যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

মানুষের থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। কাছের মানুষকেও বিশ্বাস করতে ভয় পাবে মানুষ।

নারী-পুরুষ উভয়কেই এইরকম ঘটনার শিকার হতে হয়েছে।এগুলো হয়তো বিকৃত মস্তিষ্কেরই ইঙ্গিত বহন করে। কারণ সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনই হয়তো এতো বর্বর এবং নিষ

প্রিয়াঙ্কা ঘোষ

 

বিকৃত মস্তিষ্কের প্রকোপ

 প্রিয়াঙ্কা ঘোষ


আমরা এক বিচিত্র সমাজে বাস করি। এই সমাজকে আমরা বিভিন্ন প্রেক্ষাপট থেকে মূল্যায়ন করার সুযোগ পেয়ে থাকি আর মূল্যায়ন করতে গিয়েই দেখতে পাই যে এই সমাজের একটা অংশ কিছু বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষের অত্যাচারে নুব্জ্য হয়ে গিয়েছে।



এইরকম মানুষের জন্য পৃথিবী প্রতিনিয়ত অনিরাপদ এবং সুস্থ মানুষের বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। এই ধরনের মানুষের অত্যাচারের শিকার নারী পুরুষ উভয়কেই হতে হচ্ছে।এই সমাজে  দুর্বল মানুষকেই নানা লাঞ্ছনা-যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। 



তবে সমীক্ষা করলে দেখা যেত যে এই সমাজে হয়তো নারীরাই সব থেকে বেশি অত্যাচারিত এবং প্রতারিত। ঘরে-বাইরে তাদেরকেই শারীরিক এবং মানসিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়। এই সমাজের লোলুপ দৃষ্টি সর্বদা তাদের উপরেই থাকে। এমনকি এর থেকে শিশুরাও রেহাই পায়নি।এখন সংবাদ মাধ্যমগুলোর শীর্ষে রয়েছে নারীদের উপর ধর্ষণ এবং তারপর তাদের হত্যা করার খবর।


এই ঘটনা যেন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গিয়েছে। প্রত্যহ টিভির পর্দা,খবরের কাগজ খুললেই প্রথমেই ভেসে ওঠে এমন মর্মান্তিক ঘটনা। আরও একটি খবর এর সঙ্গে সামিল হয় তা হলো পরকীয়া। পরকীয়ায় মেতে উঠে কখনও স্বামী তার স্ত্রীকে হত্যা করছে কখনও স্ত্রী স্বামীকে হত্যা করছে। এক্ষেত্রে নারী পুরুষ উভয়ই পরকীয়ার শিকার হয়। তারপর সোশ্যাল নেটওয়ার্ককের মাধ্যমে নানারকম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে। হয়তো কোনো অশ্লীল ছবি দেখিয়ে নারী অথবা পুরুষকে ব্ল্যাকমেইল করছে।তাদের উপর এমনভাবে মানসিক চাপ সৃষ্টি করছে যে বাধ্য হয়ে তাদেরকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হচ্ছে।



নারী-পুরুষ উভয়কেই এইরকম ঘটনার শিকার হতে হয়েছে।এগুলো হয়তো বিকৃত মস্তিষ্কেরই ইঙ্গিত বহন করে। কারণ সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কখনই হয়তো এতো বর্বর এবং নিষ্ঠুর কাজ করতে পারবে না। কিন্তু এর তো প্রতিকারও হওয়া প্রয়োজন। এইভাবে সমাজে নিষ্ঠুরতা বজায় থাকলে সমাজ একদিন অন্ধকারের মুখে পতিত হবে। মানুষের থেকে মানুষের বিশ্বাস উঠে যাবে। কাছের মানুষকেও বিশ্বাস করতে ভয় পাবে মানুষ। তাই ঐ সব বিকৃত মানুষগুলোকে অপরাধ প্রবৃত্তি থেকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সমাজ তথা রাষ্ট্রকে নানামুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। 



অপরাধীর বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান প্রয়োগ করতে হবে যার পরিপ্রেক্ষিতে সমাজে বসবাসকারী অন্যদের সতর্কবার্তা দেওয়া যায়,যেমন: সমাজে যে কেউই অপরাধ করলে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে এমন সত্য ধারণা সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আবার অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সঙ্গে অপরাধীকে খুব তাড়াতাড়ি গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে যাতে তাকে দ্বিতীয়বার অপরাধ করা থেকে নিবৃত্ত করা যেতে পারে। এইভাবে এগোতে পারলে হয়তো সমাজ একদিন আলোকিত হয়ে উঠবে।

এমন কুৎসিত মানুষগুলোর হাত থেকে এই সমাজ মুক্তি পাবে।




© প্রিয়াঙ্কা ঘোষ

Post a Comment