যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

বোহেমিয়ান শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের আজব কান্ড

 
storyandarticle

বোহেমিয়ান শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের

আজব কান্ড…..

দুশ্চিন্তায় উদ্বিগ্ন হতো পরিবার



সৌম্য ঘোষ



বিহারের চাইবাসায়, রোরো নদীর ধারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দুই তরুণ। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, সঙ্গে সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়। উদ্দেশ্য, তাঁদেরই এক বন্ধুকে খোঁজা। বন্ধুকে হাওড়া স্টেশনে ছাড়তে যাবে বলে সেই যে নিখোঁজ হল সে, আর পাত্তা নেই। প্রায় গোটা কলকাতাই চষে ফেলা হল। কিন্তু তাঁকে আর পাওয়া গেল না। এমন সময় খবর এল, বন্ধু সমীর রায়চৌধুরীর কাছে, চাইবাসায় রয়েছেন তিনি। সুনীল আর সন্দীপন ঠিক করলেন, সেখানেই যাবেন। গিয়ে দেখলেন আরেক কাণ্ড— সমীর যে ট্রান্সফার নিয়ে চলে গেছে অন্যত্র! তাহলে বন্ধুটি? রোরো নদীর ধারে হাঁটতে হাঁটতে সেই কথাই ভাবছিলেন দুজনে। 


যত এগোচ্ছেন, ততই যেন চারপাশের প্রকৃতির প্রেমে পড়ছেন। এমন সুন্দর নদী! যে ডাকবাংলোতে থাকছেন, সেটিও বড়ো মনোরম। বন্ধুটির কথা কিছুক্ষণের জন্য ভুলেই গিয়েছিলেন সুনীল-সন্দীপন। খোলা রাস্তায় ভর করে এলেন রবীন্দ্রনাথ। দুজনেই দরাজ গলায় শুরু করলেন গান। হঠাৎ কাছেই একটি বাড়ি থেকে চিৎকার ভেসে এল। পরিষ্কার বাংলা ভাষায় কে যেন বলে উঠল,


“এখানে আমি ছাড়া আর কে রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়?”


সুনীল এবং সন্দীপন, দুজনেই হতভম্ব। আরও অবাক হলেন, যখন দেখলেন ওই বাড়ি থেকেই বেরিয়ে এল একমুখ দাড়ি, পাঞ্জাবী ও চশমা পরিহিত এক তরুণ— শক্তি চট্টোপাধ্যায়। যাক! শেষে রবীন্দ্রনাথই সন্ধান দিলেন শক্তির… 


বাংলা সাহিত্যের আকাশে তিনি ছিলেন এক পাগলা ঘোড়া। এমন একজন, যাকে কোনভাবে খাঁচায় আটকে রাখা যেত না। বেঁধে রাখলে, বারবার দড়ি ছিঁড়ে পালিয়ে যাবেন অন্য কোথাও। শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ছিল এমনই। উপন্যাস লিখতে লিখতে কখন যে কবিতার স্রোতে ভেসে গিয়েছিলেন, বুঝতে পারেননি। ভাগ্যিস এসেছিলেন! নাহলে কবিতার জগতটা ‘শাক্ত’ হত না… 




সৌম্য ঘোষ। চুঁচুড়া। হুগলী।


#storyandarticle


https://storyandarticle.com

Post a Comment