যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

তখন আমাদের বাসায় ছিল মাটির চুলা। কাঠের লাকড়ি ব্যবহার করা হতো। বাসার পেছনেই প্রচুর মাটি ছিল ।

তখন আমাদের বাসায় ছিল মাটির চুলা। কাঠের লাকড়ি ব্যবহার করা হতো। বাসার পেছনেই প্রচুর মাটি ছিল ।

Story and Article

 

কথা ও ভাবনা : ৮৪

নাসির আহমেদ

আমার শৈশবে লালবাগ এলাকায় যে বাসাটায় আমরা থাকতাম সেখানে সামনের দিকে ছিল একটা বিশাল সবুজ লন । পিছনে ছিল অনেক খালি জায়গা। ঝোপঝাড় , বট, বরই, নিম, সজিনা ইত্যাদি নানা গাছে ভরা। লনের একপাশে ছিল অনেকগুলো মানকচুর গাছ ।

কয়েকটা বাসার পরেই ছিল সমিরউদ্দিন চাচার বাসা। বাসার ভিতর ছিল একটা বড়ো গোলাপ বাগান । বাসার সামনের দিকে তাঁদের ছাপার কারখানা । সাদা কাপড়ে সেখানে নানা রঙের ফুল লতাপাতার নকশা কাঠের ছাচে রঙ ভরে কারিগররা ছাপ দিতো । কতোদিন আমি ওদের কাছে গিয়ে আশ্চর্য তন্ময়তায় ছাপার কাজ দেখতাম। গল্প জুড়ে দিতাম ।

সামনের পরিষ্কার ড্রেন দিয়ে ছাপানোর পরে কাপড় ধুয়ে ফেলার রঙিন পানি প্রবাহিত হতো । ভাবতাম এই পানি কোন নদীতে গিয়ে পড়ে ! অনেক সময় প্রবাহিত পানির গতিপথকে পা দিয়ে আটকে দিতাম । সুন্দর একটা শীতলতা বোধে মনটা ভরে যেতো । কিছুক্ষণ এভাবে থাকার পর পা ছেড়ে দিলে যেন ঝর্ণা হয়ে পানির ঢল নামতো!

প্রতিবেশী কোনো বন্ধু এক নতুন খেলার আমদানি করলো একবার। মাটি দিয়ে নানারকম জিনিস তৈরি করা। তখন আমাদের বাসায় ছিল মাটির চুলা। কাঠের লাকড়ি ব্যবহার করা হতো। বাসার পেছনেই প্রচুর মাটি ছিল । রেডিও আর ডালিম এ দুটো জিনিস আমি বেশি বানাতাম । এগুলো বানিয়ে শুকাতে দিতাম ছাদে । এরপর হলুদ আর চুন মিশিয়ে লাল রঙ বানিয়ে রঙিন করতাম সেগুলো ।


এরপর নতুন আইডিয়া মাথায় আসলো মাটি দিয়ে এস্কিমোদের বাসস্থান ইগলুর মতো পিঁপড়ার বাসা বানানো । বাসা বানিয়ে শুকিয়ে দুটো চিনির দলা ঢুকিয়ে দিতাম এর ভিতরে । চারটা বড়ো পিঁপড়া ধরে এনে জবরদস্তি ভাবে আমার ইগলুতে ঢুকিয়ে দিতাম । প্রবেশ পথ দিতাম বন্ধ করে ।খা বেটারা যতো খুশি মিষ্টি খা। কতো কষ্ট করিস তোরা এক দলা চিনি পেলে ত্রিশ জনে টানাটানি করে ! পিঁপড়াদের নিঃশ্বাস নেওয়ার জন্য ইগলুর ছাদে সুই দিয়ে ছিদ্র করে দিতাম।


কতো সরলমনা ছিলাম আমি আমার শৈশবে । আমার নিজের দুই বড়ো মামা থাকতেন করাচিতে । মায়ের এক ছোট ভাই ( সেকেন্ড কাজিন) রতন মামা কখনো আসতেন ছুটির দিনে । তিনি সদরঘাট এলাকায় থাকতেন । একদিন বিকেলে তিনি যখন আমাদের বাসা থেকে বিদায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তখন আমি আমাদের বাসার সামনের রকে বসে খেলছিলাম একা-একা ।


তাঁর কী ইচ্ছা হলো । যাবার সময় আমার হাতে চার আনা পয়সা দিয়ে গেলেন । আমি বাসার ভিতরে ঢুকে মা বাবাকে দেখালাম যে রতন মামা পয়সা দিয়ে গেছেন । আব্বা বললেন , ' কেনো তুই পয়সা নিতে গেলি ?অন্যের পয়সা কেউ নেয় ? '

আমি আর বাসায় থাকিনি । ছুট ছুট ছুট । এক দৌড়ে রাস্তার মোড়ে এসে রতন মামাকে ধরলাম। ' নিন আপনার পয়সা ফেরত নিন।
আমি পয়সা নিবোনা । আব্বা আমাকে বকেছেন । 'সেদিন রতন মামা আবার আমাদের বাসায় ফেরত এসেছিলেন। আমার বাবা মার কাছে । তাঁরা কেউ ধারণা করেন নি আমি পয়সা ফেরত দিতে যেতে পারি ।


আজ জীবনের পড়ন্ত বেলায় আমার দ্বিতীয়
শৈশবে মাঝে মাঝে ফিরে যাই সেই স্মৃতিময়
সোনালী শৈশবে !


Post a Comment