যে কোনো সময় লেখা পোস্ট করা যায় । লিঙ্ক - https://webtostory.com/to-post-the-text/

দীর্ঘ সময় মশার কামড় খেয়েও ক্ষিদে মেটেনি

সুশান্ত ঘোষ - শুভমিতা বলল আসলে কোন মানুষ যদি তার নিজের মনের ইচ্ছের কথা কাউকে বলতে না পারে সরাসরি, সেক্ষেত্রে আগের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো হঠাৎ করেই ভুলে যা

 

webtostory

ধারাবাহিক গল্প 

ধূমকেতু  [৪র্থ পর্ব]

সুশান্ত_ঘোষ


শুভমিতার কথা শুনে শুভময় বলল, আপনি আমার মোবাইল নাম্বার কোথায় পেলেন ? আর আপনার বন্ধুরা কি বলল ? ওরা কোথায় দাঁড়িয়ে আছে?


শুভমিতা বলল, আপনি তো কলেজ জীবনে ভীষণ বুদ্ধিমান ছিলেন। কিন্তু এখন এতটা বুদ্ধি কমে গেল কি করে ভাবছি ? জঙ্গলের মধ্যে আমার কাছে আমার মোবাইল নাম্বার টা নিয়ে আমার মোবাইল খুঁজতে রিং করেছিলেন মনে পড়েছে । ফলে নাম্বার টা আমার মোবাইল এ ছিল । আমি সেভ করে নিয়েছি । তবে আমি শুনেছি অনেকেই এইরকম ভুলে যায় এইরকম পরিস্থিতিতে । 


শুভময় বলল, আমি বুঝতে পারলাম না আপনার কথাটা । এইরকম পরিস্থিতিতে মানে ?


শুভমিতা বলল আসলে কোন মানুষ যদি তার নিজের মনের ইচ্ছের কথা কাউকে বলতে না পারে সরাসরি, সেক্ষেত্রে আগের ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো হঠাৎ করেই ভুলে যায় আর কি । যাক ওটা আর আপনার এখন বুঝে কাজ নেই । আমার বন্ধুরা যে যার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময়, রাস্তায় আমার ফোন পেয়ে ভীষণ খুশি । আজকের দিনটা পরে একদিন সেলিব্রেট করতে চাইছে ।


শুভময় বলল, সত্যিই আমি আপনাকে যতো দেখছি আর আপনার বন্ধুদের কাণ্ডকারখানা শুনছি নিজেকেই কিভাবে আজকের দিনটা ব্যাখ্যা করবো ভেবে পাচ্ছি না । যাক আপনার বাড়ির খবর কি ? বাবা মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে ?


শুভমিতা বলল, না এবার বলবো । কিন্তু আপনাকে একটা অনুরোধ আপনি পাশ থেকে হঠাৎ কোন ফোড়ন এইসময় কাটবেন না ? তাহলে আমায় কেশ খেয়ে যেতে হবে ?


শুভময় বলল, মানে আমার সম্পর্কে আপনার ধারণা দেখছি বেশ মজবুত । ঠিক আছে আপনি আমাকে অনুরোধ করছেন আর আমি না রেখে থাকতে পারি । নিন এবার ঘরে আগে ফোন করে ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যে গল্প বলে দিন । অদ্ভুত মেয়ে আপনি ? সকালে কার মুখ দেখে উঠেছিলাম আজ কে জানে ?


শুভমিতা বলল ঠিক আছে আপনার সব কথা শুনছি এবার একটু চুপ করুন । বলে শুভমিতা ফোন করে তার মাকে । জানায় যে পা'টা একটু মচকে পড়ে গিয়েছিলাম । তাই আসতে আসতে হাঁটতে হাঁটতে আসছিলাম । বন্ধুরা ওকে তখন দেখতে না পেয়ে ভয়ে সবাই কে জানিয়ে দিয়েছে । এখন একদম ঠিক আছে । পা'টা একটু ফুলে যাওয়ার জন্য হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে । এখানে কলেজের প্রাক্তন এক পরিচিত শুভময়দার সঙ্গে হঠাৎ দেখা হয়ে গিয়েছে । উনি খুব ভালো । আমাকে বাড়িতে পৌঁছানোর সব ব্যবস্থা করে দেবেন । তোমরা চিন্তা করো না । প্রয়োজনে উনি আমাকে বাড়িতে ছেড়ে দিয়ে আসবেন । 


শুভময় পাশ থেকে হঠাৎ করেই এই কথাটা শোনার পর বলে ওঠে কি অদ্ভুত ব্যাপার, আমি আপনাকে ছাড়তে যাব কখন ঠিক হলো ?


শুভমিতা তাড়াতাড়ি মাকে রাখছি বলে ফোনটা কেটে দেয় । তারপর বলে আচ্ছা এইটুকু সময় চুপ করে থাকার ধৈর্য্য আপনার নেই । ঠিক আছে ছাড়তে হবে না। আমি একাই চলে যেতে পারব । আপনি কি কাজ করেন বলুন তো ? এতো ছটপটে কেন ?


শুভময় বলল আপনার কাণ্ড দেখে । আমি ফরেস্ট অফিসের গার্ড এর কাজ করি । এই জঙ্গলে আপনাদের মতো কখন কে কি অঘটন ঘটিয়ে ফেলে, সেই অঘটন যাতে না ঘটে সেটা দেখাই আমার কাজ । আপনার মতো সোনার চামচ মুখে দিয়ে আমার জন্ম হয় নি । সারা জীবন বাবা মাকে লড়াই করে আমার পড়াশোনা চালিয়ে কোনমতে সংসার খরচ চালাতে দেখেছি । নিজে ভালো করে দাঁড়াতে পারছেন না, আবার বলছেন একা চলে যাব । উঠুন মোটর সাইকেলে। চলুন একটু এগিয়ে দিয়ে আসছি । 


শুভমিতা বলল, এখনই তো ফোন করার সময় আমার কথার প্রতিবাদ করছিলেন । ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে আমার । 


শুভময় বলল, দীর্ঘ সময় মশার কামড় খেয়েও ক্ষিদে মেটেনি । ঠিক আছে চলুন, ভাদুতলায় আপনাকে কিছু খাইয়ে, তারপর ছেড়ে দিয়ে আসব আপনার বাড়ি । 


শুভমিতা বলল সত্যিই আপনি আমার মনের মতো ভালো মানুষ । বাহিরে একটু পাকা পাকা ভাব প্রকাশ করেন । আমি কি আপনাকে শুভময় দা বলতে পারি ? অনেকক্ষণ আপনি বলছি । একবার তো বলবেন তুমি বলার জন্য । যখন শুনলেন আমি আপনাকে চিনি আগের থেকে । 


শুভময় বলল, ঠিক আছে আপনি আমাকে তুমি বলতে পারেন । আর আমি ?


শুভমিতা বলল, সাধে কি আর তখন হাঁদুরাম বলেছিলাম । শুরুতেই যখন বলেছিলাম, যে আপনি আমাকে মিতা বলে ডাকতে পারেন; তখন আমাকে নির্লজ্জের অপবাদ দিলেন । এখন থেকে কিন্তু দুজনেই তুমি বলব । কথা বলতে বলতে মোটর সাইকেল স্টার্ট দেয় শুভময় । পেছনে শুভমিতা উঠে বসে শুভময় কে ধরে । গাড়ি আসতে আসতে এসে দাঁড়ায় ভাদুতলায় সত্যদার খাবারের দোকানে । 


ভাদুতলায় মোটর সাইকেল দাঁড় করিয়ে, গাড়ি থেকে আস্তে আস্তে শুভমিতাকে ধরে এনে একটা চেয়ারে বসিয়ে দিতে দিতে সত্যদার দোকানে দু প্লেট গরম কচুরির অর্ডার দেয় শুভময়। সাথে সত্যদার দুটো করে স্পেশাল অমৃতি ।


সত্যদা জানতে চান সঙ্গে ইনি কে স্যার ? আর পায়ে কি হয়েছে?


শুভময় একটিবার শুভমিতা র দিকে তাকিয়ে মুখ ঘুরিয়ে বলল আমার পরিচিত । পা টা একটু অসাবধানতাবশত মচকে গিয়েছে । বলে দোকান থেকে বেরিয়ে সামনে কোন ওষুধ দোকান থেকে একটা ক্রেপ ব্যান্ডেজ, আর এক পাতা যন্ত্রণা কমার ট্যাবলেট কিনে নিয়ে আসে । ক্রেপ ব্যান্ডেজ টা শুভমিতা র ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয় তখনই ।


শুভমিতা খেতে খেতে একটা অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করল, শুভময় কে এখানকার সমস্ত মানুষ খুব ভালোবাসে শ্রদ্ধা করে । কিন্তু সবাই স্যার বলে কথা কেন বলছে ? সামান্য ফরেস্ট অফিসের গার্ড এর চাকরি করে বলল, তাও ভালো কাজের জন্য মানুষের শ্রদ্ধা থাকতে পারে । কিন্তু সবাই স্যার বলে সম্বোধন করবে ? যাক খাওয়ার শেষে শুভময় শুভমিতা কে একটা ট্যাবলেট খেতে দিয়ে বাকিটা শুভমিতা র ব্যাগে ঢুকিয়ে দেয় । শুভময় বিল মিটিয়ে দেওয়ার পর বেরিয়ে আসার মুখে এক বয়স্ক ভদ্রলোক দোকানে ঢুকতে ঢুকতে শুভময় কে দেখে বললেন, আরে রেঞ্জার সাহেব আজ এমন সময় ? শুভময় বলল একটা কাজে একটু মেদিনীপুর শহরে যাব । কিন্তু ওই ভদ্রলোক যখন শুভময় কে রেঞ্জার সাহেব বলে ডাকলেন, তখন শুভমিতার ভীষণ অদ্ভুত লাগল- ওকে বলা কিছুক্ষণ আগে শুভময় এর উওর টা মনে পড়ে গেল । আমি ফরেস্ট অফিসের গার্ড এর কাজ করি। 


শুভময় কাছে আসার পর শুভমিতা বলল, শুভময় দা আমি আপনাকে খুব পছন্দ করি, ভালবাসি এটা ঠিক । কিন্তু আমি কখনও ভাবিনি আপনি ফরেস্ট অফিসের গার্ড এর কাজ করলে আমি আপনাকে ভালবাসার যোগ্য বলে মনে করব না, আর ফরেস্টের রেঞ্জার হলে যোগ্য মনে করব ? হয়তো কারো কারো কাছে ওইগুলো মেটার করে । কিন্তু সবাই কে এক আসনে বসিয়ে বিচার করা টা কি ঠিক ? তাই আমি সত্যিই ভীষণ কষ্ট পেলাম আজকের দিনে আমাকে আপনার মিথ্যে পরিচয় দেওয়ার জন্য ।


শুভময় বলল, সত্যিই বুঝতে পারছি না আপনার কথাটা। আমি ভুল কি বলেছি । আমার কাছে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব এই জঙ্গলকে পাহাড়া দেওয়া । একে বিভিন্ন চুরি ছিনতাই এর হাত থেকে রক্ষা করা । জঙ্গলের মধ্যে যাতে কোন রূপ অঘটন না ঘটে সেটা দেখা । এটাই তো জঙ্গলের গার্ডের আসল কাজ, একজন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে রেঞ্জার এর কাজ নয় কি মিস শুভমিতা ? না না মিস মিতা ? 


এবার কিন্তু সত্যিই হেসে ফেলে শুভমিতা। শুভময় এর দিকে তাকিয়ে বলে, সেই একই রকম অভিব্যক্তি প্রকাশ, আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত আজকে শুভময় দা আপনি নয় আর, তোমাকে কাছে পেয়ে । 


শুভময় বলল, অন্ধকার হয়ে গিয়েছে কিন্তু । এবার মোটর সাইকেলে উঠে পড় । তোমাকে পাটনাবাজারে তোমার বাড়িতে নামিয়ে তাড়াতাড়ি ফিরে আসতে হবে আমাকে ।


শুভমিতা অবাক হয়ে প্রশ্ন করল তুমি আমার বাড়ি জানলে কি করে ? আমি তো আমার বাড়ি কোথায় তোমাকে বলিনি ।


শুভময় বলল, তুমি বলার পর আমাকে সবটা জানতে হবে এইরকম কোন চুক্তি আমাদের মধ্যে সাক্ষর হয়ে ছিল কি ?


শুভমিতা বলল, বুঝতে পারলাম উওর টা আমাকে সরাসরি তুমি কিছুতেই দেবে না, তবে আমি উওরটা বারকরেই ছাড়ব ।


চলবে পরের সপ্তাহে 


স্বত্ব সংরক্ষিত


Post a Comment