যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

কবিতার সম্পর্কে ক্লাস বন্ধ করতে বলার জন্য এই প্রবন্ধের অবতারণা নয়।এই সমস্ত আলোচনা না হলে আমরা কবিতার শরীর বা এনাটমি জানতে পারব না।

কবিতার সম্পর্কে ক্লাস বন্ধ করতে বলার জন্য এই প্রবন্ধের অবতারণা নয়।এই সমস্ত আলোচনা না হলে আমরা কবিতার শরীর বা এনাটমি জানতে পারব না।একাধিক কবির কাব্য র
Story and Article

সকলেই কবি নয়,কেউ কেউ কবি
বিশ্বনাথ পাল

সকলেই কবি নয় ,কেউ কেউ কবি।কথাটা আমার নয়।রবীন্দ্র পরবর্তীকালে শ্রেষ্ঠ কবি জীবনানন্দ দাশের।এই ধারণা কবির কলম প্রসূত নয়।কবির মনন অভিজ্ঞতা আর চেতনার রসে জারিত এ কবিতা বিষয়ে কবির সঠিক জীবনবীক্ষা।কবিতা লেখা তাই শেখানো যায় না কবিতা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা তাই জোর করে কারো ওপর চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় না।

আরোপিত চিন্তা বা ধারকরা ধনে কবিতার বাগানে প্রকৃত সৌন্দর্য আনা সম্ভব নয়।উদাহরণ হিসাবে কৃত্রিম গোলাপে সেলফি নিলে কেউ কিছু মনে করবে না ঠিকই কিন্ত সেটাকে আসলবলে চালিয়ে দেবার ক্ষেত্রে কৌশলটি নকল নবিশীর গুণে একেবারেই অচল।রবীন্দ্রনাথ এ ব্যাপারে আশপাশের সাহায্যের চেয়ে কবির মনোবীক্ষণেই বরাবর বেশি জোর দিয়েছিলেন।"কবি তব মনোভূমি রামের জনম স্থান অযোধ্যার চেয়ে সত্য যেন।"

এই সত্যটাই কবিকে সত্যদ্রষ্টার ভূমিকায় পাকা আসন দেয়।কবি আর কলমচির মধ্যে আসমান জমিন তফাত। কবি কোন দিন কলমচি হতে পারেন না।কলমচির মধ্যে প্রাপ্তির বড় ঝুলি পতাকার মতো পতপত করে ওড়ে।সামান্য সুযোগ পেলেই তা ভর্তি করার জন্য তারা নিত্যনতুন দল বা আদর্শের হেঁসেলে ঢু মারেন।কবিরা কিন্তু দারিদ্র্যকে বুকে নিয়ে ও সময় বিশেষে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েও তাঁর লেখনীকে সচল রাখেন।'অন্তর হতে আহরি বচন গীতরস ধারা করি বিরচন সংসার ধূলিজালে।'এই তো কবির কাজ।অন্তরের ভেতরে চেতনার আলোতে যিনি পথ চলবেন তাঁকে অন্যের দেখানো টর্চে পথ চলতে বাধ্য করা ঠিক হবে না।কবিতা সৃষ্টি করা যায় না ।কবিতা স্বপ্রকাশ।হৃদয়ের তন্ত্রীতে ছন্দ ও ভাবের দোলায় সে একাই পথ চলতে সক্ষম ।

কবিতা তৈরী তাই কোন ল্যাবরেটরিতে যেমন হয় না।তেমনি রাষ্ট্রশক্তির বাতলে দেওয়া নির্দিষ্ট লেবার রুমে ঘড়ি দেখেও জন্মায় না।অনেকেই স্বপ্রণোদিত হয়ে বড় কবি বা মাতব্বর ভেবে কবিতা কি ভাবে লেখা যায় বা যাবে সে ব্যাপারে জ্ঞান দান করে আপন পাণ্ডিত্যের গরীমাটিকে প্রকাশ করেন সুযোগ পেলেই। ।পাঠক এখানে বলবেন, তা হলে কবিতার ক্লাস,কাব্য আলোচনা কিম্বা ছন্দ বা অলংকারের ক্লাস আর কবিতার গঠনগত শৈলীর ক্লাস তো বন্ধ করতে হবে।

কবিতার সম্পর্কে ক্লাস বন্ধ করতে বলার জন্য এই প্রবন্ধের অবতারণা নয়।এই সমস্ত আলোচনা না হলে আমরা কবিতার শরীর বা এনাটমি জানতে পারব না।একাধিক কবির কাব্য রসের হেরফের আমাদের ঘিলুতে চাখতেই পারবো না।আমার বক্তব্য একটাই ভাষা ও ভাবের বন্ধনে কবিতার শরীরে প্রাণ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অন্যকারো সাহায্যের প্রয়োজনয়তা একেবারে ই জরুরী নয়।তাই কবিতার জন্ম প্রাতিষ্ঠানিক পরিমণ্ডলে না থেকেও দিব্যি হতে পারে। আদি কবি বাল্মিকীর কবিতা তো শরাহত কৌঞ্চকে দেখে প্রথম কবিতা লিখেছিলেন।শোক থেকে সৃষ্টি বলে নাম দিয়েছিলেন শ্লোক।

ঠিক যেমন টি বিশ্বকবির নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ হঠাৎ করেই তিনি লিখে ফেলেন কবিতার টার্নিং পয়েন্ট এটাই।আবার অমুক তারিখে ঠিক এই সময় বিদ্রোহী কবিতা লিখব বলে রাত জেগে কলম খুলে বসেছিলেন না বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলাম ।তিনি তো পড়াশোনা তেমন করেন নি ।ডিগ্রি নাই বলে আমরা যারা ডিগ্রি ধারী বলে তাদের কবিতা লেখার জ্ঞান দিই বা দিতে চাই বিদ্যালয় বা মহাবিদ্যালয়ের পড়ানোর যোগ্যতার ছাপ কথায় কথায় জাহির করি ।

বাজারী পত্র পত্রিকায় দু চারটা কবিতা প্রকাশ করে জ্ঞান দেওয়ার অধিকারী মনে করি তাদের ডিগ্রীর পাশে নজরুল বা রবীন্দ্রনাথের ডিগ্রী শূন্যতা ফাঁকা হলেও ।কবিতার নির্যাস বা মহুল তৈরীর ক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছেন তা হাজার চেষ্টায় পাওয়া যাবে না।তা হলে কবিতা ?স্বত্রস্ফূর্ত হৃদয়ের আবেগ ।যা পরে পাওয়া পাঁচ আনার মতো নয়।সুকান্তের কথা যদি ভাবি একুশ বছরের তরতাজা ছেলেটার কবিতার ভুল শুধরে দিতেন যিনি সেই সুভাষ মুখোপাধ্যায়ের কবি হিসাবে স্বীকৃতি জুটেছে কবে?আবার অনেকে বলেন নেশা টেশা কর নইলে লিখবি কি করে?শক্তি সুনীলদের দেখ।"এখানে গাভীর মতো মেঘ চরে বারোমাস " এই লাইন কি পিপে পিপে মদ খেলেই লেখা যাবে?

তা হলে কবিতা লেখা যেমন ডিগ্রীতে হয় না তেমনি পড়াশোনাতেও হয় না।গ্রীক কবি হোমার তো জন্মান্ধ ছিলেন।এই বাংলাভাষাভাষির দেশে ভাষার চাষা এমন আছেন যারা বিদ্যালয়ের দিকে মুখ করেন নি জীবনে কিন্তু ফড়ফড় করে কবিতা রচনা করেন।এই দেশের বেশীরভাগ ছড়া তাদেরি লেখা।

তাই যার হৃদয়ে থাকবে কবিতার বীজ সে অঙ্কুরিত হবেই।বটের বীজ দশতলা ফ্লাটে থেকেও মহীরুহ হয় একথা যেন আমরা ভুলে না যাই।




1 comment

  1. খুব সুন্দর একটা লেখা পড়লাম এবং অবশ্যই একমত। ভালো থাকুন।