যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

বাঁশিওয়ালার ছেলে বাঁশিওয়ালাই হবে । এতে এতো কথার কি আছে ? এটা হল ভারতবর্ষ ।

বাঁশিওয়ালার ছেলে বাঁশিওয়ালাই হবে । এতে এতো কথার কি আছে ? এটা হল ভারতবর্ষ ।
Story and Article



 বাঁশিওয়ালার ছেলে 

 কলমে রথীন্দ্রনাথ রায়


বাঁশিওয়ালার ছেলে বাঁশিওয়ালাই হবে । এতে এতো কথার কি আছে  ? এটা হল ভারতবর্ষ । এখানে জন্মের ভবিতব্যই লিখে দেয় সন্তানের ভবিষ্যত । কিন্তু বাঁশিওয়ালা লোকটা ভাবত অন্যরকম । সে ভাবত তার ছেলে বাঁশি তৈরি করে বিক্রির জন্য মেলায় মেলায়  , পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াবেনা । তার ছেলে অনেক লেখাপড়া শিখবে, সমাজের ওপরতলায় উঠবে এবং তার মুখ উজ্জ্বল করবে । সুযোগ পেলেই সে ছেলের পড়াশোনায় মনোযোগের কথা, সাফল্যের কথা পাঁচজনকে শোনাতে । তাতে কেউ কেউ আড়ালে উপহাসও করত । কিন্তু বাঁশিওয়ালা তাতে ভ্রুক্ষেপও করতনা । 

  সেবার বুড়োরাজের মেলায় গেল অনেক বাঁশি নিয়ে । ছেলেমেয়েদুটো রাত জেগে তৈরি করে দিয়েছে । ওদের চোখেমুখেও অনেক প্রত্যাশা । বাঁশি বিক্রি করে তাদের অনেক টাকা হবে । তার থেকে মিটবে ওদের অভাব । যাবার সময় বাঁশিওয়ালার ছেলেমেয়েদুটো  কাছে এসে বললে  , তুমি সাবধানে যেও কিন্তু । 

-- হ্যাঁ রে, যাবো । কিন্তু তোরা সাবধানে থাকিস । 

দেরি করলনা বাঁশিওয়ালা । চলতে থাকে সে ।

 কিন্তু সে ওদের জন্য না পারে ভালো খাবার, পোশাকের ব্যবস্থা করতে । না পারে বইপত্তরের ব্যবস্থা করতে । তবু ওরা পরীক্ষায় ভালো ফল করে । মাষ্টারমশায়রা ওদের খুব প্রশংসা করে । এমনকি ছেলেটা বাঁশিতে ভালো সুরও তুলতে পারে । আর মেয়েটাও সেই সুরের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইতেও পারে । গর্ব হয় বাঁশিওয়ালার । 

মেলায় যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই বাঁশিওয়ালার ছেলে বিকেলে অপেক্ষা করত তার বাবার জন্য । সেদিনও অপেক্ষা করছিল । হঠাৎ আকাশে খুব ঘন মেঘ জমতে শুরু করল । মনে হল এখনই বোধহয় ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে । সে বাঁশিতে একটা সুর তুলল । যে সুরের সে নাম জানেনা ।কিন্তু সেই সুরটা গিয়ে পৌঁছাল এক ধনীর অট্টালিকায় । ওই ধনীলোকটির একমাত্র মেয়ে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত । কোনও চিকিৎসাতেই কাজ হয়না । ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে সে । সেই মেয়েটি আজ এই সুর শুনে বিছানা থেকে উঠে মাকে বলল  , মা ওই বাঁশিওয়ালাকে ডাকো । আমি ওর সুর শুনবো । 

বাঁশিওয়ালার ছেলেকে আসতেই হল । ওরা বলল  , তোমাদের কোনও অভাব থাকবেনা । শুধু আমার মেয়েটাকে বাঁচিয়ে দাও । 

সেদিন বাঁশির সুর শুনে মেয়েটি তার রোগযণ্ত্রণা অনেকটাই ভুলে গেল । সে বাঁশিওয়ালাকে বলল  , তুমি রোজ আসবে । আমাকে বাঁশি শোনাবে । 

বাঁশিওয়ালা ভাবল কি আছে তার বাঁশিতে  ? যা শুনে মেয়েটি তার রোগযণ্ত্রণা অনেকটাই ভুলে গেল ? তার বাবা বাড়ি ফিরে বলল  , তুমি খুব ভালো করেছ বাবা । তবে টাকাপয়সা নিওনা । কারণ সুর হল সরস্বতীর দেওয়া । তা বিক্রি করতে নেই । 

একটু একটু করে ভালো হয়ে উঠছিল মেয়েটি । ডাক্তার বলল, মিরাকল্ । 

সেদিনও বাঁশিতে সুর তুলল সে । তবে বড্ড করুণ সে সুর । না চাইলেও বাঁশিতে সেই সুরই বাজতে থাকল । অজান্তেই বাঁশিওয়ালার চোখ থেকে অশ্রু ঝরতে থাকল । যখন সুর থামল তখন সবাই দেখল মেয়েটি কখন ঘুমের মধ্যেই মারা গেছে । 

কাঁদল বাঁশিওয়ালার ছেলে । ঠিক অর্ফিয়াসের মতোই । 



 ( শেষ  )


Post a Comment