যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

রাখ তোর ঘর! নিজের রোজগারে বৌকে খাওয়ানোর মুরোদ নেই, তার উপর মদ খেয়ে এসে বৌয়ের গায়ে হাত দেয়।

ওর মটকা গরম হয়ে যায়। তখন কিছু বলে না, কিন্তু বাড়ি ফিরে সেদিনই শুধু অমন করে !

 

অভিষেক সাহা



অণুগল্প -- আর কিচ্ছু না

গল্পকার -- অভিষেক সাহা


" সত্যি বিমলা তোর আর লজ্জা হল না! তোর ওই বরের ভালোর জন্য আবার শিবরাত্রির ব্রত করছিস !" একটু বিরক্ত হয়ে বলল মনু।

বিমলা মনুর বাড়িতে কাজ করে। বাসন মাজা, কাপড় কাচা, ঘর গোছানো সব । রান্না মনু নিজের হাতেই করে। বিমলা সব গুছিয়ে দেয়। মনুর কোমরে ব্যথা। শেষ দু'বছর এমনই চলছে।

" এমন করে বোলো না দিদি। স্বামী তো স্বামীই। সেই কোন ষোলো বছর বয়সে পেম করে বিয়ে করেছি। বারো বছর ঘর করছি ! দশ বছরের মেয়ে আছে আমাদের ! " মনুর কথায় প্রতিবাদ করে নরম গলায় বলল বিমলা।

" রাখ তোর ঘর! নিজের রোজগারে বৌকে খাওয়ানোর মুরোদ নেই, তার উপর মদ খেয়ে এসে বৌয়ের গায়ে হাত দেয়। তোর এই আদিখ্যেতা জাস্ট নেওয়া যাচ্ছে না !" মনুর বিরক্তির মাত্রা কিছুটা বাড়ল।

" রোজ তো গায়ে হাত দেয় না, যেদিন ওসব ছাইপাশ খায় সেদিন দেয়। তাই তো শিব ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করছি যাতে ওর মাথা ঠাণ্ডা করে দেন।" বিমলা উত্তর দিল।

" উফ্, আর পারিনা। শিব ঠাকুরের  আর তো কোন দুনিয়াতে কোন কাজ নেই,সব কাজ ছেড়ে তোর চরিত্রহীন, মাতাল বরের মাথা ঠাণ্ডা করবেন! তা ওইসব ছাইপাশ খায় কেন ?" মনু আশ্চর্য হয়ে জানতে চাইল।

" আর যাই বল দিদি আমার বরকে চরিত্রহীন বোলো না, ওর মত চরিত্রের লোক হয় না।" অভিমান ঢালা গলায় বলল বিমলা। একটু থেমে লজ্জা মেশানো গলায় বলল," আর তাছাড়া মদ ও রোজ খায় না। আমাকে খুব ভালোবাসে তো, তাই একটু ভয়ে থাকে। রিক্সা চালিয়ে খায়।সারাটা দিন এদিক- ওদিক ঘোরে। ওই ঘোরাঘুরি করতে করতে যেদিন যেদিন আমাকে অন্য পুরুষের সাথে পার্কে বা রাস্তার ধারে বসে কখনো আইসক্রিম , কখনো চিকেন রোল খেতে খেতে আড্ডা দিতে দেখে ফেলে, ব্যস, ওর মটকা গরম হয়ে যায়। তখন কিছু বলে না, কিন্তু বাড়ি ফিরে  সেদিনই শুধু অমন করে ! তুমি বিশ্বাস করো দিদি, আমি ওদের সাথে শুধু গল্পই করি, আর কিচ্ছু না!"




Post a Comment