যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

অণু গল্প - ভয় সুতর্না সিংহ - পারলে একবার সুচেতনাকে ফোন করো

সুতর্না সিংহ - তিন্নিকে এত তাড়াতাড়ি বাইরে বের করা ঠিক হবে! যতই বলুক ডাক্তার যদি একবার পজেটিভ হয় এতটুকু বাচ্চা!... আর যাওয়া হয়না নক করা বন্ধ করে তি

 

webtostory



ভয়

সুতর্না সিংহ


বিথি এখন অনেকদিন পর বাড়িতে তিন্নির সাথে বেশ সময় কাটাচ্ছে।এখন স্কুল নেই আবার লকডাউন শুরু তাই আর স্কুলেও যেতে হচ্ছে না। সারাদিন  মেয়েকে নিয়ে এখন সময় পেরিয়ে যাচ্ছে ওর দিব্যি। মেয়ের যত্ন নিতে পারছে মনের মতো করে তার ওপর কাজের মেয়ের ভরসাও করতে হচ্ছেনা কিছুদিন।সুজয়ও এখন দুদিন হলো ছুটিতে বাড়িতেই আছে তবে সকাল থেকেই খবরের কাগজ আর নিউজ চ্যানেলের চোটে মাথাটা খারাপ হবার জোগাড় হয় এই যা একটু কষ্ট।বাড়িতে টিভির যেন বিরাম নেই। তার ওপর নিউজ চ্যানেল জুড়ে শুধুই করোনার নিউজ। দুপুরে খাবার টেবিলে তিন্নিকে খাওয়াতে খাওয়াতে ফোন বেজে ওঠে বিথির। ফোনটা ধরতেই এক কলিগ এর গলা ভেসে ওঠে ফোনের ওপারে 

  - কে বিথি বলছো?

  - হ্যাঁ আমিই বলো

  - জানো সুচেতনার ছেলের করোনা পজেটিভ! 

  - সেকি! কবে হল?কি করে?অতটুকু ছেলে।ও তো আমার মেয়ের বয়সীই।

  - হুম গো,আর বলোনা সুচেতনার থেকেই সম্ভবত। ও তো এই কদিন আগেই বাসে করে কোথায় গেছিল। কিন্তু সুচেতনার কিছু সমস্যাই নেই।ছেলেটার খুব বাড়াবাড়ি। ডাক্তার দুজনকেই টেস্ট করতে দিয়েছিল দুজনেই পজিটিভ। 

  ফোনটা কেটে দিয়েই বুকের ভেতর টা কেমন যেন ধড়ফড় করতে লাগলো বিথির। তিন্নিকে কোনো রকমে খাবারটা খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে খাবার টেবিলে বসে সুজয় কে বললো সব কথা।সুজয় বললো 

-সেই, টিভিতেও এখন বাচ্চাদের খুব সাবধানে রাখতে বলছে।বাচ্চাদের এখন...তবে তুমি অতো ভেবোনা আমরা তো সব সাবধানে বাড়িতেই আছি। তাও যেন শান্তি পায়না বিথি। সুজয় কে বলে

-বলছি শোনো না আজ থেকে তুমি ওই ঘরে শোবে কেমন তিন্নির কাছে না শোওয়ায় ভালো। তুমি তো কদিন আগেও অফিস যাচ্ছিলে। আমি না হয় ওর সাথে শোবো।

সুজয় বলে- বেশ তাই হবে না হয়!

পরদিন সকাল থেকে উঠে বিথি বেশ কয়েকবার ফোন করে সুচেতনাকে ওর ছেলের খবর নিয়ে জানতে পারে অক্সিজেন দিতে হচ্ছে নার্সিংহোমে ভর্তি করেছে অনেক কষ্টে চেনা একজনের মাধ্যমে। সারাটাদিন ধরে মনে এক অজানা আশঙ্কা নিয়ে সময় কাটতে থাকে বিথির। তিন্নিকে আজ যেন একটু বেশিই চোখে চোখে রাখে ঘরবন্দী করে। দাদু বাজার থেকে এসেই তিন্নি দিদিভাই বলে ডাকতেই বিথি গেয়ে বলে

-আপনি ওকে ডাকবেন না ও ঘরে খেলছে। এই রোজ রোজ বাজার যাচ্ছেন ওর কাছে বেশি না যাওয়ায় ভালো। দাদুর মনে মনে বেশ একটু রাগ হয়। সারা না দিয়ে ঘরের ভেতর চলে যায় সে।

তিন্নির সারাদিনের দুষ্টুমির সাথে সাথে বিথির চিন্তাও বাড়তে থাকে।খাবার টেবিলে বসে হঠাৎ তিন্নির কান্না শুনে ছুটে গেয়ে বিথি দেখে তিন্নির গা টা হালকা  গরম ভয়ের চোটে চিৎকার করে ডাকে সুজয়কে।সুজয় কাছে যেতেই বিথি বলে ওঠে

-না এসোনা তুমি ওইখানেই থাকো বলছিলাম তিন্নির গা টা গরম কি করবো এখন?  সুজয় বলে 

-দেখো ঠান্ডা লেগেছে বলে হয়তো হবে।আজকের দিনটা দেখো তো তারপর না হয়... । বিথি খাবার ফেলে এসে তিন্নির কাছে গেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় গান গেয়ে রোজ তিন্নিকে  ঘুম পাড়ালেও আজ আর গান বেরোয় না মুখ দিয়ে। মুখের মাক্সটা পড়ে নেয় সঙ্গে সঙ্গে। পাশে শুতে গেয়েও কেমন ভয় হয় আজ নিজের জন্য না তিন্নির জন্য। তিন্নি ঘুমিয়ে গেলে হঠাৎ ফোনটা বেজে ওঠে বাইরে গেয়ে ফোনটা ধরতেই চমকে ওঠে বিথি।ওপাশ থেকে ভেসে আসে 

-বিথি সুচেতনার ছেলেটার খুবই বাড়াবাড়ি জানো। জানি না কি হবে।

বিথির বুকের ভেতরটা ধড়াস করে ওঠে।ফোনটা কেটে দিয়েই ছুটে গেয়ে দেখে তিন্নি ঘুমাচ্ছে অঘোরে।গায়ে হাত দিয়ে দেখে গা টা ঠান্ডা। এই ফাঁকে রান্না করতে চলে যায় বিথি। রাতে বিথি শুতে গেয়ে দেখে ঘরবন্দী তিন্নি ঘুমিয়ে পড়েছে কেঁদে কেঁদে। কদিন ধরে ওকে খেলতে যেতে দেওয়া তো দূরের কথা ঘরের বাইরে নিজের দাদুর সাথেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাই অভিমানে কান্নাটাও বেড়ে গেছে।  তবে বিথি আজ থেকে সারাদিন তিন্নির সাথে থাকে মাস্ক পরেই, রাতেও শুয়ে পড়ে ওভাবেই।পরদিন ঘুম ভাঙতেই শুনতে পায় পাড়ায় নবুদের বাড়িতে করোনা ধরা পড়েছে কাল রাতে রিপোর্ট এসেছে সবার। মুখের চেহারাটা কেমন যেন সকাল সকাল বদলে যায় ওর। ওদিকে ফোনটা বেজে ওঠতেই এগিয়ে গেয়ে ফোনটা ধরে বিথি ওপাশ থেকে ভেসে আসে 

-পারলে একবার সুচেতনাকে ফোন করো ওর বিশাল ক্ষতি হয়ে গেলো গো! এক্ষুনি জানতে পারলাম ওর ছেলেটা.... শুনেই ফোনটা রেখে দেয় বিথি। ওর আকাশে তখন কালো মেঘ গুলো ঘুরে ফিরে জমাট বাঁধতে থাকে।কেমন করে যেন সবটা এলোমেলো হয়ে যায় এক মুহূর্তে। তিন্নির জ্বরটাও বেড়েছে দেখে তাই আর দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শে টেস্ট করিয়ে নেয় পরদিনই। এই তিনটে দিনের প্রতিটা মুহূর্তে বিথি এক অসম্ভব যন্ত্রনা অনুভব করতে লাগলো। নিজের সাথে লড়াইটা বাড়লো ক্রমশ, ঘর বন্দি হয়ে গেলো একবারেই। তিন্নিকে কড়া নজরে রাখতে লাগলো বাড়ে বাড়ে।কাশি হচ্ছে কেন,জ্বর আছে নাকি এইসব ভেবেই পার করলো তিনটে দিন আজ সেই চরম অপেক্ষার অবসান হবার পালা অনেক কষ্টে ঠাকুরের নাম নিয়ে সন্ধ্যেয় ম্যাসাজ এলো ফোনে 'নেগেটিভ '! ডাক্তার কে ফোনে কথা বললে ডাক্তার বললো ওকে একটু খোলা বাতাসে রাখুন মিশতে দিন বাড়ির সবার সাথে। বাচ্চা তো এসব সহ্য হয়নি শক পেয়েছে তাই হঠাৎ এমন জ্বর। এই বয়সের বাচ্চাদের বন্দি করবেন না।আপনি তো বোঝেন আপনাকে বোঝাতে হবে কেন! বিথিও ভাবলো সত্যিই তো কেন আমি তিন্নিকে এভাবে জোর করে ধরে রেখেছি। নাহ্ আজ থেকে ওকে খেলতে পাঠাবো নিচের তলার গুড়িয়ার সাথে।বিকেল হতেই আজ বিথির মনে হয় খেলার কথা তাই নিজেই নিয়ে যায় গুড়িয়াদের বাড়ি।কিন্তু দরজার কাছে গেয়ে নক করতে যাবে ঠিক সেই সময়েই পেছন থেকে বিজয়ের ডাক শুনতে পেয়ে মনটা কেমন কু ডেকে উঠলো।

-তিন্নিকে এত তাড়াতাড়ি বাইরে বের করা ঠিক হবে! যতই বলুক ডাক্তার যদি একবার পজেটিভ হয় এতটুকু বাচ্চা!...

 আর যাওয়া হয়না নক করা বন্ধ করে তিন্নিকে নিয়ে ফিরে আসে বদ্ধ ঘরের আবদ্ধ পরিবেশে! 






Post a Comment