যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

প্রত্যক্ষ, অনুমান প্রভৃতির উপায়ের মধ্য দিয়ে যে জ্ঞান লাভ করা যায় না, নারী ও পুরুষের বিশেষ পার্থক্য করা হতো না।

ঋক্ বৈদিক যুগের প্রথম ভাগে আর্যদের বিভিন্ন শাখা স্থায়ী বসতির সন্ধানে ছিল, পশুপালন তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় হওয়ায় তারা স্থায়ীভাবে বসতি গ

 

Story and Article



বৈদিক সাহিত্য -- সামাজিক ব্যবস্থার আকর সন্ধান

সৌম্য ঘোষ


বৈদিক সাহিত্য (ঋক্ বৈদিক যুগ) ঃ  বেদ শব্দটি নিষ্পন্ন হয়েছে 'বিদ্' ধাতু থেকে। অর্থভেদে

'বিদ্' ধাতু জ্ঞানার্থক, লাভার্থক, সত্তার্থক ও বিচারার্থক। সিদ্ধান্তকৌমুদীতে বলা হয়েছে:


  'সত্তায়াং বিদ্যতে জ্ঞানে বেত্তি বিচারণে।

বিন্দতে বিন্দন্তি প্রাপ্তৌশ্যন্ লুক্      শ্লম্ শেষ্বিদং ক্রমাৎ।"

        

তাই ধরা হয়, জ্ঞানার্থক বিদ্ ধাতু থেকে 'বেদ' শব্দটি উৎপন্ন এবং 'বেদ' শব্দের অর্থ হলো জ্ঞান। তবে এই জ্ঞান হলো পার্থিব জ্ঞান থেকে ভিন্ন এক অতীন্দ্রিয় জ্ঞান। যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন---

"প্রত্যক্ষেণা নিমিত্যা বা যস্তুপায়ো না বিদ্যতে।

 এনং  বিদন্তি বেদেন তম্মাৎ বেদস্য দেবতা।"


অর্থাৎ প্রত্যক্ষ, অনুমান প্রভৃতির উপায়ের মধ্য দিয়ে যে জ্ঞান লাভ করা যায় না, সেই জ্ঞান বেদের দ্বারা জানা যায়। আর সেটাই বেদের গুরুত্ব। ‌ যে শব্দরাশির দ্বারা জ্ঞানভিন্ন, সত্ত্বাভিন্ন বেদ প্রমানক পরব্রহ্মস্বরূপ সুখকে বিচারপূর্বক লাভ করা যায়, তাই বেদ। বস্তুতঃ ধর্ম, কর্মফল, যজ্ঞ, যজ্ঞফল, স্বর্গ,

পরলোকতত্ত্ব ইত্যাদি যাবতীয় এবং ব্রহ্ম মুখ্য বিষয়ক জ্ঞানের আকরস্বরূপ বেদ। পরব্রহ্মের নিঃশ্বাসরূপে স্বপ্রকাশ। শ্রুতি, ত্রয়ী, আগম, ছন্দস্

বেদের প্রতিশব্দ। আচার্য  শিষ্যপরম্পরায় বেদ শ্রবণের মাধ্যমে রক্ষিত হতো বলে এর আরেক নাম শ্রুতি। অনেকের মতে, ঋক্, সাম, যজু: --- এই তিনটির সমষ্টিকে বলা হয় ত্রয়ী। অথর্ববেদ পরবর্তীকালে সংযোজিত, তাই এই ত্রয়ীর অন্তর্ভুক্ত নয়।  যজ্ঞ সম্পাদনে অথর্ববেদের কোন ভূমিকা থাকে না। 


            বেদের মূলত দুইটি অংশ ---‌ মন্ত্র ও ব্রাহ্মণ। 

বেদের মন্ত্রভাগে আছে দেবতাদের উদ্দেশ্যে স্তব-স্তুতি। দেবমহিমাকীর্তন, দেবতার আহ্বান,

অভীষ্ট বস্তুর প্রার্থনা প্রভৃতি। ব্রাহ্মণ ভাগে আছে---- বিবিধ যাগ-যজ্ঞের  বিবরণ, মন্ত্র বিনিয়োগ, ইতিহাস, পুরাকীর্তি, যজ্ঞফল প্রভৃতি।

এককথায়, বেদের মন্ত্রভাগ জ্ঞানকাণ্ড এবং ব্রাহ্মণভাগ কর্মকাণ্ড। বৈদিক মন্ত্রের সংগ্রাহক গ্রন্থকে বলা হয় সংহিতা। ‌ সংহিতার সংখ্যাও চার--- ঋক্, সাম, যজু, অথর্ব। প্রত্যেক সংহিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকে একাধিক ব্রাহ্মণ। ‌ বেদের সঙ্গে সম্পর্কিত আরো দুইটি গ্রন্থ আছে ---- আরণ্যক ও উপনিষদ। বেদ সাহিত্যের অন্তর্গত আরেকটি শ্রেণীর গ্রন্থ পাওয়া যায় যেগুলিকে বলা হয় বেদাঙ্গ। ‌ বেদাঙ্গের সংখ্যা ছয়টি--- শিক্ষা, কল্প, ব্যাকরণ, নিরুক্ত, ছন্দ ও জ্যোতিষ। ‌


             বৈদিক যুগে সাধারণভাবে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়। ‌ আর্যদের আগমন আনুমানিক ১৫০০ থেকে ১০০০ অব্দ পর্যন্ত কালসীমা হলো ঋক্ বৈদিক যুগ এবং খ্রিস্টপূর্ব আনুমানিক ১০০০ থেকে ৬০০ অব্দ পর্যন্ত বিস্তৃত পরবর্তী বৈদিক যুগ।

অতএব বৈদিক যুগের সামাজিক ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে বৈদিক সাহিত্য আমাদের মুখ্য ঐতিহাসিক উপাদান। 


           ঋক্ বৈদিক যুগের প্রথম ভাগে আর্যদের বিভিন্ন শাখা স্থায়ী বসতির সন্ধানে ছিল, পশুপালন তাদের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উপায় হওয়ায় তারা স্থায়ীভাবে বসতি গড়ে তুলতে পারেনি। ‌তার প্রধান কারণ পশুচারণের জন্য ভূমির সন্ধান এবং গবাদিপশুর সংগ্রহের জন্য প্রায়শই যুদ্ধে লিপ্ত থাকা। গবাদি পশুর জন্য যে যুদ্ধ তাকে বলা হয় 'গবিষ্টি'।  প্রাচীন ভাষাবিজ্ঞানে  "গাভীস্তি'' শব্দের উল্লেখ পাওয়া যায়। এর অর্থ হলো গাভীর সন্ধান ( to search for cows )। প্রাথমিক পর্যায়ে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবনে গাভীর মূল্য এতই অধিক ছিল যে , এদের মধ্যে গাভী অপহরণের প্রবণতা ছিল প্রবল এবং একে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ লেগেই থাকতো। এই যুগে গবাদিপশুকে সম্পদ বলে বিবেচনা করা হতো এবং যিনি এই সম্পদের অধিকারী হতেন তাঁকে বলা হত 'গোমৎ'। পারিবারিক জীবনে গবাদি পশুর গুরুত্ব কতখানি তা বোঝা যায়, যখন দেখা যায় স্বীয় কন্যার অপর নাম 'দুহিতা'। অর্থাৎ যিনি গাভী দোহন করেন। গরু ছাড়াও ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়া গৃহপালিত পশু ছিল। আর্যদের বিভিন্ন শাখার সাধারন নাম ছিল জন্ বা বিশ্। যুদ্ধের দ্বারা যেসব গবাদিপশু লুণ্ঠন করা হত তা ছিল সমগ্র জন্ বা  বিশের। গোচারণ ভূমিতে কোন ব্যক্তিগত অধিকার ছিল বলে মনে হয় না।   উৎপাদনের উপকরণ ও সামাজিক ধনসম্পদের উপর যৌথ মালিকানা প্রচলিত থাকায় অনুমিত হয় যে , সমাজে আর্থিক বৈষম্যের সম্ভাবনা ছিল কম। কিন্তু ক্রমে জমি গ্রামের বিভিন্ন পরিবারের দখলে আসে এবং ব্যক্তিগত মালিকানা ও জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও উত্তরাধিকার সূত্রে জমি ভোগদখলের সমস্যার সূত্রপাত ঘটে। আর্যরা বিচ্ছিন্ন অনার্য জাতির সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হয়ে সম্পদ সংগ্রহ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করতো। যুদ্ধের দ্বারা লুণ্ঠিত সম্পদ যেমন, গরু,ছাগল, ভেড়া, ঘোড়া, অন্ন, ভূমি, জল এবং নারী সমভাবে বন্টিত করত। তবে বিশপতির ( গোষ্ঠী-পতি) অংশ অন্যের তুলনায় অধিক ছিল। তাই দেখা যায় ঋকবৈদিক যুগের প্রথমঅংশ  ছিল পশুপালক সমাজ। এই যুগের শেষভাগে আর্যদের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার প্রবণতা সঙ্গে সঙ্গে কৃষি অর্থনীতির সূত্রপাত ঘটে। ‌ঋক্ বেদের পরবর্ত্তীতে আর্যরা ষাঁড় টানা লাঙ্গল দিয়ে চাষ করত। ‌ঋক্ বেদের প্রথম ও দশম মন্ডলে ভূমি কর্ষণ, বীজ বপন, ফসল কাটা, ফসল ঝাড়াই-বাছাই ইত্যাদি স্তরগুলির উল্লেখ আছে। চতুর্থমন্ডল থেকে জানা যায়, আর্যরা সম্ভবত আগুনের দ্বারা বনাঞ্চল পরিষ্কার করে কৃষিযোগ্য জমি বের করেছিলো। পশুপালক সমাজ থেকে কৃষি সমাজে রূপান্তরিত হতে সুদীর্ঘ সময় লেগেছিল। ঋক বৈদিক যুগে আর্যসমাজ চারণভিত্তিক সমাজ (pastoral ) থেকে কৃষিভিত্তিক সমাজে পরিণত হয়। সুতরাং দেখা যায় যে , সে যুগে কৃষি ও পশুচারণের উপর নির্ভরশীল "মিশ্র অর্থনীতি"(Mixed Economy)-র উদ্ভব ঘটে। 

                  এইযুগে কারিগরদের মধ্যে চর্মকার, রথকার, কর্মকারের কথা পাওয়া যায়। তুলোর ব্যবহার এই যুগে অজ্ঞাত ছিল। ‌ ভেড়ার লোম থেকে পাওয়া পশমের বয়ন প্রচলিত ছিল। ‌ রথ ছিল সেই যুগের প্রধান যান। বিশেষতঃ যুদ্ধের ক্ষেত্রে।  'অয়স্' অর্থাৎ তামা বা ব্রোঞ্জের দ্বারা নির্মিত দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য দ্রব্যাদি এবং যুদ্ধের জন্য অস্ত্রশস্ত্র তৈরি করতো কর্মকার-রা। ঋক্ বৈদিক যুগে স্বর্ণ , তাম্র ও ব্রোঞ্জের প্রচলন ছিল।

'কুলাল' অর্থাৎ কুম্ভকারেরা পোড়ামাটির তৈজসপত্র প্রস্তুত করতো। প্রত্নবিদরা বৈদিক যুগের এইসব চিত্রিত ধূসর বর্ণের তৈজসপত্র (Painted Grey Ware Culture )  উদ্ধার করেন। হরপ্পার যুগের পাত্রাদির সঙ্গে বৈদিক যুগের পাত্রাদির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

লোহার ব্যবহার সেই যুগে জানা ছিল বলে কোন প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ‌

                   সেইযুগে আর্যরা যাযাবর বৃত্তি ও গবাদি পশুর জন্য অনার্যদের সঙ্গে যুদ্ধে ব্যাপৃত থাকার ফলে উদ্বৃত্ত সম্পদ উৎপাদন করতে পারেনি যার দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য করা যায়। ‌ সেই সময় বিনিময়ের মাধ্যম ছিল গরু। ‌ কৃষিজাত উৎপন্ন দ্রব্যের মধ্যে যবের উল্লেখ পাওয়া যায়। ধান ও গম তখনও কৃষিজাত  দ্রব্যের তালিকাভুক্ত হয়নি। Dr. R.C.Roychoudhury -র মতে , শস্যের মধ্যে প্রধান ছিল ধান ও যব। কিন্তু ধানচাষ সম্পর্কে Dr.  Roychoudhury -র মতামত অনেকে সমর্থন করেন না।

ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় সেইযুগে আর্যরা গ্রাম-অর্থনীতি থেকে নগর-অর্থনীতিতে উত্তীর্ণ হতে পারেনি। ঋক্ বেদের যুগে আর্য সভ্যতা গ্রামীণ সভ্যতায় পরিণতি লাভ করে। এর ফলে আর্যদের অর্থনৈতিক জীবনে গ্রামপ্রধান অঙ্গরূপে স্থান গ্রহণ করে। সম্ভবত আর্যরা কৃষিজীবীতে পরিণত হলে তারা স্বনির্ভর গ্রামীণ ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একথা অনস্বীকার্য যে , ভারতের অর্থনৈতিক জীবনে গ্রামের গুরুত্ব আজও অপরিবর্তিত রয়েছে। 


     কেউ কেউ বলেন, ঋক্ বেদযুগের পরবর্তি সময় ব্যবসা-বাণিজ্য হতো।

"শক্তিশালী জমির মালিকরা ব্যবসা - বাণিজ্যের দিকে আকৃষ্ট হলে বণিক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এছাড়াও অসিরিয়া , ব্যাবিলন ও এশিয়ার কয়েকটি দেশের সাথে আর্যদের সামুদ্রিক বাণিজ্য চলতো। তবে বাণিজ্যিক কার্যকলাপ উপকূলরেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।" কিন্তু এই প্রসঙ্গে Cambridge History -র লেখক অন্যকথা  বলেছেন -  "The Indus was the natural outlet to the sea for the Aryan tribes , but in the Rigeda there is no clear sign that they had yet reached the occean ."


Basam - এর মতে নিয়মিত ব্যবসায়ী ও মহাজন বলতে যা বোঝায় ঋক বৈদিক যুগে তার অস্তিত্ব পাওয়া যায় না। তবে ঋণের উল্লেখ আছে। " There is no evidence of a regular class of merchants or money lenders , though indebtedness is sometimes referred to."[ Basam ]  

যোগাযোগ ব্যবস্থাও ছিল নিম্নমানের।

অথচ "শতপথ ব্রাহ্মণ"--গ্রন্থে বাণিজ্য উপলক্ষ্যে সমুদ্রযাত্রার উল্লেখ পাওয়া যায়।  ঋক্ বেদের শেষের পর্যায়ে অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের তথ্য মেলে কোন কোন গ্ৰন্থে। উত্তর ,পূর্ব ভারতে রাজগীর , গয়া , বৈশালী ইত্যাদি অঞ্চল ধরে বাণিজ্যের পথ নেপালের তরাই পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। পশ্চিমে বাণিজ্যপথ শ্রাবন্তী , মথুরা , ইন্দ্রপ্রস্থ ও তক্ষশীলা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। দাক্ষিণাত্যের দিকে এই বাণিজ্যপথ পৈথান পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল বলে অনুমিত হয়।


                 ঋক্ বেদের যুগেও তাদের সমাজ ছিল গোষ্ঠী বিভক্ত। ‌এই গোষ্ঠী রক্তের সম্পর্কের সম্বন্ধযুক্ত বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত ছিল। যেমন, জন্ বা বিশ্, গণ, গ্ৰাম, কুল, ব্রাত, শরধ প্রভৃতি। যাযাবর বৃত্তি ত্যাগ করে যখন বসতি গড়ে তুলেছিল, তখন সেই ভূভাগের নাম হয় 'জনপদ'।

বিশের তুলনায় ক্ষুদ্রতর ছিল গণ।  আর গণের চেয়ে ক্ষুদ্রতর গ্ৰাম। গ্রাম গড়ে উঠেছিল অনেকগুলি গৃহ নিয়ে। গৃহ বলতে বোঝায় একটি যৌথ পরিবার। সেখানে একটি বংশের চারপুরুষ একসঙ্গে বসবাস করত। এর অন্যনাম ছিল কুল।

পরিবার ছিল পিতৃতান্ত্রিক। ‌ পরিবারের কর্তাকে বলা হত গৃহপতি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ঘনিষ্ঠ। ‌ সন্তানের উপর পিতা-মাতা নিয়ন্ত্রণ থাকতো। পিতা ও পুত্রের সম্পর্ক ছিল স্নেহ ও শ্রদ্ধার। 

পিতৃতান্ত্রিক পরিবার হওয়ায় সকলে পুত্র কামনা করত। কিন্তু কন্যাকে অবহেলা করা হতো না। মেয়েরা পর্দানশীন ছিল না। স্ত্রী শিক্ষার সুযোগ ছিল। ঘোষা, বিশ্ববারা, অপলার মতো মহিলারা উচ্চশিক্ষার উচ্চতম স্তরে পৌঁছায়। তাঁরা মন্ত্র রচনাও করত। সেইসময়ে সমাজে বাল্যবিবাহের প্রচলন ছিল না। পতি নির্বাচনে মহিলার স্বাধীনতা ছিল।

কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও একপতিত্ব ছিল প্রচলিত রীতি।  বিধবা বিবাহের উল্লেখ মেলে। ‌ সতীদাহ প্রথার কোন প্রচলন ছিল না বা কোন উল্লেখ পাওয়া যায়নি। ‌ ধর্মাচরণের ক্ষেত্রে স্ত্রী-পুরুষ ভেদাভেদ ছিল না। ‌পণপ্রথা তথা কন্যাপণ প্রথা প্রচলিত ছিল। ‌ঋক্ বেদের কালে সমাজে যে কেউ ইচ্ছানুসারে বৃত্তি নির্বাচন করতে পারত। নৃত্যগীত,শিকার, মুষ্ঠিযুদ্ধ প্রভৃতি ছিল দৈনন্দিন আমোদ-প্রমোদের অঙ্গ। তবে জুয়াখেলা ও নর্তকী তথা গণিকালয় গমন  অপ্রচলিত ছিল না। জীবনের আনন্দের মুহূর্ত নিয়ে সঙ্গীত রচিত হত।

নারী ও পুরুষের বিশেষ পার্থক্য করা হতো না। পোশাকে বিভিন্ন রং ব্যবহার করা হতো। ‌ তিনটি অংশে একটি পোশাক বিভক্ত ছিল ---- নিবি বা অন্তর্বাস, বাস বা বহির্বাস ও অধিবাস বা আংরাখা। নারী-পুরুষ উভয়েই পাগড়ী পরিধান করতো বলে অনুমান করা হয়।।


==================================


তথ্যঋণ :

(১) সংস্কৃত সাহিত্যের ইতিহাস --- দেবকুমার দাস।

(২) ভারত অনুসন্ধান --- অঞ্জন গোস্বামী।

(৩) ভারতের আর্থ-সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা---

             ড: ভাস্কর চট্টোপাধ্যায়।

(৪) Society Of India --- Ram Ahuja.


__________________________________________


লেখক ••• সৌম্য ঘোষ। চুঁচুড়া। পশ্চিমবঙ্গ।




Post a Comment