যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/
Posts

বারবার দীপঙ্কর নামের ছেলেটির প্রসঙ্গ টানে।কেন? কিসের জন্য? সেটাতো অতীত, অতীতই থাকনা!

হাওড়ায় সব নেমে গেলে খালি ট্রেনে পড়ে থাকা আপাতভাবে সামান্য কমলালেবুর খোসা আর রোঁয়াগুলোকে দেখে কারোকি কোনোভাবেই মনে হতে পারে যে এইগুলোও কোনো সহজ সরল আখ্

 

প্রতীক মিত্র

কমলা লেবু

প্রতীক মিত্র


কমলা লেবুর খোসা ছাড়ানোর সময় দু’জনে প্রথম বুঝলো ওদের অমিলের কথা।তারপর সেই মিষ্টি কম, টক বেশি লেবু খেতে খেতেই তারা কথা চালিয়ে গেল বন্ধু বা সহকর্মী হিসেবে নয় বিশেষ বন্ধু হিসেবে।দু’জনকেই তাদের ঘনিষ্ঠরা বলেছিল সম্ভাব্য জটিলতা নিয়ে।তারা জেনে বুঝেও অবিশ্বাসটাকেই ভরসা করেছিল। ওই যেদিন সন্ধ্যেবেলা অফিস থেকে বেরোতে অনেকটা দেরি হল সেদিনই যেভাবে সঞ্চিতা ওর ব্যাগ ফেলে চলে যাচ্ছিল বলে অবিন সেটাকে শুধু আগলেই রাখেনি, ওকে ওই ব্যাগ ফেরত দিয়ে প্রস্তাবটা দিয়েছিল একসাথে ফেরার সেদিনই মনে হয়েছিল সঞ্চিতার(কে জানে অবিনের আরো আগে কিনা!)ব্যাপারটা অন্য রকম ঠেকছে। বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে তাও বছর দুই হল।বাড়ি থেকে বিয়ে বিয়ে করে তাড়া দিয়ে হেদিয়ে গেছে।সঞ্চিতা নিজেও খুব একটা গুরুত্ব দিতো না এটা নিয়ে আর বিশেষ করে দিপু মানে দীপঙ্করের সাথে ছাড়াছাড়ি হওয়ার পর। অবিনের দিকে ক্রমে সঞ্চিতা আরো ঝুঁকেছে অবিন কোনোভাবেই দীপঙ্করের সাথে সম্পর্কিত নয় বলে। অবিন দীপঙ্করের মতন কায়দা করে বাহারি কথা বলতে পারেনা, কবিতা লিখতে পারে না, সিনেমা দেখতে দেখতে কেঁদে ফেলে না, ফুচকাওয়ালার সাথে গলা মিলিয়ে গাইতে পারে না গান।অবিন মার্জিত, সংযত।অবিনের গাম্ভীর্য অনেক সময়ই জড়তার সমার্থক।তবু সঞ্চিতার অবিনকে খারাপ লাগেনি।প্রথমে সহকর্মী তারপর বন্ধু সবশেষে বিশেষ বন্ধু হিসেবে।তা সে বাড়তে থাকা জটিলতা সত্বেও। এখন যেমন কমলা লেবু খেতে গিয়ে হল।এর আগেও অবিন কমলা লেবু খেয়েছে।ছাড়িয়ে নিয়ে খেয়েছে।হয়তো ওর সামনেই খেয়েছে।কিন্তু কই ওরতো কিছু মনে হয়নি।আজ যে কি মনে হল? অধিকারবোধ?গুরুত্ব পাওয়া? অন্তরঙ্গতার ছুতো?কেননা লেবুটা অবিনের হাত থেকে সঞ্চিতা নিয়েই শুধু নিল না, অবিনকে খাইয়েও দিলো বটে।অবিনের মুখে রোঁয়া লাগলে সেগুলো মুখে ঠোঁটে হাত দিয়ে ট্রেনের অসংখ্য কৌতুহলী অথচ নীতিবাগীশ চোখকে অগ্রাহ্য করে ফেলেও দিল।

.

অবিন এর আগে কোনোদিন কোনো সম্পর্কে জড়ায়নি।জড়ালে কি ভালো হত?এইসব হৃদয়ঘটিত বিষয়ে একটু আধটু অভিজ্ঞতা থাকা ভালো।অন্যরা তো তাই বলে এসেছে ওকে।ওর অবশ্য এত কিছু মনে হয়নি।মামারবাড়িতে বড় হওয়া অবিনের বাড়িতে কেউ নেই।চাকরি পেয়ে মামা-মাইমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে ও নিজের বাড়িতে ফিরেছে বছর খানেক হল।ছোটোবেলায় যখন মা, বাবা বেঁচে ছিল এক মহিলা কিছুদিন কাজ করেছিল।  মা তাকে নিজের বোন পাতিয়েছিল।সেই মহিলা সেই মাসী কিভাবে একে তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছে যে অবিন ফিরে এসেছে।যাজ্ঞে রান্না করা, ঘর পরিষ্কার ইত্যাদির দায়িত্ব সে নিয়ে নিয়েছে।মাসীর নাকি মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সে বড়  একা একা হয়ে গেছে।তাছাড়া অবিনের মা তাকে তার দুঃসময়ে ঠাঁই দিয়েছিল।ফলে এখন এটা তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ছে যে সে যেভাবেই হোক অবিনকে সাহায্য করবে। পরে অবশ্য অবিন খবর নিয়ে জেনেছে আসলে মাসীর জামাইটি একটি গুণধর।মাসীর থাকার জায়গাটি দখলই শুধু নেয়নি মাসীর মেয়ের মাথাটিও বিষিয়েছে মাসীর বিরুদ্ধে। থাক মাসী থাক।ওর আপাতত মাথায় সঞ্চিতাই ঘুরছে।যদিও সামান্য কমলা লেবু খাওয়া নিয়ে যা হল এবং যা হতে পারতো তা ভেবে ও একটু যেন দ্বিধাগ্রস্তই হল।ঠিকই যেকোনো রকম ছুতোয় ওরও ইচ্ছে করে সঞ্চিতার অন্তরঙ্গতা, তবু সব কিছুর স্থান-কাল-পরিস্থিতি আছে।ওর দৃঢ় বিশ্বাস সঞ্চিতা ওকে আর যাই হোক গোঁড়া ভাববে না, ও একটু সাবধানী এই যা!কিন্তু পরক্ষণেই ওর ভ্রঁ-কুঞ্চিত হয় যেই ওর মনে পড়ে সঞ্চিতা কিভাবে বারবার দীপঙ্কর নামের ছেলেটির প্রসঙ্গ টানে।কেন? কিসের জন্য? সেটাতো অতীত, অতীতই থাকনা!

.

হাওড়ায় সব নেমে গেলে খালি ট্রেনে পড়ে থাকা আপাতভাবে সামান্য কমলালেবুর খোসা আর রোঁয়াগুলোকে দেখে কারোকি কোনোভাবেই মনে হতে পারে যে এইগুলোও কোনো সহজ সরল আখ্যানে নাটকীয়তা আনতে পারে?

.


Post a Comment