যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

নিজেকে মানুষের অন্তরে সু-প্রতিষ্ঠিত করার জন্যও প্রয়োজন কর্মের।

মো. সাজ্জাদ হোসেন সবকিছুতেই বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। সুখের পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে কেন তারা আজ অসুখী?#Webtostory #storyandarticle ##লেখার_স্পর্শে

web to story


জন্ম যাদের আজন্ম পাপ

মো. সাজ্জাদ হোসেন


জন্ম হলো সৃষ্টি,উদ্ভব,ভূমিষ্ট হওয়া। মাতৃগর্ভ থেকে আবির্ভাব,পৃথিবীতে আগমন। প্রাণের আগমন এবং বিলুপ্তি প্রকৃতির নিয়মে। প্রকৃতির মাধ্যমে নতুন প্রাণের সঞ্চার,আবার প্রকৃতির খেয়াল খুঁশিমত বিলীন। মাঝখানে যে দিনগুলো পৃথিবীতে থাকতে হয় সেই দিনগুলো কঠিন লড়াই সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। বেঁচে থাকার তাগিদে বেছে নিতে হয় কর্ম। জীবন বাঁচানোর তাগিদে কর্ম। 

আবার নিজেকে মানুষের অন্তরে সু-প্রতিষ্ঠিত করার জন্যও প্রয়োজন কর্মের। কর্ম থেকে কেউ দূরে থাকতে পারেনা। কর্ম মানুষকে মহান করে,আবার কর্মই মানুষকে পাপাচারে লিপ্ত করে। কর্ম মানুষকে সফলতা দান করে,আবার কর্মের ভুলে মানুষ ব্যর্থ হতে পারে। সফলতার সংজ্ঞা হয়তবা সবার কাছে একই রকম হবেনা। অনেকের কাছে সুস্থ শরীর নিয়ে দু-বেলা দু-মুঠো খেয়ে পরে বেঁচে থাকার নাম সফলতা। 

আবার অনেকের কাছে গাড়ী,বাড়ি টাকা পঁয়সা অর্জন করে সমাজে সু-প্রতিষ্ঠিত হওয়ার নাম সফলতা। মানুষের জীবনে ব্যর্থতা আসবে। আবার সফলতাও আসবে। ব্যর্থতার পরেই সফলতা। ব্যর্থতার গ্লানি কোন মানুষকে আজীবন বহন করে চলতে হয়না। তবুও যাদের জীবন ব্যর্থতায় ভরা তাদের কাছে সফলতার গল্প অলীক,কাল্পনিক। অলৌকিক ভাবনা অথবা ঐশ্বরিক কৃপায় অনেকে সফলতার প্রত্যাশি। বাস্তব জগতে সফলতার দেখা না পেলেও ঘুমের রাজ্যে রাজা মহারাজা হয়ে রাজ্য পরিচালনার অভিজ্ঞতাটা সবার। 


সফলতা যাদের জীবনে কখনই ধরা দেয়না। সফলতার সংজ্ঞা তাদের কাছে অর্থহীন। সফলতাকে তাদের জন্য নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করাও কষ্টকর। সফলতা জীবনে ক্ষণিকের জন্য দেখা দিতে পারে। সেই সফলতাকে উপলব্ধি করার যথেষ্ট সময় সুযোগ হয়তবা আসেনা। 

সুখের রাজ্যে পদার্পণ করার সুযোগ সবার জীবনে আসেনা। সুখ যদি সবার জীবনে আসে তাহলে জসীম উদ্দিনের আসমানী,শরৎচন্দ্রের গফুর,রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পোস্ট মাস্টার গল্পের রতন চরিত্র,মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুবের মাঝির চরিত্র এদের জীবনের গল্পটা সবার থেকে আলাদা কেন? আসমানী,গফুর,রতন,কুবের মাঝির জীবনের সফলতার গল্পটা কি? তারা কি অন্য গ্রহের বাসিন্দা ছিল। তাদের জীবন সংসার সবার মত কেন ছিলনা। তাদের জীবনের সুখ শান্তি কি আলাদা মাপকাঠিতে পরিমাপ করতে হয়েছিল। একাবিংশ শতাব্দীতে কি এখনও আসমানী,গফুর,রতন,কুবের মাঝিদের দেখা মিলবে?

 হয়তবা আসমানী,গফুরদের দেখা মিলবেনা। আসমানীদের ঘর আছে,গফুর আমিনাদের ঘরে খাবার আছে,রতনের নিজের সংসার হয়েছে,কুবের মাঝির জাল আছে,নিজস্ব নৌকা হয়েছে। তবুও তাদের দুঃখ দুর্দশা কি এতটুকু কমেছে? মৌলিক চাহিদা গুলো তাদের জীবনে কতটুকু পূরণ হয়েছে। দুঃখ দুর্দশার জীবন কি তাদের তৈরি,নাকি পারিপার্শ্বিকতাই তাদের জীবনকে দুঃসহ করে তুলেছে। সুষম বন্টনের অভাবে আজ তারা দুঃখী। 

কৈশোর পেরোনার আগেই অনেকে শ্রমিক,পরিবারের অভাব অনটনের কারনে বাল্য বিয়ের শিকার অনেক ছাত্রী। ঋণের দায়ে জর্জরিত অনেক বাবা মা তাদের সন্তান পর্যন্ত বিক্রি করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। ক্ষুধার যাতনা থেকে মুক্তির চিন্তায় ব্যস্ত সবাই। কবি দাউদ হায়দার যথার্থ বলেছেন“ স্ত্রীর দুঃখ অভিমান কান্না সন্তান সন্ততি পঙ্গু পেটে জ্বালা,পাজরায় তেল মালিশের বাসন উধাও-আমি কোথা যাই? পান্তায় নুনের অভাব।” 

সবকিছুতেই বঞ্চিত সাধারণ মানুষ। সুখের পৃথিবীতে জন্ম নিয়ে কেন তারা আজ অসুখী? কেনইবা জন্ম তাদের আজন্ম পাপ। প্রভাষক,লাউর ফতেহপুর ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ কলেজ নবীনগর,ব্রাহ্মণবাড়িয়া।






#Webtostory

#storyandarticle

##লেখার_স্পর্শে




 

Post a Comment