যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

আমাদের গড়ে তুলেছে একজন সমাজ সচেতক মানুষ হিসেবে।

প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছিলাম আমার স্কুলে। প্রাথমিক স্কুলের প্রজাতন্ত্র দিবসের স্মৃতি আজ আলো আঁধারিতে মিশে গিয়েছে।কিন্তু উচ্চ বিদ্যালয়ের স্

 

Story and  Article




স্কুল জীবনে প্রজাতন্ত্র দিবসের স্মৃতিচারণা

প্রিয়াঙ্কা ঘোষ

২৬শে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবস।ভারতের জন্য এক বিশেষ দিন।এই দিনটি ভারতের জাতীয় দিবসও বলা যেতে পারে।১৯৫০ সালে এই দিনটিতে ভারতীয় গণপরিষদ সংবিধান কার্যকরী হয়েছিল এবং ভারত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল। প্রত্যেক বছরই সমগ্র দেশজুড়ে এই মহান দিনটি বিশেষভাবে উদযাপিত হয়।চারিদিকে বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠান হয়।

প্রথম প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপন করেছিলাম আমার স্কুলে। প্রাথমিক স্কুলের প্রজাতন্ত্র দিবসের স্মৃতি আজ আলো আঁধারিতে মিশে গিয়েছে।কিন্তু উচ্চ বিদ্যালয়ের স্মৃতিগুলো মনের অলিগলি থেকে আজও উঁকি দিয়ে যায়।তাই সেই দিনগুলোকেই আবারও রোমন্থন করা হলো।

আমাদের স্কুলে প্রত্যেক বছরই প্রজাতন্ত্র দিবস পালিত হতো এবং এই বিশেষ দিন উপলক্ষ্যে ছোটো করে একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হতো।আমার বেশ মনে আছে প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন ভোরবেলা স্কুলে যেতাম।স্কুল বাউন্ডারির মধ্যেই একটা ফাঁকা জায়গায় একটা বেদী করে সেখানে একটা বাঁশ পুঁতে তাতে পতাকা অর্ধনমিত অবস্থায় টানানো হতো।বাঁশটি আগে থেকেই সাদা রঙ করে রাখা হতো এর সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য এবং বেদীটিতেও সাদা রঙ করা হতো। এই কাজগুলো প্রজাতন্ত্র দিবসের আগের দিন স্কুল ছুটির পরে স্কুলের উঁচু ক্লাসের মেয়েরাই করে আসতো।আমরাও করেছিলাম। সেই বাঁশে টানানো পতাকার সঙ্গে গাঁদা ফুল এবং অন্যান্য ফুল থাকতো। তারপর আমাদের শ্রদ্ধেয় বড়ো আন্টি বন্দেমাতম স্লোগানে পতাকা উত্তোলন করতেন তাঁর সঙ্গে থাকতেন স্কুলের সকল শিক্ষিকা এবং অন্যান্য কর্মীরা।আমরা সেকশান অনুযায়ী লম্বা লাইন করে দাঁড়াতাম।সবাই সমস্বরে বড়ো আন্টির সঙ্গে বন্দেমাতরম বলে উঠতাম।আমাদের স্লোগানে স্কুল বাউন্ডারি উদ্দীপিত হতো। সে যেন রোমহর্ষক উপলব্ধি। তারপর শুরু হতো বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।নাচ,গান,আবৃত্তি প্রভৃতি বিষয়ে স্কুলের মেয়েরা অংশগ্রহণ করতো। নৃত্যানুষ্ঠানে আমিও অংশগ্রহণ করতাম।দেশাত্মবোধক গানে মেতে উঠতো স্কুল প্রাঙ্গণ। আমরা মুগ্ধ হয়ে এই অনুষ্ঠানকে উপভোগ করতাম সেই সঙ্গে দেশের প্রতি শ্রদ্ধায় ভরে উঠতো হৃদয়।অনুষ্ঠান শেষে আমরা টিফিন পেতাম। এর সঙ্গে একটা ভীষণ ভালোলাগা লুকিয়ে থাকতো। এরপর সবাই সেই দিনের আমেজ বহন করে বাড়ি ফিরে আসতাম।স্কুল আমাদের শিখিয়েছে দেশমাতৃকার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে,দেশকে ভালোবাসতে এবং আমাদের গড়ে তুলেছে একজন সমাজ সচেতক মানুষ হিসেবে। স্কুলের এই অবদান অনস্বীকার্য। স্কুল জীবনের সেই প্রজাতন্ত্র দিবস উদযাপনের স্মৃতি মনের গভীরে জ্বলজ্বল করছে।।


© প্রিয়াঙ্কা ঘোষ

Post a Comment