যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

কেউ বা চিঠি রেখে দিতো অতি যত্ন করে, বারে বারে পড়তো চিঠি চোখের সামনে ধরে।

বোনে লিখতো ভাইর কাছে- করতে লেখাপড়া, নরম সুরে লিখতো বোনে হতো না তা কড়া। স্ত্রী লিখতো স্বামীর কাছে চেয়ে কিছু টাকা, বন্ধু লিখতো বন্ধুর কাছে থাকতো ছব

সৌরভ দুর্জয়

 

চিঠির বাক্স 

-সৌরভ দুর্জয় 

-------------

কেউ আসে না আমার কাছে চিঠি ফেলতে কভু,

এমন ভাগ্য দিয়ে ছিলো আমায় মহান প্রভু!


অতীত কালে আমার কাছে আসতো দলে দলে,

চিঠি ফেলে হাসতে হাসতে যেতো সবাই চলে।


পিয়ন এসে তালা খুলে নিতো চিঠি বুঝে,

হাতে হাতে পৌঁছে দিতো চিঠির মালিক খুঁজে। 


কেউ বা পড়ে সেই না চিঠি হাসতো খুশির সাথে,

কেউ বা আবার চিঠি পড়ে কাঁদতো দিনে রাতে।


বখশিশ নিতো পিয়ন হেসে হাতে চিঠি দিয়ে,

যেই চিঠিতে লেখা থাকতো কবে হবে বিয়ে।


কেউ বা চিঠি রেখে দিতো অতি যত্ন করে,

বারে বারে পড়তো চিঠি চোখের সামনে ধরে। 


ছেলে লিখতো বাপের কাছে সালাম দিয়ে তাঁকে,

বাদ দিতো না সালাম দিতে জন্মদাত্রী মাকে।


বোনে লিখতো ভাইর কাছে- করতে লেখাপড়া,

নরম সুরে লিখতো বোনে হতো না তা কড়া।


স্ত্রী লিখতো স্বামীর কাছে চেয়ে কিছু টাকা,

বন্ধু লিখতো বন্ধুর কাছে থাকতো ছবি আঁকা। 


শোকের চিঠি আসলে বাড়ি কাঁদতো পরিবার,

আস্তে আস্তে শোকের চিহ্ন থাকতো না যে আর।


হরেক রকম চিঠি আসতো আমার কাছে রোজ,

এখন কিন্তু কেউ রাখেনা চিঠির বাক্সের খোঁজ।


জমে থাকে ময়লা কাদা আমার শীর্ণ গায়,

 কতো মানুষ হাসতে হাসতে হেঁটে চলে যায়।


চিঠির বাক্স বলে আগে ছিলো কতো দাম,

চিঠি লেখা ছেড়ে দিয়ে ভুলেছে সেই নাম।


ভুলে গেছে চিঠি লেখা এখন মানুষজনে,

মোবাইলে কথা বলে সবাই সবার সনে।


ম্যাসেজ পাঠায় এক মুহুর্তে প্রিয়জনের কাছে,

ভাইবার ইমো এমন নামে নানা মাধ্যম আছে।


আমি একা চেয়ে থাকি হয়ে চাতক পাখি,

কষ্টে আমার পাঁজর ভাঙ্গে দু:খে ভাসে আঁখি। 


৩০/১১/২০২১

ফরিদপুর।

Post a Comment