যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

একরাশ শুভেচ্ছা । প্রিয় কবির জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানায়। আপনাদের চলার পথে আমার এই নিবেদন টুকু তুলে দিলাম।

এই ভাবনায় বিশ্বাসী কবি কে জন্ম দিনে হার্দিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। শুভেচ্ছান্তে আবদুস সালাম প্রয়াস, শ্রীকান্তবাটি,মাদারল্যান্ড ডাক রঘুনাথগঞ্জ মুর্
Story and Article



একরাশ শুভেচ্ছা । প্রিয় কবির জন্মদিন পালনের সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানায়। আপনাদের চলার পথে আমার এই নিবেদন টুকু তুলে দিলাম।

শুভেচ্ছা সহ আবদুস সালাম


"সবার উপর মানুষ সত্য তাহার উপর নাই"---- দর্শনের কবি তৈমুর খান


 আবদুস সালাম।

 নিজের বিন্দু বিন্দু ক্ষয়, দুঃখ, মন খারাপ, ,জীবিকার জন্য লড়াই ,তারপর চাকরি । পাড়া-প্রতিবেশী আত্মীয় স্বজনদের প্রতিক্রিয়া ,সামাজিক অবক্ষয় এই নিয়ে যিনি সাহিত্যের আসরে অবতীর্ণ হয়েছেন  তার নাম তৈমুর খান ।নিজের জীবনের সবটুকু দিয়ে  নিরলস সেবা করে চলেছেন সাহিত্যের। সাহিত্যের আঙিনায় তারে লেখা সকল পাঠক পাঠিকার মনে নিকট আত্মীয়  তৈমুর খান হয়ে গেছেন। বাল্য জীবন থেকে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের ভিতর দিয়ে উঠে এসে আজ সফলতার চূড়ায় অবস্থান করছেন। তার এই  নিরলস পথচলা এবং তার প্রকাশ বিদগ্ধজনের মনে দাগ কেটে দিতে পেরেছেন । কৌতুহলী পাঠক খুঁজে চলেছেন সেই তৈমুরকে   যিনি দিয়ে চলেছেন তার অভিজ্ঞতার ফসল। আমাদের নিকট আত্মীয়, স্বজনের সর্বজন ।

  কবি তৈমুর খান জন্মেছেন বীরভূমের মাটি তে।       দারিদ্র্যের     কঠোর শাসন, বিদ্রোহের কঠিন শপথ  উন্মাদ করে তুলেছিল কবি মনকে । তাইতো তার কবিতায় প্রতিবাদের সুর ধ্বনিত হয় বারবার।  এই প্রতিবাদের হাতিয়ার কে অবলম্বন করে তিনি লিখে চলেছেন কবিতা । ১৯৬৭সালের ২৮ জানুয়ারি এক দরিদ্র পরিবারে  কবির  জন্ম ।বাবার নাম জিকির খান । তিনি যেন পাকের ভিতর পদ্মফুল।  

  ১৯৮৫ সালে কলেজ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে তার কবি জীবনের প্রকাশ।  হতাশা আর দারিদ্র্য তাকে মহান করেছে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই। শত দারিদ্রের বন্ধন ছিন্ন করে নানা  বাঁক ও ভাঙনের পথ অতিক্রম করে এগিয়ে  চলেছেন।

"মানুষ কেন মানুষ না, সভ্যতা কোন সংবেদনশিল হবে না, মানুষের থেকে ধর্ম কেন  বড় হবে"-- এই ধরণের  নানা প্রশ্ন তার মাথায় ঘুরপাক খায় অবিরত। বিচ্ছিন্নতার দূর্বাঘাস কবির  জীবনকে রিক্ত যেমন করেছে তেমনি লৌহ কঠিন হয়ে উঠতেও সাহায্য করেছে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ফসল তার কবিতার বিষয়বস্তু  ও উপজীব্য হয়ে উঠেছে ।   বহু  পত্রিকার সম্পাদক ফেলে দিয়েছেন তার কবিতা । তখন ডাক মারফত লেখা পাঠানোর চল ছিল। এখনকার মতো   ইমেইল, হোয়াইটসআ্যপ ছিল না পান্ডুলিপির ভিতরে একখানা জবাবি পোস্ট কার্ড ভরে দিতে হতো ।   অনেক সম্পাদক হয় কবিতা ফেলে দিয়েছেন নয়তো সৌজন্যমূলক লিখেছেন এগুলো কি কবিতা হয়েছে ? ভেতরে ভেতরে জর্জরিত হয়েছেন । আবেগমথিত কবিতাগুলো মথিত হয়ে ঠাঁই পেয়েছে পরিত্যক্ত ঝুড়িতে । কবিতা একদিন স্থান পায় দেশ পত্রিকায়  । সালটা ২০০২ ।কবিতার নাম" ঘাস কাটা " । এই কবিতা কবিকে কবিতার জগতের  বিদগ্ধ ব্যাক্তিগণের নজরে এনে দেয় । অনেকেই তখন খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন ।এই থেকেই আর কবিকে পেছনে তাকাতে হয়নি । দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে তার কলম । কবিতায় নিজস্ব দর্শন তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন ।    নিজের মধ্যেই তিনি খুঁজে পান পৃথিবীর রূপ, ভালোবাসা, অভাব, অভিযোগ ,যাতনা ,যন্ত্রণা ।সবকিছুই যেন  নিজস্ব আঙ্গিকে ধরা দিয়েছে ,তুলে ধরছেন তার কবিতার প্রতি পংক্তিতে। আত্মদর্শী কবি  এভাবেই নিজেকে খুঁজে পান ।তাই তিনি উচ্চারণ করেন-- "নিজেকে শুধু অন্ধকারে রাখি

 আর ভাষাহীন চিঠি তোমাকেই শুধু লিখি

 এত আগোছালো পথ কোন পথ দিয়ে যায় "


আত্মদ্বন্দ্ব যন্ত্রণা ফুটে ওঠে তার কবিতায়।

     কবিতার ব্যাকরণ মেনে তার কবিতা এগোয়না। তিনি ব্যাকরণ সৃষ্টি করেন। বহুমুখী বৈচিত্রের সমন্বয়ে বিনির্মাণ করে চলেছেন তার সৃষ্টি ।কবিতায় সকল রকমের সমাহার আমাদের চোখে পড়ে-- কিউবিজম, ফবিজম, ,সুররিয়ালিজম, পোস্টমর্ডানিজম সবই যেন তার দখলে। বাস্তবতার উলঙ্গ প্রচ্ছদকে আত্মসত্তার বিনির্মাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন।

" অপমান "কবিতায় তাই তিনি  লিখেছেন       "রক্ত হিম হইতে লাগিল

 দলে দলে অপমান আসিতেছে

 আত্মরক্ষার কৌশলরা সবাই পলায়ন করিয়াছে

একা আবর্জনার স্তূপে দাঁড়াইয়া আছি---"


" উজ্জীবন" কবিতায় বলেন

 মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে 

আর গরম মাথা নিয়ে তোমার কাছে আসছি বারবার

 মাথায় একটু জল ঢেলে দাও--"

 "বিজ্ঞাপন" কবিতায়  লিখছেন-

 এক তস্তরী শূন্যতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি


 জীবনের খণ্ড খণ্ড চেতনার অবিন্যস্ত ঢেউ ,টুকরো টুকরো জীবনের কুড়িয়ে আনা অশ্রুভেজা কণ্ঠস্বর তার কবিতায় ফুটে উঠেছে বারবার । তিনি আমাদের মরমী কবি  তৈমুর খান। তার কবিতা গদ্য পড়তে পড়তে মনে হয় এইসব কথাতো আমাদের কথা।

   মানবতার অপমান কবিকে বারবার বিধ্বস্ত করে ।তিনি সবসময় মানবতার জয়গান গেয়ে চলেছেন ।জাত ,ধর্ম বর্ণ ,সম্প্রদায় ,সবার ঊর্ধ্বে ।"সবার উপর মানুষ সত্য "এই বিশ্বাস নিয়ে তাঁর সৃষ্টি আমাদের উপহার দিয়ে চলেছেন ।তিনি একটি প্রবন্ধে অকপটে স্বীকার করেছেন "মানুষ হওয়ার সাধনা টি আমার স্বপ্ন হয়ে উঠেছে। কিন্তু মানুষ হওয়ার পথ মসৃণ নয় ।পারিপার্শ্বিক অনেকেই আমাকে পছন্দ করেন না, এমনকি সহ্য ও করতে পারেন না ।তাদের প্রশ্ন হল কেন মানুষ হবি ? মুসলমানরা কখনো মানুষ হয় ?ওরাতো সন্ত্রাসবাদি হয়। আর তোর নামটাও তো এক সন্ত্রাসবাদি নাম ।যে সম্প্রদায়ে তোর  জন্ম সেই সম্প্রদায়ের মানুষ  তো মানুষ হয় না ! সোশ্যাল মিডিয়া  ছাডাও পার্থিব্য আক্রমনের শিকার হয়েছেন বারবার। আক্রমণের পাহাড় ডিঙিয়ে  মেরুদন্ড সোজা করে তিনি  উপহারদিয়ে চলেছেন তার অপূর্ব সৃষ্টি । অভিমানী কবির  জন্মদিনে একরাশ শুভেচ্ছা । যন্ত্রণালব্ধ কবি সবসময় বলে চলেছেন "পৃথিবীতে মানুষ কখনই সভ্য হবে না । হিন্দু-মুসলমান করে করে এ সমস্ত জীবন কাটিয়ে দিবে! মানুষকে ভালোবাসা যে ধর্ম এটা মানুষ কখন উপলব্ধি করবে?

 অক্ষরে অক্ষরে স্বামী বিবেকানন্দের কথা মনের ভেতর তার গ্থিত আছে।  আপনি    আমাদের উপহার দিন আমরা আপ্লুত হই জন্মদিনে কোভিদ প্রতি এই স্মৃতি তর্পণ টুকু তুলে দিলাম যন্ত্রণা সবসময় বলে চলেছেন পৃথিবীতে মানুষ কখনোই কখনই সভ্য হবে না হিন্দু-মুসলমান করে সমস্ত জীবন কাটিয়ে দিবে। মানুষকে ভালোবাসা ও  যে ধর্ম এটা মানুষ কখনো উপলব্ধি করবে? স্বামী বিবেকানন্দের কথা মনের ভেতর যার কথিত আছে যে ধর্ম ক্ষুধিতের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারেনা বিধবার অশ্রু মুছে পারেনা তা ধর্ম নয়।

 স্বামী বিবেকানন্দের কথা অন্তরে তার গ্রথিত হয়ে আছে। তিনি সবসময় মনে রাখেন "যেধর্ম ক্ষুধিতের মুখে অন্ন তুলে দিতে পারে না, বিধবার অশ্র মোছাতে পারে না  তাই ধর্ম ই নয়"

 এই ভাবনায় বিশ্বাসী কবি কে জন্ম দিনে হার্দিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

 শুভেচ্ছান্তে আবদুস সালাম

প্রয়াস, শ্রীকান্তবাটি,মাদারল্যান্ড

ডাক রঘুনাথগঞ্জ মুর্শিদাবাদ ৭৪২২২৫

৯৭৩৪৩৩২৬৫৬

২৬/০১/২০২২


 

2 comments

  1. প্রিয় কবির জন্য শুভকামনা রইলো।
    খুব ভালো লাগছে স্টোরি এন্ড আর্টিকেল ডট কমের এই প্রয়াস কে।
    আমার উপহার টুকু তুলে ধরার জন্য।
  2. ধন্যবাদ জানাই ।