যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

শিবরাম শাস্ত্রী চার্লি চ্যাপলিন এমনকি রবীন্দ্রনাথের এমন অনেক লেখার মধ্যে আমরা এই ধরনের রম্যরচনা পেয়ে থাকি।

রণেশ রায় - মজলিসের মেজাজে সাহিত্যিক ও পাঠকের মধ্যে খোলামেলা নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে আপাত লঘু সরস উপস্থাপনের মাধ্যমে সাহিত্যের আঙিনায়

 

webtostory

সাহিত্যে রম্যরচনা 

রণেশ রায়


সাহিত্যে রম্যরচনার ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।এ ধরনের রচনা যেমন কৌতুকপূর্ণ হতে পারে তেমনি এ ধরনের রচনায় সাহিত্যিকের গভীর  জীবন বোধ সূক্ষ শৈল্পিক নৈপুণ্যে পরিবেশিত হতে পারে। রম্য রচনা সাহিত্যের ভান্ডারকে বাড়িয়ে তোলে, সাহিত্য শিল্পকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। সাহিত্যিক আর পাঠকের মধ্যে এক অভাবনীয় মেলবন্ধন সৃষ্টি করে।


মজলিসের মেজাজে সাহিত্যিক ও পাঠকের মধ্যে খোলামেলা  নিবিড় বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রেখে আপাত লঘু সরস উপস্থাপনের মাধ্যমে সাহিত্যের আঙিনায়  কিছু রচিত হলে তাকে রম্য রচনা বলা হয়। অনেকে মনে করেন গভীর ভাবনা বর্জিত অনানুষ্ঠানিক ঘরোয়া মেজাজে লঘু হাস্যরসাত্মক বন্ধনমুক্ত পরিবেশনই রম্যরচনার প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের রচনায় কোন গভীর তত্ত্ব কথা প্রকাশের প্রয়াস থাকেনা বলে অনেকে মনে করেন। পাণ্ডিত্য প্রদর্শনের তাগিদ দেখা যায় না বলে মনে করা হয়।দৈনন্দিন জীবনের সহজ ও মজাদার বিষয়কে কৌতুক ছলে প্রকাশ করা হয় রম্য রচনায়।সাহিত্যের অঙ্গনে তার বিভিন্ন অঙ্গ তথা গল্প কবিতা ছড়া প্রবন্ধের মধ্যে দিয়ে রম্য রচনা রচিত হতে পারে।


অনেকে ব্যক্তিগত প্রবন্ধ আর রম্যরচনার মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করে একটাকে আরেকটা থেকে পারস্পরিক বিচ্ছিন্ন দুই বিপরীত মেরুর বিষয় বলে মনে করেন।তাঁদের মতে ব্যক্তিগত প্রবন্ধে সাহিত্যিকের নিজের মননের চাষ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।সেখানে সাহিত্যিকের হৃদয়বেগ বড় কিন্তু তাঁর ভাবনাকে যুক্তি ভাবনার এক সুশৃঙ্খল মননশীলতার আয়নায় তুলে ধরা হয়। এই ভাবনা অনুযায়ী রম্যরচনার এমন কোন দায় থাকে না। তা অনেক বেশি মুক্ত পরিবেশে কৌতুকপূর্ণ ভাবে এমনকি প্রগলভ পথে প্রকাশ করা হয়। তবে আমরা ব্যক্তিগত রচনা আর রম্যরচনার মধ্যে এ ধরনের আনুষ্ঠানিক বিভাজনে বিশ্বাসী নই বরং মনে করি মানুষের জীবন বোধ তাকে যুক্তি বর্জিত না রেখে সুচারুরূপে মজায় মজলিসের আবহে তুলে ধরা, উভয়ে মধ্যে মেল বন্ধন ঘটানো সাহিত্যিকের এক অসাধারণ শিল্প কর্ম।


মনে রাখা উচিত আপাতভাবে রম্য রচনা হালকা মজাদার ভারমুক্ত তত্ত্ব নিরপেক্ষ বলা হলেও খুব শৈল্পিক নৈপুণ্যে হালকা মজার আড়ালে গভীর কথা বলা হয় অনেক রম্য রচনায়। তাই তাকে নেহাত ভাবনা মুক্ত কৌতুক নেহাত হাস্যরসে সিক্ত ভাবার কারণ নেই।অনেক গভীর ভাবনা তত্ত্বকথা পরিবেশিত হতে পারে আপাত লঘু কৌতুক ছলে। আর সাধারণত গল্পের প্রসাধনে রম্যরচনা সজ্জিত বলে মনে করা হলেও কবিতা ছড়া প্রবন্ধের মাধ্যমে খুব সুক্ষভাবে রম্যরচনা পরিবেশিত হতে পারে। শিবরাম শাস্ত্রী চার্লি চ্যাপলিন এমনকি রবীন্দ্রনাথের এমন অনেক লেখার মধ্যে আমরা এই ধরনের রম্যরচনা পেয়ে থাকি। আমি নিচে আমার একটা কবিতায় রম্যরচনায় ভাবের গভীরতাকে হালকা মজলিসের ছলে বুনে তোলার চেষ্টা করেছি:


যদি 


যদি তোমার সঙ্গে চলি

সবাই বলে, চললি কোথা !

ওটা যে কানা গলি।


যদি তোমায় কিছু বলি

সবাই বলে, বললি কাকে !

ওটা যে কালা কলি।


যদি তোমার হাত ধরি

সবাই বলে, ধরলি কাকে ?

ওটা যে বদের ধারী ।


যদি তোমার প্রেমে মজি 

সবাই বলে, মজলি কোথায়!

ওকেই তো সবাই খুঁজি।


যদি তোমায় দিই মান 

সবাই বলে, দিলি কাকে!

ওটা যে অপাত্রে দান ।


যদি তোমার কথা শুনি 

সবাই বলে শুনিসনারে

ওটা যে বোকা গাধা 

বাস্তবটা কিছুই  বোঝেনারে।


যদি তোমায় ডাকি কাছে

সবাই বলে, ডাকিসনারে

যদি কামড়ে দেয় পাছে।


যদি তোমায় বরি গোরের মালায়

তৎক্ষণাৎ তা শুকিয়ে যায়

গড়াই আমি ধুলায়।


তবু আমি তোমায় বলে যাই

যে যাই বলুক

আমি তোমার সাথেই বাই

শুকোক না সে মালা

আমার তোমার সঙ্গেই ঠাঁই।


webtostory



Post a Comment