যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

একাকিত্বের ও বুঝি কোন একটা রূপ থাকে। আজ এতো বছর পর কেন মনে হয়। কেউ একজন থাকা মানেই নিজেকে তার কাছে সমর্পণ করা।

" প্রত্যাখ্যান " এই একটি শব্দ আমার ভিতর এমনভাবে আলোরণ তুলে। যেন নিজেকে নিজের কাছে তুচ্ছ ছাড়া কিছুই মনে হয়না।

 

Story and Article


ফিরে পাওয়া ভালবাসা

নুর আঙ্গেঁজ বেগম

একাকিত্বের ও বুঝি কোন একটা রূপ থাকে। আজ এতো বছর পর কেন মনে হয়। কেউ একজন থাকা মানেই নিজেকে তার কাছে সমর্পণ করা। সারাদিন ক্লান্তির পর একটু পরুশালী স্পর্শ যেন খুব প্রয়োজন। আগামী সিঁড়িগুলো অতিক্রম করার জন্যে। এগারো বছরের সংসারটা ধরে রাখতে পারেনি অর্নিশা। নিজের সবটুকু দিয়েও। একসাথে রাত যাপনের পরও যে স্বামী নিজের স্ত্রীর মন বুঝতে পারেনা। অকারণে এটা সেটা নিয়ে বিতর্ক। অর্নিশার মতামতের কোনো দামই ছিলো না আহিলের কাছে। একসাথে গাঁথা ফুলগুলোর মাঝেও তো ঠোকাঠুকি হয়। তারপর ও সে মালা। সেতো তার সৌরভ দিয়ে শোভা ছড়াবেই। এই নিয়মটাই কোনদিন মানতে চায়নি আহিল। আহিল সবসময় নিজের ব্যাক্তিত্বময় জীবনের কাছে অর্নিশাকে অযোগ্য মনে করতো। অর্নিশার মনের সৌন্দর্যের কাছে হার মানতেই চায়নি আহিল কোনদিন। নিজেকে হাজারো প্রশ্নবিদ্ধ করে একদিন একা থাকার জীবনটাই বেছে নেয় সে। আহিল প্রথমে অবাক হলেও প্রতিবাদ করেনি। আজ এতো বছর পর মন যে কেন বারবার বসন্ত ফিরে পেতে চায়। হিমেলই কী তবে তার এই মেয়েলী অনুভবগুলো জাগিয়ে তুললো।

একসাথে কাজ করতে করতে চার চোখে যে কখন তৃষ্ণা জাগে। এই খোঁজ তারা ধীরে ধীরে টের পায়। আর তাইতো শীর্ষেন্দুর লিখা বইটি দেয়ার সময়। ভিতরে ছোট্ট কাগজে তার ইচ্ছেগুলো লিখে জানাতে ভুল করে না হিমেল। ভালবাসা মানুষের ভিতরটাই উলট পালট করে দেয়। এতগুলো বছর কাছে থেকেও যে তৃষ্ণনায় শীতল পরশ বুলাতে পারেনি আহিল। হিমেলের লিখায় যেন সেই মরুভূমিতে প্রথম বৃষ্টির ছুঁয়া পেলো।

" অর্নিশা"
" প্রত্যাখ্যান " এই একটি শব্দ আমার ভিতর এমনভাবে আলোরণ তুলে। যেন নিজেকে নিজের কাছে তুচ্ছ ছাড়া কিছুই মনে হয়না। ভালবেসেছিল। খুব ভালবেসেছিলাম একজনকে। নিজের ভিতর এতটাই আপন করে নিয়েছিলাম যে। সে জায়গা অন্য আর কারো হতে পারে ভাবনাতেই ছিলো না। সে শুধু আমার। শুধুই আমার। অর্থ যে কখন সে স্থানটায় দেয়াল তুলতো বুঝতেই পারিনি। আমি হেরে গেলাম। আমার সেই শূন্যস্থানে আমি আর কাউকেই বসাতে পারিনি। এতোগুলো বছর পার করেও। তোমার চোখের ভাষায় কী এমন আছে আমি জানিনা। আমি যেন আবার তোমার কাছেই নিজেকে ফিরে পেতে চাই। তুমি আসবে কী আমার এই শূন্য মন্দিরে?

অর্নিশার এখন মনে হয়। জীবনে চলার পথে কেউ একজন থাকা মানে। নিজেকে পরিপূর্ণ ভাবে পাওয়া। এই পথে ফুল বিছানোই থাকবে। ভুলের ভিতরেও যদি আর একটি ভুল নিজেকে ভরিয়ে দেয়।


Post a Comment