যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

অনুসূয়ার প্রথমে তিন অচেনা অতিথিকে বক্ষ খুলে স্তন্য পান করানোর কথা ভেবে খুব সংকোচ হলেও, স্বামীর কথায় তিনি কোন আপত্তি করতে পারলেন না।

অনুসূয়ার প্রথমে তিন অচেনা অতিথিকে বক্ষ খুলে স্তন্য পান করানোর কথা ভেবে খুব সংকোচ হলেও, স্বামীর কথায় তিনি কোন আপত্তি করতে পারলেন না।

 

Story and Article


অণুগল্প


[ পুরাণ-কাহিনী ]

অসূয়া

শংকর ব্রহ্ম


শুধু মর্তে কেন? পুরাণেও দেখা যায়,স্বর্গের দেবীরাও ঈর্ষা (অসূয়া) মুক্ত ছিলেন না।

অত্রি মুনির স্ত্রী ছিলেন,অনুসূয়া ছিলেন অপূর্ব রূপবতী ও গুনবতী। যার গর্ভে দুর্বাসা মুনির জন্ম হয়েছিল। তার সতীত্বের খ্যাতি জগৎ-জোড়া।

অনুসূয়ার সতীত্বের খ্যাতি, এই মর্তলোক ছাড়িয়ে, স্বর্গের দেবলোকেও ছড়িয়ে পড়েছিল।

তাতে স্বর্গের দেবীরা (সরস্বতী,লক্ষ্মী,দূর্গা) বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন।তারা ভেবেছিলেন, অনুসূয়ার সতী হিসাবে এতোটা নামডাক হয়ে গেলে, কেউ আর তাদের মর্তলোকে পূজা পাঠ করবে না।

ফলে তারা সেই ভয়ে ভীত ও ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়লেন।তারা তিনজনে একত্র হয়ে তাদের স্বামীদের - ব্রহ্মা বিষ্ণু মহেশ্বরকে মর্তলোকে গিয়ে অনুসূয়ার সতীত্বের পরীক্ষা নিতে বললেন। প্রথমে ত্রিদেব (ব্রহ্মা,বিষ্ণু,মহেশ্বর) কেউই মোটেও তাতে রাজী ছিলেন না।

কিন্ত শেষ পর্যন্ত তাদের স্ত্রীদের অবুঝ পীড়াপীড়িতে বাধ্য হয়ে, মর্তলোকে অত্রি মুনির আশ্রমে এসে হাজির হলেন তরুণ সন্ন্যসীর রূপ ধারণ করে। অত্রি মুনি তাদের রূপ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়ে পড়লেন। তাদের তিনজনকে সমাদর করে এনে, আশ্রমের ভিতরে বসালেন। এবং তাদের বললেন,আপনাদের জন্য আমি কি সেবা করতে পারি?

অত্রি মুনির কাছে, তিন সন্ন্যসী জানালেন, তার দীর্ঘদিন অভুক্ত থেকে তপস্যায় রত ছিলেন। এবার তারা অনুসূয়ার স্তন্য পান করে তপস্যা ভঙ্গ করবেন বলে ঠিক করেছেন।

অত্রি মুনি তাদের মুখে শুনে একটু আশ্চর্য হলেও, অতিথিকে নারায়ণ ভেবে অনুসূয়াকে আদেশ করলেন, তাদের ইচ্ছে পুরণ করবার জন্য।

অনুসূয়ার প্রথমে তিন অচেনা অতিথিকে বক্ষ খুলে স্তন্য পান করানোর কথা ভেবে খুব সংকোচ হলেও, স্বামীর কথায় তিনি কোন আপত্তি করতে পারলেন না।

তিনি তাদের প্রস্তত হতে বলে, আশ্রমের পর্ণ কুটিরে ঢুকে বক্ষ আবরণী খুলে, বস্ত্র দিয়ে বক্ষ ঢেকে, তাদের সামনে এলেন।

স্বর্গ থেকে সেই দৃশ্য দেখে সরস্বতী, লক্ষী, দূর্গার মনে আনন্দ আর ধরে না। তারা ভাবলেন, অনুসূয়া এবার আর সতীত্ব রক্ষা করতে পারবে কি? তারা আনন্দে এ ওর গায়ে ঢলাঢলি করে পড়ে হাসতে লাগলেন খুশিতে। তিন তরুণ সন্ন্যাসীর স্তন্য পান করার পর অনুসূয়া আর তার সতীত্ব ধরে রাখতে পারবেন না নিশ্চিৎ। উত্তেজিত হয়ে পড়ে সতীত্ব বিসর্জন দিতে বাধ্য হবেন তাদের কাছে।

যখনই অনুসূয়া তাদের স্তন্য পান করাবার জন্য কাছে এলেন, তিন দেবতা ততক্ষণে শিশুতে রূপান্তরিত হয়ে গেছেন।

তারা স্তন্য পান করে তৃপ্ত হয়ে,অনুসূয়াকে ছেড়ে দিয়ে নিজেদের মধ্যে খেলায় মত্ত হয়ে উঠলেন।

স্বর্গ থেকে সেই দৃশ্য দেখে সরস্বতী, লক্ষ্মী, দূর্গার সম্বিত ফিরল এবার। তার তখন নিরুপায় হয়ে মর্তলোকে নেমে এসে , অত্রি মুনির আশ্রমে হাজির হলেন। অনুসূয়ার কাছে ক্ষমা চেয়ে কাকুতি মিনতি শুরু করলেন, সেই তিন দেবতাকে স্বরূপে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। অনুসূয়া প্রথমে তাদের কথায় রাজী হলেন না। তখন তিন দেবী অত্রি মুনির পায়ে এসে পড়লেন। 'এ কি করছেন, এ কি করছেন' - বলে অত্রি মুনি তিন হাত পিছিয়ে সরে গেলেন। দেবীরা তবু তাকে ছাড়ার পাত্র নয় ।

শেষে অত্রি মুনি অনুসূয়াকে অনুরোধ করলেন দেবীদের ইচ্ছা পুরণ করবার জন্য।

অবশেষে অনসূয়া তার স্বামীর কথায়, সেই তিন দেবতাকে তাদের স্বরূপে ফিরিয়ে দিলেন। তখন তিন দেবী তাদের স্বামীদের নিয়ে মানে মানে স্বর্গে ফিরে গেলেন।





Post a Comment