ব্যবহার, বিশেষণ ব্যবহারে নতুনত্ব কিংবা মেটাফোর অলংকারের প্রয়োগ কবিতাকে ভিন্নমাত্রা দিতে পারে।



https://storyandarticle.com/





Post a Comment