যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

আমি অনেকবার তোমার খোঁজ করতে চেয়েছি, কিন্তু মা বার বার বাধা দিয়েছে । তুমি আমাদের বাঁচাও বাবা ।

সামান্য একটা বাড়ি কেনা নিয়ে এতো বড়ো কথা হজম পারলনা সে । পরপর দুদিন বাড়ি ফিরলনা । স্ত্রী বা মেয়েরা কেউ ফোনও করলনা । আরও অপেক্ষা করল । ভাবল রাগ পড়লে নিশ

  

Story and Article

বাবা 

 কলমে রথীন্দ্রনাথ রায়

-- বাবা !

কণ্ঠস্বরটা বেশ জোড়ালো । কিন্তু কে ডাকলো  ? যতীন মুখুজ্যে একসময় সংসারী ছিল । দুই মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে তার ভরা সংসার । একটা বাড়ি কিনতে গিয়েই বাধল অশান্তি । বাড়িটা ছিল এক মুসলিমের । স্ত্রীর না পসন্দ । মানতে পারলনা সে । স্ত্রী এমনিতেই শুচিবায়ুগ্রস্ত । তার ওপর মুসলিম । সুতরাং বলল  , হয় ও বাড়ি কেনা বন্ধ করতে হবে নতুবা আমাকে ছাড়তে হবে । 

সামান্য একটা বাড়ি কেনা নিয়ে এতো বড়ো কথা হজম পারলনা সে । পরপর দুদিন বাড়ি ফিরলনা । স্ত্রী বা মেয়েরা কেউ ফোনও করলনা । আরও অপেক্ষা করল । ভাবল রাগ পড়লে নিশ্চয় ফোন করবে । নিজে ফোন করতে গিয়ে দেখল কেউ কেটে দিচ্ছে । এভাবে অনেকদিন, অনেকগুলো বছর কেটে গেল । তা প্রায় দশবারো বছর হবে । আজ এতো বছর পরে একবার মাত্র ' বাবা ' ডাকটা শুনতে পেয়ে তার হৃদয় উদ্বেলিত হয়ে উঠল । ততক্ষণে মেয়েটি সামনে এসে দাড়িঁয়েছে । 

-- বাবা, আমি সুনন্দা । 

-- সুনন্দা, মা রে কতোদিন দেখিনি । ভালো আছিস তো মা ? তোর দিদি কেমন আছে রে  ? আর তোর মা  ? 

সুনন্দা কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল  , আমরা কেউ ভালো নেই বাবা । 
-- কি হয়েছে বল আমাকে  ? 

-- দিদি আর আমাদের মধ্যে নেই । না খেতে পেয়ে পেয়ে মাও মৃত্যুশয্যায় । আমি অনেকবার তোমার খোঁজ করতে চেয়েছি, কিন্তু মা বার বার বাধা দিয়েছে । তুমি আমাদের বাঁচাও বাবা । 

-- আর কোনও চিন্তা নেই রে মা । তোর মায়ের কাছে আমাকে নিয়ে চল । 

পুরনো ভাড়া বাড়ি ছেড়ে ওরা একটা এঁদো বস্তিতে উঠে এসেছে এক কামরার ঘরে ।  কঙ্কালসার চেহারা অজন্তার । শয্যাশায়ী । 
-- মা ? 
ক্ষীণকণ্ঠে সাড়া দিল অজন্তা । বলল, আলমারিটা কিনবে ওরা  ? না কিনলে আমাদের যে আর চলবে না । 
-- মা দেখো কে এসেছে  । 

-- কে  ?
বিছানায় বসল যতীন । অজন্তার হাতটা তুলে নিয়ে বলল  , তুমি আমাকে এতোটা শাস্তি দিলে  ? 

-- আমি হয়তো আর বাঁচবোনা । মেয়েটাকে দেখো । আমাকে ক্ষমা কোরো । 

-- অজন্তা  ? 
কাঁদতে কাঁদতে অজন্তাকে বুকে টেনে নিল যতীন । 


 ( শেষ  )

Post a Comment