যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

ধীরে ধীরে জানতে পারলাম আমার স্বামী বেকার

মঞ্জুশ্রী মণ্ডল - দু'বছর কেস চলার পর আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমি কোন খোরপোষ দাবী করিনি।#Webtostory #storyandarticle ##লেখার_স্পর্শে

 

web to story


প্রতারণা

মঞ্জুশ্রী মণ্ডল

২২/৩/২০২২


ছোটবেলা থেকে আমি যৌথ পরিবারে বড় হয়েছি। মাসতুতো ,পিসতুতো ,খুড়তুতো ,জেঠতুতো সকল ভাই বোনের সাথে একসাথে মহানন্দে জীবন কাটিয়েছি। গান বাজনা অর্থাৎ সংস্কৃতিমনা আমাদের পরিবার। সুস্থ মানসিকতা গঠনে আমার পরিবারের অবদান অনস্বীকার্য। 

.

কলেজে পড়ার সময় আমি প্রেমে পড়ি একটি ছেলের সাথে। দুজন দুজনকে খুব ভালোবাসি। আমাকে অনেক স্বপ্ন দেখায় আর তাতেই আমি অনেক স্বপ্নের জাল বুনতে থাকি। কলেজ শেষ করেও প্রেম চলে।সে বলেছিল সে একটা প্রাইভেট ফার্মে চাকরী করে। তার বাবা কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরি করে। তার মা খুব মাটির মানুষ। তার বোনের মতো মানুষই হয় না।

.

এসব শুনতে শুনতে অনেকটাই স্বপ্নের জাল বুনে ফেলি। তারপর আমাদের বাড়িতে জানালে সবাই এই বিয়েতে অমত করে। আমি জোর করে এই বিয়ে করি। বৌভাতের দিন থেকেই  ওর কথা মেলাতে পারি না অনেক কিছুই। কারণ আমার স্বামী যা যা বলতো বাড়িতে এই আছে ওই আছে, তার কিছুই মিললোনা। একথা আমি বাড়িতেও বলতে পারিনি কারণ আমি নিষেধ এর বাইরে বিয়ে করেছি।

.

ধীরে ধীরে জানতে পারলাম আমার স্বামী বেকার সামান্য কয়েকটা ছেলে নিয়ে টিউশন করে। আমার শশুর মশাই কারোর দোকানে কাজ করে। ওর কথার সাথে এই অসামাঞ্জস্যতা দেখে মর্মাহত হয়ে যাই। ওর উপর খুব রাগ অভিমান বেড়ে যায়।।

.

একদিন দুপুরে খেতে বসে আমি সবার মাঝখানে বললাম তুমি আমাকে এসব কথাগুলো বলেছিলে অথচ তার সাথে কোন মিলই নেই। তুমি আমাকে ঠকালে কেনো? আমার শাশুড়ি বলেছিলেন খোকা এসব কথা না বললে তোমাকে কি বউ করে আনতে পারতাম? শুনে গা রি রি করে উঠেছিল।

খাওয়ার পরের রাঁধা ,রাঁধার পরে খাওয়াই ছিল জীবন।

.

সংসারে একটা অভাবের ছায়া। ওরা চারজন চাইতো না আমার সন্তান হোক তাহলে আরো খরচ বাড়বে। কিন্তু সন্তান ধারন করে ওদেরকে না জানিয়ে তিন মাস কেটে যায়। যখন ওরা জানতে পারে আমাকে সন্তান নষ্ট করে দেওয়ার কথা বলে ।আমি রাজি হইনি। আমার উপর মানসিক অত্যাচার চলে। অবশেষে আমি সন্তান প্রসব করি।

বাবা মা জানলে খুব খুশি হয় ।জামাইয়ের সাথে কথা বলে, জামাইকে বুঝিয়ে যান সন্তানের কোনো অবহেলা করো না সুবোধ বালকের মতো কথা দিল কিন্তু সন্তানের প্রতি দায়িত্ব পালন করে না‌। চরম অবজ্ঞা অবহেলা চলতে থাকে তার উপর । আমার কন্যা সন্তান হয়ছিল। বড়ো হলে স্কুলে ভর্তি পর্যন্ত করতে দেয় না।

.

আমি জোর করে মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাই। নাচের স্কুলে ,গানের স্কুলে ভর্তি করাই। নাচ-গান মেয়ে খুব পছন্দ করে। অসম্ভব দুর্ব্যবহার শুরু করলে আমি বাড়িতে না জানিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাই। অনেক দিন আর ফিরি না। আমার স্বামী আনতে যায় আমি তখন জানিয়ে দিই আমি আর যাব না। তখন দুর্ব্যবহার শুরু করে আমার বাপের বাড়িতে এসেও। আমি বাধ্য হয়ে থানায় ডায়েরি করি এবং ডিভোর্স পেপার ফাইল করি।

.

 দু'বছর কেস চলার পর আমাদের ডিভোর্স হয়ে যায়। আমি কোন খোরপোষ দাবী করিনি। আমার মেয়ে এখন ডি এল এড করছে। প্রাইমারি শিক্ষিকা হওয়ার ওর স্বপ্ন। তার সাথে সাথে নাচ গান কবিতা আবৃত্তি করে। আমি এলআইসি র একজন এজেন্ট। এজেন্সি আমি বিয়ের আগেই নিয়েছিলাম। এলআইসি করে আমার চলে যায়। গত 5 বছর হল বাবা মারা গেছেন। ভাই বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে ।আমি ,আমার মেয়ে আর আমার মা একসাথে থাকি । এখন আমার কোন সমস্যা নেই।

.

সকলের কাছে আমি একটি কথা বলতে চাই ,লেখাপড়া শিখে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। বাবা-মায়ের অমতে বিয়ে করা উচিত নয়।বাবা-মায়ের অভিজ্ঞতা অনেক কার্যকরী। তাদের মতকে প্রাধান্য দিতে হয়।

.













#Webtostory

#storyandarticle

##লেখার_স্পর্শে


Post a Comment