যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

জীবনটা তো গেল প্রতীক্ষায় অঢেল সময় নেই কারও, ঘণ্টা বাজে

পুরুষ-নারী দুটোই সমান বদমাশ আর বিচ্ছু সঠিক ভাবে দেখতে গেলে ফারাকও নেই কিচ্ছু। লিঙ্গ দিয়ে মানুষ বিচার করলে সেটা মিথ্যে হারলে দুটোই গুমরে কাঁদে, দু

 

সুদীপ্ত বিশ্বাসে

সুদীপ্ত বিশ্বাসের কবিতাগুচ্ছ


1


অভিলাষ 


তুমি যখন নদী হলে

আমার চোখে আলো

সাঁতরে ভাঙি উথালপাথাল ঢেউ

অনভ্যস্ত গহীন গাঙে

আনাড়ি এই মাঝি

তুমিই জানো, আর কি জানে কেউ?

ঠিক সে সময় ঝাপুরঝুপুর

বৃষ্টি যদি নামে

আকাশ জুড়ে গলতে থাকে মেঘ

সুখ সাঁতারে শ্রান্ত আমি

ঘুমিয়ে যদি পড়ি

জানবে আমার কেটেছে উদ্বেগ।

ঘুম ঘুম ঘুম ঘুমের দেশে

স্বপ্নমাখা চোখে

দুহাত দিয়ে জাপটে ধরি নদী

বাঁচতে রাজি অযুত বছর

আলোকবর্ষ পারে

ভালোবাসা, তোমায় পাই গো যদি।

সহজ তুমি সহজ হয়েই

থেক আমার পাশে

গ্রীষ্ম দিনে,দারুণ মরুঝড়ে

বুকের পাশে নরম ওমের

পালক হয়ে থেক

শীতের রাতে বরফ যদি পড়ে।




2

কালচিত্র


জীবনটা তো গেল প্রতীক্ষায়

অঢেল সময় নেই কারও, ঘণ্টা বাজে

কারা যেন ডাকে, আয় আয়...

পথের পাশে দাঁড়িয়ে আছি গাছ

সহস্র স্রোতের টানে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে

তুমি কী নদী হবে না আজ?

নদী হও, হও নদী, বয়ে যাও

অজস্র ধারায়। দুকূল ভাসিয়ে নদী

আমাকে পাগল করে দাও।

ভেসে যাওয়া ? সেটাও সার্থক।

শ্মশান যাত্রীরা চলে গেলে, পাখি ডাকে-

গৃহস্থের খোকা হোক...



3

চুম্বন


চাঁদ নেই

তাই চুম্বনও নেই

দিন ফুরিয়ে এল...

নামছে আঁধার এই বনে

সেই কালো হাতছানি আসবার আগে

যদি ফিরে আসে তবে

কথা নয়, কথা পরে হবে

ভরিয়ে ভরিয়ে দেব চুম্বনে চুম্বনে...



4

স্বপ্ন কথা 


সেই মেয়ে মাঝে মাঝে পাশে এসে বসে 

মেলে দ্যায় তার চুল, হাসে মৃদু মৃদু

যখন ঘুমিয়ে আমি আধো আধো ঘুমে

স্পর্শ পেয়ে ধড়ফড় জেগে উঠি সুখে

রাতের আকাশে চাঁদ একা ভেসে যায়

সবাই গভীর ঘুমে, নিশুতি নিঝুম

শেষ রাতে চুপচাপ একা জেগে থাকি

তার স্পর্শ, তার গন্ধ জড়ানো শয্যাতে... 



5

ছাই মাখা স্মৃতি  


নদী চেয়ে চেয়ে আমি ফুরিয়ে গিয়েছি

অতীতের কত ছবি ভিড় করে আসে

মাটি খুঁড়ে পাই শুধু শাদা হাড় গোড়

দুহাতে সরিয়ে শুধু  চুপচাপ বাঁচি

জল, তুমি জল নিয়ে আসো না কখনও 

দাউ দাউ তাই শুধু জ্বলে পুড়ে মরি

পোড়া মনে শুধু ছাই, ছাই মাখা স্মৃতি ...


6

বাংলাভাষা  


'ক' এর পিঠে 'ত' লাফিয়ে যেই হয়েছে যুক্ত

চেষ্টা করেও 'ক' তবু্ও পারলো হতে মুক্ত?

'দ' চাপতেই 'ব' এর ঘাড়ে তৈরি হল শব্দ

'দ' বললো 'ব' ব্যাটাকে বেশ করেছি জব্দ।

'ষ' এর পিঠে 'ট' চাপতেই 'ষ' এর পেল তেষ্টা

মুক্তি পেতে 'ষ' তবুও করল অনেক চেষ্টা।

এরপরে সে একলা বসে যেই লিখেছে 'ষণ্ডা'

'ণ' এর ঘাড়ে পা দিয়ে 'ড' খেল মিঠাই-মণ্ডা।

'ল' এর পিঠে 'ল'-ই লাফালে মল্ল লড়ে লড়াই

নিজের পিঠে নিজেই চেপে 'ড' এর বড্ড বড়াই।

'দ' লাফিয়ে 'ন' ব্যাটাকে যেই করেছে বন্দি

সেই থেকে 'ন' আঁটছে শুধু একলা থাকার ফন্দি।

তারপরে 'ন' একলা বসে লিখতে গেল 'নন্দ'

তবুও তাকে ছাড়ল না 'দ', কপাল এতো মন্দ।

'ত' চাপতেই 'স' এর ঘাড়ে বাজার হল সস্তা

অল্প দামে বাজার করে ভরল সবাই বস্তা।

'ঙ' উঠে 'গ' এর পিঠে দেখিয়ে দিল রঙ্গ

এসব নিয়েই বাংলাভাষা, এসব নিয়েই বঙ্গ!




7

আলো  


আলো,   ওগো প্রিয় আলো  

তুমি      প্রেমের শিখা জ্বালো।  

তুমি      করলে অভিমান      

প্রদীপ   কোথায় পাবে গান?

তখন    নামবে  অন্ধকার

নদীর     এই পাড় ওই পাড়

দুটিই     সমান অন্ধকার।

যখন     জমবে সঙ্গম

দেখব    কার যে কত দম

যদি      পাখি ঝাপটায় ডানা

তবে      উড়তে তো নেই মানা

চলো      মেঘে উড়ে যাই

চাল ডাল  সেদ্ধ করে খাই

যখন      হাঁসফাঁসাবে প্রাণ

করব      অমৃত জল পান

যদি        রাতের পাখি ডাকে

তবে       সঙ্গে নেব তাকে

আলো,   ওগো  কোমল  আলো

তুমি       সবার চেয়ে ভালো 

তুমি       তারার দেশে থাক

রাতে       মিষ্টি করে আঁক  

হলুদ      জ্যোৎস্না মাখা চাঁদ

পাশে      মেঘকে ধরার ফাঁদ

তুমি       'মধু বাতা' জানো  

তুমি       জীবনে সুর আনো

তুমি       কবিকে দাও গান

তুমি       সবাই কে দাও প্রাণ

তুমি       খেয়াল খুশি জ্বলো  

তুমি        মিষ্টি কথা বল

তুমি       প্রেমিক ছেলের হাসি

তুমি       রাধার মোহনবাঁশি

তুমি      গাঁয়ের বধূর রঙ

তুমি       জানো অনেক ঢঙ

আলো,   ওগো গান্ধার আলো

তুমি       খুশির প্রদীপ জ্বালো।

তুমি       দূর আকাশে থাকো

তুমি       সব্বাইকে ডাকো

তুমি       ঝিকমিকিয়ে জ্বলো

তুমি       ফিসফিসিয়ে বল

অনেক    জটিল জটিল কথা

তুমি        ভাঙ্গাও নিরবতা।

তুমি        সাহস যোগাও খুব

যখন       আঁধারে দিই ডুব

তুমি       যেই মিলিয়ে যাও

চোখে      আদর বুলিয়ে দাও  

যখন       অনেক অনেক বকে

ঘুমায়       ঘুমিয়ে যায় লোকে

আমি       তখন তোমায় ভাবি

তোমার    কাছেই আছে চাবি

সেই সে    যক্ষপুরীর দ্বার

খোলার     একলা অধিকার ...


8


সুর সম্রাজ্ঞী লতা মঙ্গেশকর/ সুদীপ্ত বিশ্বাস


দিনের শেষে তারার দেশে

যাচ্ছে ভেসে তরি

গানের সুরে উথাল-পাতাল ঢেউ 

মিষ্টি সুরের আরোহণে

সুরের মালা গাঁথা 

রানির মতো আর পেরেছেকেউ?

ঘুম ঘুম ঘুম ঘুমের দেশে 

সুরের রানি চলে

গানের তানে ভাসছে চরাচর

সরস্বতীর হংসে চেপে

দেবীর পাশে মেয়ে

দিন ফুরালে যাচ্ছে নিজের ঘর।

দিন ফুরালে কন্যা ভেসে

আলোকবর্ষ পারে

চুপিচুপি তারার দেশে চলে

গানগুলো তাঁর বাজতে থাকে

সুরের দোলা তুলে

সপ্তসুরে প্রাণের কথা বলে।

রইল পড়ে কত কথা

কত সুরের মেলা

সে-সব ভেবে উদাস হয়ে থাকি

এস্রাজ তাঁর বাজতে থাকে

আকাশ বাতাস জুড়ে 

তাঁর সুরেতে গাইতে থাকে পাখি।


9


বাউল / সুদীপ্ত বিশ্বাস 


একলা বেশ তো আছি,একলা থাকাই ভালো

দুপুরে ডিস্কো নাচি, রাতে পাই চাঁদের আলো।

কোনো এক নিঝুম দুপুর, কিংবা গভীর রাতে

মনে আর পড়েই না তো,টান দিই গঞ্জিকাতে।

পরোয়া করব কেন? সমাজটা দিচ্ছে বা কী?

ছোট্ট জীবন আমার, তাইতো নাচতে থাকি।

পলকা এই জীবনে, কী হবে দুঃখ এনে?

চল্ না উড়াই ঘুড়ি, সুতোতে মাঞ্জা টেনে।

লাফিয়ে পাহাড় চড়ে, সাঁতরে নদীর বুকে

কবিতা দু'এক কলি আসলে রাখছি টুকে।

এভাবে কাটছে তো দিন,তোমাকে আর কী খুঁজি?

জানিনা কোথায় তুমি, আমাকে ভাবছো বুঝি?

ভাবলে কী হবে আর, নদীতে জল গড়ালে

চাঁদটা বন্ধু আমার, গভীর এই রাত্রিকালে 

গাছেরা আগলে রাখে, পাখিরা গাইতে থাকে

ঘরে আর যায় কী ফেরা? ওই যে বাউল ডাকে !


১০

মানুষ দিবস/সুদীপ্ত বিশ্বাস


পুরুষ-নারী দুটোই সমান বদমাশ আর বিচ্ছু

সঠিক ভাবে দেখতে গেলে ফারাকও নেই কিচ্ছু।


লিঙ্গ দিয়ে মানুষ বিচার করলে সেটা মিথ্যে

হারলে দুটোই গুমরে কাঁদে, দুটোই তো চায় জিততে। 


দুটোই কালো, দুটোই সাদা, দুটোই ভীষণ শক্ত

কাটলে পরে দেখতে পাবে লাল দুটোরই রক্ত।


দুটোই সমান চোর বা ডাকাত, দুটোই সমান খুনিও

গান- কবিতা দুটোই লেখে, দুটোই সমান গুণীও!


নারীদিবস-পুরুষদিবস দাও না এসব উঠিয়ে

তার চে' এস 'মানুষ দিবস' পালন করি চুটিয়ে। 




Post a Comment